ওলিয়ে কামিল হযরত শাহ্ আজম (রহ.): সংক্ষিপ্ত জীবন
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : ১৮৯৬ সালে কমলগঞ্জ উপজেলার রামপাশা গ্রামে এক ধর্মপরায়ণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ওলিয়ে কামিল হযরত শাহ্ আজম (রহ.)। তাঁর পিতা শেখ মোহাম্মদ ধনাই মিয়া ও মাতা হালিমা বিবি। শৈশব থেকেই তিনি আল্লাহভীতি, ধর্মনিষ্ঠা ও মানবসেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
প্রথমে পারিবারিক মক্তবে মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা লাভের পর তিনি নিজ উদ্যোগে ইসলামী জ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। দুনিয়াবি চাকরি পেশায় আগ্রহী না হয়ে তিনি দ্বীনের খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করেন। মানুষের কল্যাণে তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, রাস্তা ও পুকুর নির্মাণসহ অসংখ্য সেবামূলক কাজ করেছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় ভানুবিল গ্রামের একটি রাস্তার নামকরণ করা হয় “হযরত শাহ্ আজম (রহ.) রোড”।
তিনি ভারতীয় কৈলাশহরের বিশিষ্ট পীরে কামেল আল্লামা শাহ্ ইয়াছিন (রহ.)-এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং তাঁর একমাত্র খলিফা ছিলেন। মৌলভীবাজার খালিশপুরে তিনি তরিকায়ে কাদেরিয়া খানকাহ ও গদ্দীবাড়ী প্রতিষ্ঠা করেন, যা এখনো জিকির-আজকার ও দ্বীনি কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে সক্রিয়।
আল্লাহভক্ত এই সাধক ছিলেন অতুলনীয় পরহেজগার ও তাকওয়াবান। তাঁর জীবনের লক্ষ্য ছিল আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর সন্তুষ্টি অর্জন। পঞ্চাশ বছর ধরে তিনি নিরন্তর দ্বীনের দাওয়াত ও সমাজসেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
১৩৮৬ বাংলা সনের ২৯ শ্রাবণ, পবিত্র রমজান মাসে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাঁর মাজার শরীফ অবস্থিত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা গ্রামে।
হযরত শাহ্ আজম (রহ.)-এর জীবনী আজও মানুষকে আল্লাহমুখী জীবনযাপনের প্রেরণা জোগায়। তাঁর কর্ম ও ত্যাগ মুসলিম সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসে স্থান দান করুন — আমিন।



মন্তব্য করুন