১৮ দলের অবরোধ : সিলেট বিভাগের ১৩৩টি চা বাগানে ২৪০ কোটি টাকা মূল্যের ১০ মিলিয়ন কেজি চাপাতা অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে

December 24, 2013, এই সংবাদটি ৪৯৯ বার পঠিত

বাংলাদেশ অন্যতম অর্থকরী ফসল চা। একে এগ্রো-বেইসজড ই-াষ্ট্রি বলা হয়। পূর্বে বাংলাদেশে উৎপাদিত সিংহভাগ চা বিদেশে রপ্তানী হতো। তাই পাটের পরে চা-ই ছিল দেশের দ্বিতীয় রফতানী পন্য। যার ফলে চায়ের মাধ্যমে দেশে আসতো প্রচুর বিদেশী মুদ্রা। কিন্তু বর্তমান কালে দেশের আভ্যন্তরে বাজারে চায়ের ভোক্তা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে বিপুল পরিমাণ চা বিদেশে রফতানী করা সম্ভব হচ্ছে না। চা অভিজ্ঞমহল জানান বর্তমানে চায়ের আভ্যন্তরীন বাজারে চাহিদা হলো ৫৫ মিলিয়ন কেজি। কিন্ত আমাদের দেশে চা উৎপাদন হচ্ছে ৬০ মিলিয়ন কেজি। অভিজ্ঞ মহলের মতে এবারকার অনুকুল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বৃষ্টিপাতের কারণে চায়ের উৎপাদন ৬৩ মিলিয়ন কেজি পেরিয়ে যেতে পারে। আভ্যন্তরীন বাজারে বাংলাদেশে বিদেশ হতে চা আমদানী একেবারে বন্ধ ছিল। কিন্ত গত বৎসর বাজেটের পরদিন বাজেট বর্হিভূতভাবে চা আমদানীতে ৮০% ট্যাক্স এর স্থলে ২০% রেহাত দিলে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ৯.৬৩ মিলিয়ন কেজি চাপাতা আমদানী হয়েছে বলে একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। এই পাতাগুলো খুবই নিম্নমানের এবং প্রতি কেজি চায়ের মূল্য ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বাংলাদেশের চা ব্লেন্ডাররা এই নিম্নমানের চাপাতা আমাদের দেশের ভাল চাপাতার সাথে মিশ্রন করে বাংলাদেশের একমাত্র ‘বেভারেজ’ চা এর আস্বাদন বাংলাদেশের মানুষকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবং ১৮ দলের হরতাল ও অবরোধ এর ফলে দেশের ১৫৬টি চা বাগানের মধ্যে সিলেট বিভাগের ১৩৩টি চা বাগানের উৎপাদিত চা বস্তা বন্দি হয়ে গুদামে রক্ষিত আছে। যাহা প্রতিটি চা ফ্যাক্টরীর চাপাতা গুদামজাত করার ক্ষমতার চারগুণেরও বেশি। জানা যায়, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অক্টোবর মাসে ২৭, ২৮, ২৯ তারিখে হরতাল, নভেম্বর মাসে ৪, ৫, ৬, ১০, ১১, ১২ তারিখে হরতাল, ২৬, ২৭, ২৮ ও ৩০ তারিখে অবরোধের কারণে এবং ১লা ডিসেম্বর হতে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮ দলের ডাকে দেশে এই হরতাল ও অবরোধের কারণে ইন্টারড্রিষ্ট্রিক ট্রাকে পরিবহণযোগ্য বিভিন্ন চা ফ্যাক্টরীর চাপাতা চট্টগ্রাম ওয়্যার হাউজ (নিলাম কেন্দ্রে) সেন্টারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু কিছু করে ১৩৩ টি চা বাগানের ফ্যাক্টরীতে চাপাতা জমতে জমতে আজ ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চায়ের মজুদ পরিমাণ দাড়িয়েছে ১ কোটি কেজি তথা ১০ মিলিয়ন কেজি চাপাতা চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে পাঠানোর অপেক্ষায় আটকে আছে। বাংলাদেশীয় চা সংসদ এর সিলেট বিভাগীয় ব্রাঞ্চ সূত্রেএ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে নিলাম বাজারের ফিনলে চা কোম্পানীর প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৩৪ টাকা। ডানকান ব্রার্দাসের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২২৫ টাকা। মধুপুর চা বাগানের চায়ের গড় মূল্য ২৪৪.৫৭ টাকা। শ্রীগোবিন্দুপুর চা বাগানের গড় মূল্য ২৪৯.