দেশ কি তবে অভিভাবকহীন? জননিরাপত্তা যখন অনিশ্চিত, রাষ্ট্র তখন কার হাতে?
মোস্তফা সালেহ লিটন : ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর এক বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে যে সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ কয়েক মাস পার না হতেই জনমনে প্রশ্ন জেগেছে এটি আসলে কিসের সরকার? দেশ পরিচালনায় এই সরকার কি আদৌ কোনো দক্ষতার পরিচয় দিতে পেরেছে? বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে অদক্ষ একদল সুযোগসন্ধানী ও অনভিজ্ঞ মানুষের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার পড়েছে। রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ন্যূনতম ক্ষমতা যেমন তাদের নেই, তেমনি নেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে কার্যকর করার অভিজ্ঞতা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে এমন কিছু ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে যারা কার্যত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের বদলে সেখানে কেবল ‘বদলি বাণিজ্য’ ও প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, রাজপথে চলছে বিশৃঙ্খলা আর উন্মাদনা। জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের কোনো সঠিক রোডম্যাপ বা কঠোর ব্যবস্থাপনা দৃশ্যমান নয়। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে অরাজকতা তৈরি হলো তা সামাল দিতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। পত্রিকা অফিস ও ছায়ানটে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং প্রথিতযশা সাংবাদিক জনাব নুরুল কবিরের মতো একজন ব্যক্তিত্বকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র আজ অভিভাবকহীন। রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালাও পোড়াও চললেও সরকার যেন নির্বিকার দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এসব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের মোকাবিলা করা কি সরকারের পক্ষে অসম্ভব ছিল? নাকি সরকার নিজেই এসবে পরোক্ষ মদদ দিচ্ছে?
সেনাবাহিনীকে অনেক আগেই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাঠপর্যায়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার পর ও কেন তারা সক্রিয় হচ্ছে না? ময়মনসিংহের ঘটনা, নুরুল কবিরের ওপর আক্রমণ, ডেইলি স্টারে আগুন কিংবা চট্টগ্রামে ডেপুটি রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা সবগুলো ঘটনা যদি এক সুতোয় গাঁথা হয়, তবে একে পরিকল্পিত ‘সাবোটাজ’ বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে না পারলে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কতটুকু? জনগণের মনে আজ গভীর সন্দেহ দানা বাঁধছে—দেশে কি আদৌ নির্বাচন হবে ? নাকি নির্বাচনের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশকে একটি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে ? ‘ডিপ স্টেট’ কি তবে বাংলাদেশকে আরেকটি সুদানের পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে? বর্তমান প্রেক্ষাপট যে ভয়াবহ কঠিন পরিস্থিতির দিকে মোড় নিচ্ছে, তা এখনই অনুধাবন করা জরুরি। দেশের গণতন্ত্র যদি বিনষ্ট হয় এবং অস্থিতিশীলতা যদি চরম রূপ নেয়, তবে এর পূর্ণ দায়ভার এই সরকারকেই বহন করতে হবে। এখনই সময় শক্ত হাতে হাল ধরার। অন্যথায়, এই রাষ্ট্র ও জাতিকে যে চড়া মূল্য দিতে হবে, তার খেসারত প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে বেড়াবে হবে।



মন্তব্য করুন