কমলগঞ্জে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের রমরমা ব্যবসা, সরকারের লক্ষ টাকা গচ্ছা
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে চলছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের রমরমা ব্যবসা। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তার টানার কারণে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষ অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের বদলে বকেয়া বিল আদায় ও বৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযানে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
কমলগঞ্জ-শমশেরনগর সড়কের পার্শ্বে আলীনগর চা বাগানের মহসিন আলী নিজের ঝুপড়ি ঘর থেকে বাঁশের খুঁটি ৬/৭ টি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ টেনে মুরগির ফার্ম চালাচ্ছেন। এভাবে অবৈধ সংযোগ শমশেরনগর, আলীনগর, মাধবপুর, ভানুগাছ ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকান ও কলোনিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব সংযোগে লাইট, ফ্যান, ফ্রিজ, মোটর এমনকি হোটেলও চলছে। ব্যবহারকারীরা মাস শেষে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও সরকার হারাচ্ছে লাক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব।
অন্যদিকে বৈধ সংযোগের জন্য আবেদনকারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পৌর এলাকার গ্রাহক ফয়সল আহমদ অভিযোগ করে বলেন, “টাকা জমা দেওয়ার পরও সংযোগ পাইনি। কর্মকর্তারা শুধু সময়ক্ষেপণ করছেন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, এসব অবৈধ সংযোগে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো: সাদেক মিয়া বলেন, “অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত এজিএম শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, “যারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চা বাগান এলাকায় মুরগির ফার্মে সংযোগের বিষয়টি, গুনেছি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য করুন