৩১ টাকা। কইয়াছড়া ঢালু চা বাগানের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৫৫ টাকা। ক্লিপডন চা বাগানের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৪৪.১৫ টাকা। ইস্পাহানী চা কোম্পানীর প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৩৯.৭২ টাকা। সাতগাঁও চা কোম্পানীর প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৩৪.৬১ টাকা। বর্তমান নিলাম বাজারের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৪০.৭৯ টাকা। সেই হিসেবে ১ কোটি কেজি চাপাতা তথা ১০ মিলিয়ন চাপাতার মূল্য দাড়ায় ২৪০ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা। ডানকান ব্রাদার্সের আলীনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন জানান, উনাদের ১৫টি চা বাগানে বাৎসরিক মোট উৎপাদন হয় ১২ মিলিয়ন কেজি চা পাতা। এরমধ্যে ২০% চা গুদামে আটকা পড়ে আছে। হরতাল অবরোধের কারণে চাপাতা চট্টগ্রামে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে উনাদের ১৫টি চা বাগানের চাপাতা গুদামজাত করার ক্যাপাসিটি হলো ১ লাখ ২০ হাজার কেজি। এরমধ্যে গুদামে বর্তমানে আছে ২৪ লাখ তথা ২.৪ মিলিয়ন কেজি চাপাতা। এই অতিরিক্ত চাপাতা গুদামজাত করতে উনাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। ব্যবস্থাপক আরো জানান উনাদের বাগানে চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য স্ট্র্যাগনেন্ট অবস্থায় যে চাপাতা আছে যথা ২৪ লাখ কেজি মানে ২.৪ মিলিয়ন কেজি চাপাতা তার গড় মূল্য দাড়াবে ৫৪ কোটি টাকা। শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগানের মালিক শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মোঃ মহসিন মিয়া মধু জানান, ১৮ দলের অবরোধের কারণের উনার বাগানে ১ লক্ষ ২০ হাজার কেজি চাপাতা গুদামে আটকে আছে। তিনি বলেন আমার গুদামে চাপাতা ধারণ ক্ষমতা ৩৫ হাজার কেজি। তিনি জানান অবরোধের কারণে উনার চাপাতা চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে পাঠাতে পারছেন না। বর্তমান নিলাম বাজারে শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৪৯.৩১ টাকা। সেই হিসেবে উনার ফ্যাক্টরীতে স্তোপ করা চায়ের মূল্য ২৯ কোটি ৯১ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা। ফিনলে চা কোম্পানীর জি এম ফ্যাক্টরী মি. কায়সার জানান, ফিনলে কোম্পানী এ বৎসর চা উৎপাদন করবে ১২.৫ মিলিয়ন কেজি। কিন্ত এবৎসর হরতাল ও অবরোধের কারণে নভেম্বর মাস হতে তাদের ৭টি ফ্যাক্টরীতে ২৩ লাখ কেজি তথা ২.৩ মিলিয়ন কেজি তৈরী চা গুদামজাত হয়ে আছে। ফিনলে চা কোম্পানীর ১। রাজঘাট ডিভিশনে ৫ লাখ ৭২ হাজার কেজি ২। ডেনষ্টন ডিভিশনে ৬ লাখ ৫ হাজার কেজি ৩। আমরাইল ডিভিশনে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫০ কেজি ৪। রশিদপুর ডিভিশনে ২ লাখ ৭৬ হাজার ১০০ কেজি ৫। ভাড়াউড়া ডিভিশনে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ কেজি চা ৬। দারাগাঁও ডিভিশনে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কেজি ৭। বালিশিরা ডিভিশনে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৫০ কেজি চাপাতা ফ্যাক্টরীতে গুদামজাত করা আছে। তিনি জানান অবরোধের ফলে আটকে থাকা এই চাপাতা চা ফ্যাক্টরীতে রাখার কোন ব্যবস্থা নেই। তারপরও উৎপাদন বিঘিœত করে এই চাপাতা রাখতে হচ্ছে। একটি সূত্র জানায় ভাড়াউড়া চা ডিভিশনের ফ্যাক্টরীতে চা গুদামজাত করার ক্ষমতা ৫৬ হাজার ৯শ ২৫ কেজি। কিন্ত চা ফ্যাক্টরীতে বর্তমানে মজুদ আছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ কেজি। অপর একটি খরবে জানা যায় রাজঘাট ডিভিশনের ফ্যাক্টরীতে চা গুদামজাত করার ক্ষমতা ১ লাখ ৫ হাজার ৬শ কেজি। কিন্ত বর্তমানে ফ্যাক্টরীতে গুদামজাত করা আছে ৫ লাখ ৭২ হাজার কেজি। যাহা ধারণ ক্ষমতার অনেক উর্দ্ধে। ফিনলে চা কোম্পানীর অন্য এক ডিজিএম জানান, জাতীয় রাজনীতির অশান্তি ও হরতাল অবরোধের কারণে ফিনলে কোম্পানীর ২৩ লাখ কেজি তথা ২.