জুড়ীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ-এলাকাবাসীর মানববন্ধন
বিশেষ প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (৪০) তাঁর প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রীকে (১৪) যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে ২৪ মে বুধবার সন্ধ্যায় জুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রীর বাড়ি উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী একটি চা-বাগানে। তার মা-বাবা নেই। মামারা তার দেখভাল করেন। সে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ২১ মে দুপুরে টিফিনের বিরতির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ছাত্রীদের কমনরুমে যান। এ সময় তিনি (শিক্ষক) তাকে ডেকে বিরতির পর শ্রেণিকক্ষে না গিয়ে একা থাকতে বলেন। কিন্তু ছাত্রী তা না শুনে শ্রেণিকক্ষে চলে যায়। পরে শিক্ষক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে দিয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে তাকে ডেকে তাঁর কক্ষে নিয়ে ‘কথা না শোনায়’ প্রথমে শাসান। সেখানে ওই শিক্ষক একা বসা ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি চেয়ার থেকে উঠে এসে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন। এ সময় এলাকার দুই কলেজ ছাত্রকে বিদ্যালয়ে আসতে দেখে শিক্ষক দ্রুত ছাত্রীকে ছেড়ে দেন এবং শ্রেণিকক্ষে চলে যেতে বলেন। বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফিরে ছাত্রী কেঁদে কেঁদে ঘটনাটি স্বজনদের বলে দেয়। স্বজনেরা ওই দিন রাতেই বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে জানান। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ছাত্রী অভিযোগ দেয়।
নিপীড়নের শিকার ওই ছাত্রী অভিযোগ করে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ও প্রধান শিক্ষক তাকে ডেকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন সে তাঁকে ‘বাবার মতো’ দেখার কথা বললে তিনি আর কিছু বলেননি।
জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন, সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করতে তিনিসহ পুলিশের আরও দুজন কর্মকর্তা ২৫মে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন না। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ওসি বলেন, ছাত্রীর অভিযোগটি সংশোধন করে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ছাত্রী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মামা (৪৫) মামলার বাদী হয়েছেন।
ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুধীর বাগচী বলেন, ছাত্রীর কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নেন। তাতে বিষয়টির সত্যতা মেলে।
তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, পার্শ্ববর্তী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। নিপীড়নের অভিযোগটি ‘সাজানো’ বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে ঔ ছাত্রীকে (১৪) যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার ও তাঁর শাস্তির দাবিতে ২৮ মে রোববার মানববন্ধন হয়েছে। এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজকি চা-বাগানের পূজাম-পের সামনে মানববন্ধন শুরু হয়। এতে রাজকিসহ পার্শ্ববর্তী এলবিনটিলা ফাঁড়ি চা-বাগানের শ্রমিকেরা অংশ নেন। এ সময় বক্তব্য দেন স্থানীয় ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়াজ আলী, ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুধীর বাগতি, রাজকি বাগান শ্যমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুমন্ত কৈরি, রাজকি বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সম্পাদক গৌতম বুনারজি প্রমুখ। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে।
বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক। বাড়িতে অভিযান চালিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে।



মন্তব্য করুন