ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে মৌলভীবাজারের রাবার ও চা শিল্প

November 20, 2013, এই সংবাদটি ৩৮৩ বার পঠিত

সক্রিয় চোর চক্রের কারণে চা ও রাবার শিল্প ধ্বংসের দোরগোড়ায়। দেশের রপ্তানি শিল্পে নতুন সম্ভাবনাময়ী শিল্প হিসেবে আলোচনায় আসা সাদা সোনা হিসেবে খ্যাত এ রাবার শিল্পের উপযোগী অঞ্চল হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বেছে নিয়েছেন সিলেট ও চট্টগ্রামকে। রাবার চাষের ব্যাপকতা বা চাষীদের আগ্রহের কারণে সিলেটের মধ্যে অন্যতম রাবার চাষের অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া। সাদা সোনা রাবারের রাজধানী হিসেবে খ্যাত এ অঞ্চলের বিকাশমান শিল্পটি শুধুমাত্র সিন্ডিকেট চোরচক্রের কারণে দিন দিন ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। রাজধানী হিসেবে খ্যাত এ অঞ্চলটি চোরচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ায় ঐতিহ্য হুমকিতে এ দুটি শিল্প। তাদের অব্যাহত ধ্বংসের কারণে শংঙ্কায় রয়েছেন এ দুই শিল্পের সাথে জড়িত এ অঞ্চলের মানুষ ও বাগান মালিকপক্ষ। অপরিকল্পিতভাবে এ শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহের কারণে অচিরেই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে এ দুটি শিল্প এমন অভিমত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের। চোরচক্র প্রতিরোধে কি ভূমিকা রাখছে প্রশাসন? এমন প্রশ্ন তুলেছেন এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্থরা। চোরচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়া কুলাউড়ার উপজেলার ভাটেরা সরকারী রাবার বাগানটি এখন ধ্বংসের দোরগোড়ায়। স্থানীয়দের অভিমত, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও নানা ভাবে চোরচক্রের সাথে তাদের যোগসাজশে দিন দিন বাগানটির অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে এখন মৃত্যু পথযাত্রী। এ বাগান ছাড়াও পুরো কুলাউড়া উপজেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রায় ৩০টি রাবার বাগানেও জানান দিচ্ছে ধ্বংসের হাতছানি। ক্ষতিগ্রস্থ বাগান মালিকরা এখন এ শিল্পের ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কিত। রাবার শিল্পের মত নতুন করে মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে চা-পাতা চোর সিন্ডিকেট। খোদ বাগান ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টরা এ কাজে জড়িয়ে পড়ায় চা ও রাবার শিল্পের এ অঞ্চলটি তার অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘ দিন থেকে চা পাতা চুরি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা যেন বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। বাগান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বড়কর্তাসহ সংশ্লিষ্টরাও এ কাজে জড়িয়ে পড়ায় এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিক পক্ষ। সম্প্রতি লুয়াইউনি-হলিছড়া চা বাগানের ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টদের ৫৩ লক্ষ টাকার চা পাতা আত্মসাতের ঘটনায় জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এছাড়া কুলাউড়ার উপজেলার মিশন চৌমুহনী এলাকায় চুরি হওয়া চা পাতা বোঝাই ট্রাক আটক করার পর থেকে সিন্ডিকেট চোরচক্রের গোমড় অনেকটা বেরিয়ে আসে। কুলাউড়া উপজেলার ১৮টি চা বাগানের ৩/৪টি বাগান ছাড়া প্রতিটি বাগানেই গড়ে ওঠেছে সিন্ডিকেট। নানা কায়দায় কৌশলে সংশ্লিষ্টদেরকে ম্যানেজ করে এরা দিনের পর দিন চুরির মাধ্যমেই হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ কোটি টাকা। চোর চক্রের বেপরোয়াতার কারণে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হচ্ছেন মালিকপক্ষ। অনুসন্ধানে জানা যায়, চা পাতা ও রাবার এ দুটি চুরির সাথে একই চক্র জড়িত। স্থানীয় বাগান কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বাগান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা প্রলোভনে ফেলে তাদেরকে এ কাজে জড়ায়। ২-৩ বার হাত-বদলের মাধ্যমে চুরিকৃত চা পাতা ও রাবারের নানা মূল্যবান কাঁচামাল সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলে যায়। মূলত প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গভীর রাতেই অনেকটা নির্বিঘেœ চলে এ কাজ। