জুড়ী বিএনপির আহ্বায়কের স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা
হারিস মোহাম্মদ : জুড়ীতে সময়ের স্বল্পতায় বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তি ও ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিলে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হবার পর তা বাতিল করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়কের একক স্বেচ্ছাচারিতা বলে মন্তব্য করেছেন।
জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপি জুড়ী উপজেলা শাখার অন্তর্গত ৬টি ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের তপশীল ঘোষণা করা হয়। তপশীল ঘোষণার পর গত শনিবার ২৬ এপ্রিল জুড়ী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেনি। পরবর্তীতে জেলা নেতৃবৃন্দের মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের জন্য রবিবার ২৭ এপ্রিল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক সভা দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জুড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মোস্তাকিম হোসেন বাবুল।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে, সময়ের স্বল্পতার কারণে যে সকল নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে পারেনি, তাদেরকে ইউনিয়ন কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে নিমিত্তে ২৮ এপ্রিল হতে ৩০ এপ্রিল দুপুর ২ ঘটিকা পর্যন্ত ইউনিয়ন কাউন্সিলের জন্য উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ওই দিন বিকাল ৪ টায় মনোনয়নপত্র বাছাইপূর্বক তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের মৌখিক নির্দেশের আলোকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পর, সেটা বাতিল করে ৬টি ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের বৈধ এবং বাতিলকৃত প্রার্থীগনের তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে বঞ্চিত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, জেলা নেতৃবৃন্দের মৌখিক নির্দেশ ও উপজেলা বিএনপির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের এমন ঔদ্ধতপূর্ণ আচরণ তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।
এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে আওয়ামীলীগ, জামায়াত ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেগুলো বাদ দিয়ে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি সভায় সিদ্ধান্ত হলেও সে ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মুস্তাকিম হোসেন বাবুল কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি। সবকিছু মিলিয়ে চরম হতাশায় বিএনপি’র নেতা কর্মীরা। তারা এ বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক ডা. মোস্তাকিম হোসেন বাবুলকে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব নজরুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি একটু ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে ফোন দিতে বলেন। পরে দুইবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি ।



মন্তব্য করুন