৩ মিলিয়ন কেজি তৈরী চা চট্টগ্রাম নিলাম বাজারে প্রেরণের অপেক্ষায় থাকায় কোম্পানীর প্রভূত ক্ষতিসাধন হচ্ছে। কারণ কোম্পানীর প্রাত্যহিত ব্যয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ওয়েজেস দিতে কোম্পানীর অসুবিধা হচ্ছে। ফিনলে কোম্পানীর ২.৩ মিলিয়ন কেজি চাপাতা বর্তমান নিলাম বাজারের গড় মূল্য ২৩৪ টাকা হিসেবে ৫৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সময়তো এই চাপাতা বাজারজাত করতে না পারলে আগামীতে এ চাপাতা হয়তো বর্তমান মূল্যে বিক্রয় করা সম্ভব হবে না। এতে কোম্পানীর আর্থিক ক্ষতি হবে বলে ফিনলে কোম্পানীর কর্মকর্তারা মনে করেন। এদিকে এবারকার ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবৎসর অনুকুল পরিবেশ ও ইউনিফর্ম বৃষ্টিপাতের কারণে চায়ের প্রত্যাশিত উৎপাদন ৬৩ মিলিয়ন পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যাহা ইতিমধ্যে বাস্তবায়নের আলামত দেখা গেছে। এদিকে সরকার কর্তৃক ২০% আমদানী কর রেহাত করায় ইতিমধ্যে আমদানী কারকরা নভেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত ৯.৬৩ মিলিয়ন কেজি বিদেশী নিম্নমানের চা আমদানী করেছেন। চায়ের উৎপাদন ভালো থাকায় এবং অধিক চা আমদানী করায় আমদানী কারকরাও একটি বিপদের মধ্যে আছেন বলে চা অভিজ্ঞ মহল জানান। অভিজ্ঞমহলের মতে দেশের আভ্যন্তরীন বাজারে বৎসরে চায়ের কনজামশন (ব্যবহার) ৫৫ লক্ষ কেজি। দেশীয় চা ভোক্তারা বর্তমানে বিদেশী কমমূল্যের চায়ের সাথে দেশীয় চায়ের মিশ্রন তথা ব্লেন্ডিং করা চা খেতে ইচ্ছুক নহেন। এছাড়া নির্বাচনকালীন বৎসরে চায়ের ব্যবহার একটু অধিক হয়। কিন্ত এবৎসর নির্বাচন পার্শিয়েল (আংশিক) হওয়ায় চায়ের ব্যবহার ততটা হবে না। বাংলাদেশের গ্রীণ টি ঃ বাংলাদেশে ফিনলে কোম্পানীর জাগছড়া ডিভিশনে গ্রীণ টি উৎপাদন হয়। বৎসরে ১ লাখ ৫০ হাজার কেজি গ্রীণ টি জাগছড়া ডিভিশনে উৎপাদন হয়। এর কিছুটা বাংলাদেশে বিক্রয় হয়। বাকী ৯০ শতাংশই পাকিস্তানে রপ্তানী করা হয়। পাকিস্তানী ক্রেতারাই মূলত গ্রীন টি’র বায়ার। তারা শিপমেন্টের মাধ্যমে এই চা পাকিস্তানে বহন করে নিয়ে যায়। জাগছড়া ডিভিশনের ম্যানেজার হুমায়ণ কবীর মজুমদার জানান হরতাল অবরোধের কারণে ২ কোটি ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার ৬০ হাজার কেজি তৈরী গ্রীণ টি জাগছড়া চা বাগানের ফ্যাক্টরীতে চট্টগ্রাম নিলাম বাজারে প্রেরণের অপেক্ষায় আছে। গ্রীণ টি’র মূলত বায়ার পাকিস্তান। পাকিস্তানের গ্রীন টি ক্রেতারা চট্টগ্রাম অফিসে চা সরবরাহ করার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে জাগছড়া চা বাগানের ম্যানেজার হুমায়ন কবীর জানান। পলিপ্যাক ডিভিশন ঃ বিভিন্ন চা বাগানের চাপাতা ফ্যাক্টরীতে সরাসরি প্যাকেটজাত করে ভোক্তাদের নিকট সরবরাহ করেন ফিনলে চা কোম্পানী। ফিনলে চা কোম্পানীর পলিপ্যাক চা মূলত খুলনা, বগুড়া, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিক্রয় হয়। সামান্য পরিমান পলিপ্যাক চা হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেটে বিক্রয় হয়। পলিপ্যাক চাপাতার গড় প্রতি কেজি চাপাতার মূল্যে চারশ টাকা। একটি সূত্র জানায় ফিনলে কোম্পানীর পলিপ্যাক ডিভিশনে প্যাকেটজাত চাপাতা ১ লাখ ৭০ হাজার কেজি গুদামজাত হয়ে আছে। যাহার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। হরতাল অবরোধের কারণে এই প্যাকেটজাত চাপাতা বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে পলিপ্যাক ডিভিশনের কর্মকর্তা জানান।