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ভাটেরা, বরমচাল, ব্রাহ্মণবাজার, হিঙ্গাজিয়া বাজার, টিলাগাঁও, রবিরবাজার ও কুলাউড়াসহ বেশ কয়টি স্পট দিয়ে কাঁচা ও খাবারের উপযোগী চা পাতা ও রাবার হাতবদল হয়। স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে প্রতিদিন এরা তা সংগ্রহ করে এক স্থানে জমা করে রাখে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ হলে তা ঢাকায় প্রেরণ করে। মৌলভীবাজার জেলা রাবার বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কুলাউড়া ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম শাহজালাল জানান, প্রতিনিয়ত চুরির কারণে মালিকপক্ষ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। চোরচক্রের কারণেই হুমকির মুখে পড়েছে এতদঞ্চলের চা ও রাবার শিল্প। রাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি চোর চক্র মরিয়া হয়ে ওঠেছে। ওদের অপরিকল্পিতভাবে রাবারের কষ সংগ্রহ করার কারণে গাছগুলো মরে যাচ্ছে এবং বাগানগুলো পৌছেছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন পিপিএম জানান, সম্প্রতি লুয়াউনি হলিছড়া চা বাগানের ৫৩ লক্ষ টাকার চা পাতা আত্মসাতের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া মিশন চৌমুহনী থেকে চুরিকৃত ট্রাক বোঝাই চা পাতা আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরচক্রের সাথে জড়িত অন্যদেরকেও চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। চোরচক্রের হাত থেকে এই শিল্পকে রক্ষার স্বার্থে আমাদের এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
সক্রিয় চোর চক্রের কারণে চা ও রাবার শিল্প ধ্বংসের দোরগোড়ায়। দেশের রপ্তানি শিল্পে নতুন সম্ভাবনাময়ী শিল্প হিসেবে আলোচনায় আসা সাদা সোনা হিসেবে খ্যাত এ রাবার শিল্পের উপযোগী অঞ্চল হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বেছে নিয়েছেন সিলেট ও চট্টগ্রামকে। রাবার চাষের ব্যাপকতা বা চাষীদের আগ্রহের কারণে সিলেটের মধ্যে অন্যতম রাবার চাষের অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া। সাদা সোনা রাবারের রাজধানী হিসেবে খ্যাত এ অঞ্চলের বিকাশমান শিল্পটি শুধুমাত্র সিন্ডিকেট চোরচক্রের কারণে দিন দিন ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। রাজধানী হিসেবে খ্যাত এ অঞ্চলটি চোরচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ায় ঐতিহ্য হুমকিতে এ দুটি শিল্প। তাদের অব্যাহত ধ্বংসের কারণে শংঙ্কায় রয়েছেন এ দুই শিল্পের সাথে জড়িত এ অঞ্চলের মানুষ ও বাগান মালিকপক্ষ। অপরিকল্পিতভাবে এ শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহের কারণে অচিরেই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে এ দুটি শিল্প এমন অভিমত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের। চোরচক্র প্রতিরোধে কি ভূমিকা রাখছে প্রশাসন? এমন প্রশ্ন তুলেছেন এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্থরা। চোরচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়া কুলাউড়ার উপজেলার ভাটেরা সরকারী রাবার বাগানটি এখন ধ্বংসের দোরগোড়ায়। স্থানীয়দের অভিমত, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও নানা ভাবে চোরচক্রের সাথে তাদের যোগসাজশে দিন দিন বাগানটির অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে এখন মৃত্যু পথযাত্রী। এ বাগান ছাড়াও পুরো কুলাউড়া উপজেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রায় ৩০টি রাবার বাগানেও জানান দিচ্ছে ধ্বংসের