দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা, শ্রম আইনের বাস্তবায়ন ও ভূমির অধিকারের দাবি কমলগঞ্জে চা-শ্রমিক সংঘের সভা

May 29, 2017,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভা থেকে দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা, চা-শিল্পে শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ও ভুমির অধিকারের দাবি জানানো হয়েছে।
২৮ মে রোববার বিকেলে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে চা-শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা শাখার কর্মীসভা থেকে এই দাবি জানানো হয়।
রাজদেও কৈরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক ডা. অবনী শর্ম্মা, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা। সভায় চা-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা বিপ্লব মাদ্রাজী পাশী, নারী শ্রমিক নেত্রী লছমী রাজভর, শ্যামল অলমিক, শংকর বৈদ্য, স্যামুয়েল বেগম্যান, সুনীল শব্দকর, হরিকিষন হাজরা ও স’মিল শ্রমিক সংঘের নেতা ফরিদ মিয়া প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে একজন চা-শ্রমিক দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্র ৮৫ টাকা মজুরিতে অনাহার অর্ধাহারে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। মোটা চালের কেজি যেখানে ৫০ টাকা হয়েছে সেখানে একজন চা-শ্রমিক পরিবার-পরিজন নিয়ে কি করে এই মজুরিতে চলবে? বর্তমান এই মজুরির মেয়াদ বছর শেষ হওয়ার পর ৫ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও মজুরি বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। অথচ বছর চা-শ্রমিকদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমে সর্বোচ্চ চা-উৎপাদন হয়, স্বাভাবিক কারণে কোম্পানীর মূনাফাও হয় সর্বোচ্চ। তারপরও চা-শ্রমিকদের মজুরি একটি টাকাও বৃদ্ধি করা হয়নি। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চা-বাগানের কর্তৃপক্ষ দেশের প্রচলিত আইনের কোন তোয়াক্কা করেন না। শমসেনগর চা-বাগানের লছমী রাজভরের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স ৫১ বছর এবং আলীনগর চা-বাগানের শংকর বৈদ্যের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স ৫৬ বছর হলেও কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ষাটর্দ্ধো বানিয়ে জোরপূর্বক অবসর দিয়ে দেন। এব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও তারা প্রতিকার পাচ্ছেন না।
বক্তারা বলেন, শ্রম-আইনে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও কোন চা-শ্রমিককে পরিচয়পত্র ও সার্ভিসবুক প্রদান করা হয় না। ২০১০ সালের ৩০ মার্চ ‘টি গার্ডেন’ শিল্প সেক্টরে সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরির ঘোষিত গেজেটে নি¤œতম মজুরি ছাড়াও শ্রমিকদের ইনসেন্টিভ (উৎসাহ) বোনাসসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বা ভাতা প্রদান করার কথা বলা হয়েছ্।ে  চা-বাগানের কর্তপক্ষ তার কোন কিছুই বাস্তবায়ন করেন না। সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও এসব বাস্তবায়নে রহস্যজনক নিরবতা পালন করছেন। সভা থেকে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা, শ্রমিকদের ভোগদখলকৃত জমির অধিকার, সুচিকিৎসা, পানীয় জল ও বাসস্থানের ব্যবস্থা, বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, সমকাজে সমমজুরি, পূর্ণাঙ্গ রেশনিং চালু, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, গ্রাচুয়েটি, কোম্পানীর লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ কল্যাণ তহবিল ও অংশগ্রহণ তহবিলে প্রদানসহ শ্রম আইনের অধিকারসমূহ চা-শিল্পে কার্যকর, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন চালু এবং শ্রীমঙ্গলে স্থায়ী শ্রম আদালত স্থাপন করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com