অদৃশ্য কালোহাতের ইশারায় নির্বাচন স্থগিতের অভিযোগ জুড়ীর মাদ্রাসায় দু’বার তফশীল ঘোষণার পর ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা
আব্দুর রব॥ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার নয়াগ্রাম শিমুলতলা দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে চলছে টালবাহানা। দু’বার নির্বাচনী তফশীল ঘোষণার পরও এক অদৃশ্য কালো হাতের ইশারায় নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। এনিয়ে অভিভাবকমহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্দ অভিভাবকরা বলছেন মাদরাসাকে ধ্বংস করার এটি একটি ষড়যন্ত্র।
সরেজমিন জুড়ী উপজেলার নয়াগ্রাম শিমুলতলা দাখিল মাদরাসায় গেলে অভিভাবকরা জানান, মাদরাসাটি জুড়ী উপজেলার অন্যতম ও আধুনিক বিদ্যাপিট। উপজেলার মধ্যে একমাত্র মাদরাসা যেখানে বিজ্ঞান বিভাগ চালু আছে। মাদরাসার সর্বশেষ ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের ৩০ জুন। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পুনরায় নির্বাচনের জন্য সকল প্রক্রিয়া শেষ করে জুড়ীর ইউএনও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রহমানকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি ৩০ মে নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফশীল অনুসারে ১৫ জুন নির্বাচনের তারিখ চুড়ান্ত করা হয়। কিন্তু একটি অদৃশ্য কালো হাতের ইশারায় ২০ জুন প্রিসাইডিং অফিসার অব্যাহতি নেন।
এরপর ০৫ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে সভাপতি করে ৪ সদস্যের এডহক কমিটি অনুমোদন করে। শিক্ষাবোর্ড সেই এডহক কমিটিকে ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা কৃষি অফিসার দেবল সরকারকে প্রিসাইডিং অফিসার নিযুক্ত করে গত ১০ জানুয়ারি পুনরায় নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফশীল অনুসারে ২০ জানুয়ারি শনিবার ছিলো মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। প্রিসাইডিং অফিসার ওইদিন ৫জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে তালিকা প্রকাশ করেন।
এব্যাপারে প্রিসাইডিং অফিসার ও উপজেরা কৃষি অফিসার দেবল সরকার জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হয়েছে। একজন প্রার্থী ১৯ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখে ২০ জানুয়ারি ৫জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা ছিলো। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানিয়েছেন ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। পুর্নাঙ্গ ভোটার তালিকা না পাওয়া পর্যন্ত একটি চিঠি দিয়ে নির্বাচন সাময়িক স্থগিত রাখার জন্য বলেছেন। ২২ জানুয়ারি নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ টানানো হবে।
এব্যাপারে জুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম মামুনুর রশীদ জানান, সুপার সাহেব ঠিকমতো ভোটার তালিকা করেননি। ভোটার তালিকায় উল্টাপাল্টা করছেন।
নির্বাচনী তফশীল ঘোষণার আগে ভোটার তালিকা সম্পন্ন হওয়ার কথা, কিন্তু গত ৬ মাস থেকে আপনি সভাপতি এব্যাপারে কি বলবেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- সুপার আমাকে জানায়নি। তাই নির্বাচন স্থগিত।



মন্তব্য করুন