হাতছানি। ক্ষতিগ্রস্থ বাগান মালিকরা এখন এ শিল্পের ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কিত। রাবার শিল্পের মত নতুন করে মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে চা-পাতা চোর সিন্ডিকেট। খোদ বাগান ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টরা এ কাজে জড়িয়ে পড়ায় চা ও রাবার শিল্পের এ অঞ্চলটি তার অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘ দিন থেকে চা পাতা চুরি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা যেন বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। বাগান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বড়কর্তাসহ সংশ্লিষ্টরাও এ কাজে জড়িয়ে পড়ায় এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিক পক্ষ। সম্প্রতি লুয়াইউনি-হলিছড়া চা বাগানের ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টদের ৫৩ লক্ষ টাকার চা পাতা আত্মসাতের ঘটনায় জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এছাড়া কুলাউড়ার উপজেলার মিশন চৌমুহনী এলাকায় চুরি হওয়া চা পাতা বোঝাই ট্রাক আটক করার পর থেকে সিন্ডিকেট চোরচক্রের গোমড় অনেকটা বেরিয়ে আসে। কুলাউড়া উপজেলার ১৮টি চা বাগানের ৩/৪টি বাগান ছাড়া প্রতিটি বাগানেই গড়ে ওঠেছে সিন্ডিকেট। নানা কায়দায় কৌশলে সংশ্লিষ্টদেরকে ম্যানেজ করে এরা দিনের পর দিন চুরির মাধ্যমেই হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ কোটি টাকা। চোর চক্রের বেপরোয়াতার কারণে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হচ্ছেন মালিকপক্ষ। অনুসন্ধানে জানা যায়, চা পাতা ও রাবার এ দুটি চুরির সাথে একই চক্র জড়িত। স্থানীয় বাগান কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বাগান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা প্রলোভনে ফেলে তাদেরকে এ কাজে জড়ায়। ২-৩ বার হাত-বদলের মাধ্যমে চুরিকৃত চা পাতা ও রাবারের নানা মূল্যবান কাঁচামাল সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলে যায়। মূলত প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গভীর রাতেই অনেকটা নির্বিঘেœ চলে এ কাজ। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ভাটেরা, বরমচাল, ব্রাহ্মণবাজার, হিঙ্গাজিয়া বাজার, টিলাগাঁও, রবিরবাজার ও কুলাউড়াসহ বেশ কয়টি স্পট দিয়ে কাঁচা ও খাবারের উপযোগী চা পাতা ও রাবার হাতবদল হয়। স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে প্রতিদিন এরা তা সংগ্রহ করে এক স্থানে জমা করে রাখে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ হলে তা ঢাকায় প্রেরণ করে। মৌলভীবাজার জেলা রাবার বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কুলাউড়া ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম শাহজালাল জানান, প্রতিনিয়ত চুরির কারণে মালিকপক্ষ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। চোরচক্রের কারণেই হুমকির মুখে পড়েছে এতদঞ্চলের চা ও রাবার শিল্প। রাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি চোর চক্র মরিয়া হয়ে ওঠেছে। ওদের অপরিকল্পিতভাবে রাবারের কষ সংগ্রহ করার কারণে গাছগুলো মরে যাচ্ছে এবং বাগানগুলো পৌছেছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন পিপিএম জানান, সম্প্রতি লুয়াউনি হলিছড়া চা বাগানের ৫৩ লক্ষ টাকার চা পাতা আত্মসাতের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া মিশন চৌমুহনী থেকে চুরিকৃত ট্রাক বোঝাই চা পাতা আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরচক্রের সাথে জড়িত অন্যদেরকেও চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। চোরচক্রের হাত থেকে এই শিল্পকে রক্ষার স্বার্থে আমাদের এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এম. মছব্বির আলী/এইচ ডি রুবেল :

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •