মৌলভীবাজার স্থানীয় শহীদ দিবস পালিত

December 22, 2013, এই সংবাদটি ২৭৩ বার পঠিত

১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া মাইন বিস্ফোরনে মৌলভীবাজারে ২৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন। এরপর থেকে এই দিনটিকে স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে জেলাবাসী। সদ্য যুদ্ধবিজয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে। এ ঘটনায় সেদিন মুহুর্তেই বিজয় উৎসবের সব আয়োজন পন্ড হয়ে যায়। পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করার উদ্দেশ্যেই কি এই মাইন বিস্ফোরন ঐসময় ঘটানো হয়েছিলো তা নিয়ে স্বাধীনতার ৪২ বছর পর জনমনে এখনও অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পাকহানাদার মুক্ত হয়। ঘরছাড়া দীর্ঘ ৯ মাস পর মৌলভীবাজার জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দল একে একে ফিরে আসতে থাকেন সেদিন। জেলা শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব প্রান্তে স্থাপন করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যা¤প। এখানে সমবেত হন বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধারা। যুদ্ধের সময় বিভিন্নস্থানে পুঁতে রাখা স্থল মাইন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এনে জড়ো করা হয়। ২০ ডিসেম্বর সেখানে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ ছিলো রান্নাবান্নাসহ নানান উৎসবে ব্যস্ত কেউ কেউ বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, যুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আবার কেউ কেউ আত্বীয়-স্বজন, পরিবার পরিজনের খোঁজ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মূর্হর্তে হঠাৎ আকস্মিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যা¤প এলাকা। সাথে সাথে চোখের নিমেষেই বিদ্যালয়ের চালের টিন উড়ে যায়, উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিজয়ের মাসে ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা মুক্ত হলেও কেহ ভাবেনি এভাবে শহর এলাকায় যুদ্ধকালীন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে । মুক্ত দেশে নিশ্চিত ঘরে ফেরার পর মুহূর্তের তারা হয়ে গেলেন ইতিহাসের স্মৃতি। এলাকাবাসী ছিন্নভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ একত্রিত করে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থ করেন নিহত শহীদের। জানা গেছে, এই ক্যা¤েপর অধিকাংশই ছিলেন আওয়ামীলীগ, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর সদস্য। তবে কি কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছিল এবং কতজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন তা এখনও অজানাই রয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাউন্সিল ক্যা¤েপ অবস্থানরতদের মধ্যে প্রায় ২৪ জনের নাম উদ্ধার করে একটি স্মারকস্তম্ভ নির্মান করা হয়েছে। যাদের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন- শহীদ সুলেমান মিয়া, শহীদ রহিম বকস খোকা, শহীদ ইয়ানুর আলী, শহীদ আছকর আলী, শহীদ জহির মিয়া, শহীদ ইব্রাহিম আলী, শহীদ আব্দুল আজিজ, শহীদ প্রদীপ চন্দ্র দাস, শহীদ শিশির রঞ্জন দেব, শহীদ সত্যেন্দ্র দাস, শহীদ অরু দত্ত, শহীদ দিলীপ দেব, শহীদ সনাতন সিংহ, শহীদ নন্দলাল বাউরী, শহীদ সমীর চন্দ্র সোম, শহীদ কাজল পাল, শহীদ হিমাংশু কর, শহীদ জিতেন্দ্র চন্দ্র দেব, শহীদ আব্দুল আলী, শহীদ নুরুল ইসলাম, শহীদ মোস্তফা কামাল, শহীদ আশুতোষ দেব, শহীদ তরণী দেব, শহীদ নরেশ চন্দ্র ধর। ২০ ডিসেম্বরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মৌলভীবাজার-রাজনগর-৩ আসনের এমপি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলী জানান, দেশ স্বাধীন তথা মৌলভীবাজার ৮ ডিসেম্বর মুক্ত হবার পর পাক হানাধার বাহিনীর দোসরদের পরিকল্পিত ঘটনায় ২০ ডিসেম্বর উৎসব অনুষ্টানে আমাদের অনেক সহকর্মী মুক্তিযোদ্ধাদেরকে হারিয়েছি, যাহা ভাষায় বলা সম্ভব নয়, সতিই এটা দু:খজনক। তিনি আরো বলেন স্বাধীনতার ৪২ বছর পর আবার স্বাধীনতা বিরোধী চক্র দেশে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নিহত শহীদদের স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। দিবসটি উপলক্ষে ২০ ডিসেম্বর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নিহত শহীদদের