বাংলাদেশ অন্যতম অর্থকরী ফসল চা। একে এগ্রো-বেইসজড ই-াষ্ট্রি বলা হয়। পূর্বে বাংলাদেশে উৎপাদিত সিংহভাগ চা বিদেশে রপ্তানী হতো। তাই পাটের পরে চা-ই ছিল দেশের দ্বিতীয় রফতানী পন্য। যার ফলে চায়ের মাধ্যমে দেশে আসতো প্রচুর বিদেশী মুদ্রা। কিন্তু বর্তমান কালে দেশের আভ্যন্তরে বাজারে চায়ের ভোক্তা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে বিপুল পরিমাণ চা বিদেশে রফতানী করা সম্ভব হচ্ছে না। চা অভিজ্ঞমহল জানান বর্তমানে চায়ের আভ্যন্তরীন বাজারে চাহিদা হলো ৫৫ মিলিয়ন কেজি। কিন্ত আমাদের দেশে চা উৎপাদন হচ্ছে ৬০ মিলিয়ন কেজি। অভিজ্ঞ মহলের মতে এবারকার অনুকুল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বৃষ্টিপাতের কারণে চায়ের উৎপাদন ৬৩ মিলিয়ন কেজি পেরিয়ে যেতে পারে। আভ্যন্তরীন বাজারে বাংলাদেশে বিদেশ হতে চা আমদানী একেবারে বন্ধ ছিল। কিন্ত গত বৎসর বাজেটের পরদিন বাজেট বর্হিভূতভাবে চা আমদানীতে ৮০% ট্যাক্স এর স্থলে ২০% রেহাত দিলে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ৯.৬৩ মিলিয়ন কেজি চাপাতা আমদানী হয়েছে বলে একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। এই পাতাগুলো খুবই নিম্নমানের এবং প্রতি কেজি চায়ের মূল্য ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বাংলাদেশের চা ব্লেন্ডাররা এই নিম্নমানের চাপাতা আমাদের দেশের ভাল চাপাতার সাথে মিশ্রন করে বাংলাদেশের একমাত্র ‘বেভারেজ’ চা এর আস্বাদন বাংলাদেশের মানুষকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবং ১৮ দলের হরতাল ও অবরোধ এর ফলে দেশের ১৫৬টি চা বাগানের মধ্যে সিলেট বিভাগের ১৩৩টি চা বাগানের উৎপাদিত চা বস্তা বন্দি হয়ে গুদামে রক্ষিত আছে। যাহা প্রতিটি চা ফ্যাক্টরীর চাপাতা গুদামজাত করার ক্ষমতার চারগুণেরও বেশি। জানা যায়, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অক্টোবর মাসে ২৭, ২৮, ২৯ তারিখে হরতাল, নভেম্বর মাসে ৪, ৫, ৬, ১০, ১১, ১২ তারিখে হরতাল, ২৬, ২৭, ২৮ ও ৩০ তারিখে অবরোধের কারণে এবং ১লা ডিসেম্বর হতে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮ দলের ডাকে দেশে এই হরতাল ও অবরোধের কারণে ইন্টারড্রিষ্ট্রিক ট্রাকে পরিবহণযোগ্য বিভিন্ন চা ফ্যাক্টরীর চাপাতা চট্টগ্রাম ওয়্যার হাউজ (নিলাম কেন্দ্রে) সেন্টারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু কিছু করে ১৩৩ টি চা বাগানের ফ্যাক্টরীতে চাপাতা জমতে জমতে আজ ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চায়ের মজুদ পরিমাণ দাড়িয়েছে ১ কোটি কেজি তথা ১০ মিলিয়ন কেজি চাপাতা চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে পাঠানোর অপেক্ষায় আটকে আছে। বাংলাদেশীয় চা সংসদ এর সিলেট বিভাগীয় ব্রাঞ্চ সূত্রেএ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে নিলাম বাজারের ফিনলে চা কোম্পানীর প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৩৪ টাকা। ডানকান ব্রার্দাসের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২২৫ টাকা। মধুপুর চা বাগানের চায়ের গড় মূল্য ২৪৪.