কমলগঞ্জে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা, নাগরিকদের চরম ভোগান্তি
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের মরাজানেরপাড় গ্রামের শমশেরনগর হাসপাতাল সংলগ্ন রঘুনাথপুর ভায়া হাজীনগর সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল অবস্থায় পড়েছে। রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানা-খন্দের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি রাস্তাঘেঁষে গাছ রোপণ ও কাঁচা সড়কে গরু-মহিষ চরানোর কারণে সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ১৯ অক্টোবর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইটসলিং ও কাঁচা এই সড়কটি অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে গ্রামবাসী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, প্রায় অর্ধ কিলোমিটার সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি জলাশয়ে পরিণত হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে যাতায়াত দুরূহ হয়ে যায়।
অন্য এক বাসিন্দা মইনুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে যায়। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই ভোগান্তিতে পড়েন। বহুবার সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সোহেল ও রাজু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাদামাটির মধ্যে দিয়ে চলাচল করছি। রাস্তার উপর গরু-মহিষ চরানো ও গাছ লাগিয়ে রাস্তাটি সংকীর্ণ করা হয়েছে। এতে দূর্ভোগ আরও বেড়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি গ্রামবাসীরা নিজেরা রাস্তায় আগাছা ও গাছপালা কেটে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলে স্থানীয় জমির মিয়া নামে একজন বাঁশঝাড় লাগিয়ে ও রাস্তায় মহিষ রেখে চলাচলে বাধা দেন এবং প্রতিবাদ করায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এলাকাবাসীরা রাস্তাটি সংস্কার ও দখলমুক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শমশেরনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, বর্ষায় রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি, আশা করছি শিগগিরই উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
এলজিইডি কমলগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী মো: আব্দুর রকিব বলেন, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের কাজ নিয়মিত চলছে। বরাদ্দ পেলেই এ রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, এলাকার জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা জানি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



মন্তব্য করুন