নিজেদের অর্থায়নেই সড়কে মাটির কাজ করলেন রাজনগরের মনতালা গ্রামের লোকজন

February 7, 2026,

শংকর দুলাল দেব : দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের লোকজন বর্ষায় নৌকা ও হেমন্তে পায়ে হেটেই চলাচল করেন। গ্রামের প্রায় দুই শতাধীক শিক্ষার্থীরা সীমাহীন কষ্টে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। সড়ক মেরামতের জন্য গ্রামের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও যখন নিজেদের সড়কটি কাজ করাতে পারছিলেন না তখন মনতলা গ্রামের লোকজন নিজেরাই উদ্যোগ নিলেন রাস্থাটি সংস্কার করার। যেই ভাবা সেই কাজ। ইতোমধ্যে গ্রামের লোকজন এলাকার জামে মসজিদ থেকে উত্তরভাগ ইউনিয়নের চাঁন্দভাগ পর্যন্ত মাটি কেটে রাস্থা সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগরের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ‘মনতালা’ গ্রাম। কাউয়াদীঘি হাওর পাড়ের এ গ্রামের উত্তর দিকের সড়কটি গেছে উত্তরভাগ ইউনিয়নের চাঁন্দভাগ গ্রামে, আর দক্ষিন দিকের রাস্তা গেছে মুন্সিবাজারের কাজিরহাট গ্রামের দিকে। বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামের লোকজন গ্রাম থেকে বের হতে হলে নৌকায় চড়তে হয়। আর শুকনো মৌসুমে পায়ে হেটেই চলাচল করেন। গ্রামে কোন প্রাইমারী বিদ্যালয় না থাকায় পার্শবর্তী উত্তরভাগ ইউনিয়নের চাঁন্দভাগ গ্রামের চাঁন্দভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসায় যেতে হলে গ্রামের দক্ষিণ দিকের কাজিরগ্রামের রাস্তাদিয়ে মুন্সিবাজার আসেন। ভোগান্তিতে পড়েন যখন কোন জরুরী রোগীকে নিয়ে কোন হাসপাতালে যাবার সময়। এভাবেই কাটছিল তাদের দিনাতিপাত। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দৌড়ে যখন কাজ হচ্ছিলনা তখন নিজেরাই উদ্যোগ নিলেন সড়ক মেরামতের। গ্রামের মছকির মিয়া, গফুর মিয়া সহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি উদ্যোগ নেন সড়কে মাটি ভরাটের। গ্রামের প্রবাস ফেরত মো. বরকত মিয়া, ইসমত মিয়া সহ বশে কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানাযায়, তারা গ্রামের লোকজনকে জড়ো করে সড়কে মাটি কাটার উদ্যোগ নিলে তৎক্ষনাৎ সকলেই এতে সাড়া দেন। যে যার সাধ্যমতো সহায়তা করেন। মছকির মিয়া বলেন, আমরা উদ্যোগ নিয়ে একটি এক্সাভেটর মেশিন নিয়ে আসি। লক্ষাধীক টাকার মাটি কেটে গ্রামের উত্তরদিকে উত্তরভাগের চান্দভাগ গ্রামের সড়ক পর্যন্ত মাটি কাটা হয়। উচু করায় বর্ষায় এটি হাওরের পানিতে তলিয়ে যাবেনা।

এদিকে গ্রামের দক্ষিন দিকের সড়কটিতেও মাটি কাটা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ওই গ্রামের লোকজন। কাটিরহাট গ্রাম পর্যন্ত সড়কে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালেক মিয়া কিছু মাটি কাটিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন ওই মাটি ড্রেসিং এর করার কাজ সম্পন্ন করেন। একটি কালভার্টও নির্মান করে দেন। কিন্তু এতে সস্যার সমাধান হচ্ছিল না। নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে মাটি কাটার কাজ করান।

এব্যাপারে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত রয়েছি। সুবিধাজনক সময়ে আমি সরেজমিনে গিয়ে সড়কটি দেখবো। সেখানে কী কী করা প্রয়োজন তা দেখে নির্বাচন পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com