৫৭ টাকা। শ্রীগোবিন্দুপুর চা বাগানের গড় মূল্য ২৪৯.৩১ টাকা। কইয়াছড়া ঢালু চা বাগানের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৫৫ টাকা। ক্লিপডন চা বাগানের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৪৪.১৫ টাকা। ইস্পাহানী চা কোম্পানীর প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৩৯.৭২ টাকা। সাতগাঁও চা কোম্পানীর প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৩৪.৬১ টাকা। বর্তমান নিলাম বাজারের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৪০.৭৯ টাকা। সেই হিসেবে ১ কোটি কেজি চাপাতা তথা ১০ মিলিয়ন চাপাতার মূল্য দাড়ায় ২৪০ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা। ডানকান ব্রাদার্সের আলীনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন জানান, উনাদের ১৫টি চা বাগানে বাৎসরিক মোট উৎপাদন হয় ১২ মিলিয়ন কেজি চা পাতা। এরমধ্যে ২০% চা গুদামে আটকা পড়ে আছে। হরতাল অবরোধের কারণে চাপাতা চট্টগ্রামে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে উনাদের ১৫টি চা বাগানের চাপাতা গুদামজাত করার ক্যাপাসিটি হলো ১ লাখ ২০ হাজার কেজি। এরমধ্যে গুদামে বর্তমানে আছে ২৪ লাখ তথা ২.৪ মিলিয়ন কেজি চাপাতা। এই অতিরিক্ত চাপাতা গুদামজাত করতে উনাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। ব্যবস্থাপক আরো জানান উনাদের বাগানে চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য স্ট্র্যাগনেন্ট অবস্থায় যে চাপাতা আছে যথা ২৪ লাখ কেজি মানে ২.৪ মিলিয়ন কেজি চাপাতা তার গড় মূল্য দাড়াবে ৫৪ কোটি টাকা। শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগানের মালিক শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মোঃ মহসিন মিয়া মধু জানান, ১৮ দলের অবরোধের কারণের উনার বাগানে ১ লক্ষ ২০ হাজার কেজি চাপাতা গুদামে আটকে আছে। তিনি বলেন আমার গুদামে চাপাতা ধারণ ক্ষমতা ৩৫ হাজার কেজি। তিনি জানান অবরোধের কারণে উনার চাপাতা চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে পাঠাতে পারছেন না। বর্তমান নিলাম বাজারে শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ২৪৯.৩১ টাকা। সেই হিসেবে উনার ফ্যাক্টরীতে স্তোপ করা চায়ের মূল্য ২৯ কোটি ৯১ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা। ফিনলে চা কোম্পানীর জি এম ফ্যাক্টরী মি. কায়সার জানান, ফিনলে কোম্পানী এ বৎসর চা উৎপাদন করবে ১২.৫ মিলিয়ন কেজি। কিন্ত এবৎসর হরতাল ও অবরোধের কারণে নভেম্বর মাস হতে তাদের ৭টি ফ্যাক্টরীতে ২৩ লাখ কেজি তথা ২.৩ মিলিয়ন কেজি তৈরী চা গুদামজাত হয়ে আছে। ফিনলে চা কোম্পানীর ১। রাজঘাট ডিভিশনে ৫ লাখ ৭২ হাজার কেজি ২। ডেনষ্টন ডিভিশনে ৬ লাখ ৫ হাজার কেজি ৩। আমরাইল ডিভিশনে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫০ কেজি ৪। রশিদপুর ডিভিশনে ২ লাখ ৭৬ হাজার ১০০ কেজি ৫। ভাড়াউড়া ডিভিশনে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ কেজি চা ৬। দারাগাঁও ডিভিশনে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কেজি ৭। বালিশিরা ডিভিশনে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৫০ কেজি চাপাতা ফ্যাক্টরীতে গুদামজাত করা আছে। তিনি জানান অবরোধের ফলে আটকে থাকা এই চাপাতা চা ফ্যাক্টরীতে রাখার কোন ব্যবস্থা নেই। তারপরও উৎপাদন বিