জুড়ীতে কাবিটা প্রকল্প-আ’লীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

May 31, 2017,

বিশেষ প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই নেতা কাবিটা প্রকল্পের অধীনে রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া প্রায় দেড় লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযোগ, এলাকাবাসী ও উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা-বিশেষ) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ভূঁয়াই এলাকার তবারক আলীর বাড়ির সামনে থেকে হাকালুকি আশ্রয়কেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার নতুন কাঁচা রাস্তা এবং নিশ্চিন্তপুর হাবিব আলীর বাড়ি থেকে নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয় (প্রতিটি রাস্তায় ২ লাখ টাকা করে)।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হলেন স্থানীয় জায়ফরনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্মল চন্দ্র দাস ও সম্পাদক একই দলের একই ওয়ার্ড কমিটির সহসভাপতি তবারক আলী।
হাকালুকি আশ্রয়কেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিবারণ চন্দ্র নাথের ১৩ এপ্রিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, হাওরপারের নবপ্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের হুইপ ও মৌলভীবাজার-১ আসনের সাংসদ মোঃ শাহাব উদ্দিন তবারক আলীর বাড়ির সামনে থেকে হাকালুকি আশ্রয়কেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার নতুন কাঁচা রাস্তা প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেন। এপ্রিল মাসের শুরুতে বিদ্যালয়ের রাস্তায় মাত্র ৬০ হাজার টাকার মাটি ফেলা হয়। এরপর আর কাজ হয়নি। পরে পিআইওর কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দের পুরো টাকা প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক তুলে নিয়ে গেছেন। এ অভিযোগের অনুলিপি জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পিআইওকেও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে ইউএনও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, ২৬ মে তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পান। এ ব্যাপারে দুই-এক দিনের মধ্যেই তিনি ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
তবে প্রকল্প কমিটির সভাপতি নির্মল চন্দ্র দাস টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে এলাকার নিচু স্থান তলিয়ে যায়। ফলে মাটির সংকট দেখা দেয়। তাই কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পানি নেমে গেলে বাকি কাজ করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার তবারক আলীর মুঠোফোনে ফোন দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
কাজ শেষ হওয়ার আগেই টাকা ছাড় দেওয়ার বিষয়ে জুড়ীতে পিআইওর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বড়লেখার পিআইও মোঃ আজাদ রহমান বলেন, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে বরাদ্দের প্রথম কিস্তির টাকা ছাড় দেওয়া হয়। কাজ শেষ করার পর বাকি টাকা দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, ইউএনওর বদলির কারণে তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের কাগজপত্রে সই নিতে হয়। পরে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার শর্তে বরাদ্দের পুরো টাকা প্রকল্প কমিটির লোকজনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরেজমিনে তিনি রাস্তাটি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বাকি কাজ দ্রুত করতে প্রকল্প কমিটির লোকজনকে বলা হয়েছে। অন্যথায় টাকা ফেরত আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ইউএনও মিন্টু চৌধুরী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com