স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া মাইন বিস্ফোরনে মৌলভীবাজারে ২৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন। এরপর থেকে এই দিনটিকে স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে জেলাবাসী। সদ্য যুদ্ধবিজয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে। এ ঘটনায় সেদিন মুহুর্তেই বিজয় উৎসবের সব আয়োজন পন্ড হয়ে যায়। পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করার উদ্দেশ্যেই কি এই মাইন বিস্ফোরন ঐসময় ঘটানো হয়েছিলো তা নিয়ে স্বাধীনতার ৪২ বছর পর জনমনে এখনও অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পাকহানাদার মুক্ত হয়। ঘরছাড়া দীর্ঘ ৯ মাস পর মৌলভীবাজার জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দল একে একে ফিরে আসতে থাকেন সেদিন। জেলা শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব প্রান্তে স্থাপন করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যা¤প। এখানে সমবেত হন বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধারা। যুদ্ধের সময় বিভিন্নস্থানে পুঁতে রাখা স্থল মাইন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এনে জড়ো করা হয়। ২০ ডিসেম্বর সেখানে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ ছিলো রান্নাবান্নাসহ নানান উৎসবে ব্যস্ত কেউ কেউ বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, যুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আবার কেউ কেউ আত্বীয়-স্বজন, পরিবার পরিজনের খোঁজ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মূর্হর্তে হঠাৎ আকস্মিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যা¤প এলাকা। সাথে সাথে চোখের নিমেষেই বিদ্যালয়ের চালের টিন উড়ে যায়, উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিজয়ের মাসে ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা মুক্ত হলেও কেহ ভাবেনি এভাবে শহর এলাকায় যুদ্ধকালীন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে । মুক্ত দেশে নিশ্চিত ঘরে ফেরার পর মুহূর্তের তারা হয়ে গেলেন ইতিহাসের স্মৃতি। এলাকাবাসী ছিন্নভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ একত্রিত করে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থ করেন নিহত শহীদের। জানা গেছে, এই ক্যা¤েপর অধিকাংশই ছিলেন আওয়ামীলীগ, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর সদস্য। তবে কি কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছিল এবং কতজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন তা এখনও অজানাই রয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাউন্সিল ক্যা¤েপ অবস্থানরতদের মধ্যে প্রায় ২৪ জনের নাম উদ্ধার করে একটি স্মারকস্তম্ভ নির্মান করা হয়েছে। যাদের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন- শহীদ সুলেমান মিয়া, শহীদ রহিম বকস খোকা, শহীদ ইয়ানুর আলী, শহীদ আছকর আলী, শহীদ জহির মিয়া, শহীদ ইব্রাহিম আলী, শহীদ আব্দুল আজিজ, শহীদ প্রদীপ চন্দ্র দাস, শহীদ শিশির রঞ্জন দেব, শহীদ সত্যেন্দ্র দাস, শহীদ অরু দত্ত, শহীদ দিলীপ দেব, শহীদ সনাতন সিংহ, শহীদ নন্দলাল বাউরী, শহীদ সমীর চন্দ্র সোম, শহীদ কাজল পাল, শহীদ হিমাংশু কর, শহীদ জিতেন্দ্র চন্দ্র দেব, শহীদ আব্দুল আলী, শহীদ নুরুল ইসলাম, শহীদ মোস্তফা কামাল, শহীদ আশুতোষ দেব, শহীদ তরণী দেব, শহীদ নরেশ চন্দ্র ধর। ২০ ডিসেম্বরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মৌলভীবাজার-রাজনগর-৩ আসনের এমপি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলী জানান, দেশ স্বাধীন তথা মৌলভীবাজার ৮ ডিসেম্বর মুক্ত হবার পর পাক হানাধার বাহিনীর দোসরদের পরিকল্পিত ঘটনায় ২০ ডিসেম্বর উৎসব অনুষ্টানে আমাদের অনেক সহকর্মী মুক্তিযোদ্ধাদেরকে হারিয়েছি, যাহা ভাষায় বলা সম্ভব নয়, সতিই এটা দু:খজনক। তিনি আরো বলেন স্বাধীনতার ৪২ বছর পর আবার স্বাধীনতা বিরোধী চক্র দেশে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নিহত শহীদদের স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। দিবসটি উপলক্ষে ২০ ডিসেম্বর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নিহত শহীদদের স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। স্টাফ রিপোর্টার॥

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •