ঘূণিঝড় মোরার প্রভাবে ধমকা বাতাস ও বৃষ্টিতে কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ॥ ৫৮ হাজার গ্রাহেকর দুর্ভোগ

May 31, 2017,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ ঘূর্নিঝড় মোরার প্রভাবে মঙ্গলবার ৩০ মে ভোর রাত থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধমকা বাতাসের সাথে সারাদিন মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। ধমকা বাতাসে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে, খুটি ভেঙ্গে কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। টানা সাত ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহিন অবস্থায় মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনালের অধীন ৫৮ হাজার গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন।
বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে সোমবার দিবাগত মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে মৌলভীবাজার জেলার সাথে কমলগঞ্জ উপজেলায়ও বেশ জোড়ে ধমকা বাতাস ও মাঝারি বৃষ্টি পাত শুর” হয়। ধমকা বাতাসের কারণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকায় অনেক স্থানে গাছ ভেঙ্গে পড়ে বৈদ্যুতিক লাইনের উপর। তাছাড়া বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলেও গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়ে। এমনকি কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে একটি বৈদ্যুতিক খুটিও ভেঙ্গে পড়ে। ফলে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে কমলগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহা না থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনালের অধীন ৫৮ হাজার গ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিটি বাসা বাড়িতে দেখা দেয় পানি সংকট। উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্নœ অফিসেও স্বাভাবিকভাবে কাজ কর্ম করা যায়নি। রমজান মাস উপলক্ষে নামাজের সময় মসজিদে মুসল্লীদের উপস্থিতি বেড়ে গেলে পানি সংকটে সঠিকভাবে অজু করতে পারা যায়নি।
কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ জানান, সারা দিন টানা বিদ্যুৎ বিহিন থাকায় তাদের অফিসে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা যায়নি। শমশেরনগর ভিতর বাজার জামে মসজিদ ইমাম মাওলানা মতিউর রহমানও বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পানির ট্যাংকে পানি উঠানো যায়নি বলে, বাধ্য হয়ে এতসব মুসল্লী একটি নলকুপের উপর নির্ভর করতে হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে আইপিএস ব্যবহার করে অফিসের কাজকর্ম করা হয়। তবে মঙ্গলবার টানা বিদ্যুৎ বিহিন থাকায় এক সময় আইপিএসেরও চার্জ চলে যায়। তিনি আরও বলেন, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হয়েছে। তা সবাইকে মেনে নিতে হবে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনালের ডিজিএম মোবারক হোসেন গাছ পড়ে তার ছিড়ে ও খুঁটি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় হয় শ্রীমঙ্গল গ্রীড লাইন ও কুলাউড়া গ্রীড লাইন থেকে। শ্রীমঙ্গল গ্রীড লাইন থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করে ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুৎ লাইন চলে এসেছে। ধমকা বাতাস ও ঝড় বৃষ্টি হলে স্বাভাবিকভাগে গাছ গাছালি ভেঙ্গে পড়ে সঞ্চালিত বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়। আবার কুলাউড়া থেকে কমলগঞ্জ পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন অনেক পুরাতন ও বেশ দুর্বল বলে ধমকা বাতাস, ঝড় ও ভারি বৃষ্টিপাত হলে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়।
মঙ্গলবারের ধমকা বাতাস ও বৃষ্টির সময় লাউয়াছড়া পাহাড়ি এলাকায় ও কুলাউড়া থেকে কমলগঞ্জ পর্যন্ত চলমান বিদ্যুৎ লাইনে বেশ ত্র”টি ছিল বলে মঙ্গলবার কমলগঞ্জে টানা কয়েক ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তিনি আরও বলেন ৩৩ হাজার কেভি প্রধান লাইনে বিকাল তিনটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকলেও কমলগঞ্জের আভ্যন্তরিন লাইনে ত্র”টি ও বৃষ্টির কারণে সংস্কার কাজে সমস্যা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার করে ইফতারের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। এর পর কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা যাওয় করেছে। তাও আবার যান্ত্রীক ত্র”টির কারণে বলে পবিস কমলগঞ্জ জোনাল ডিজিএম জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com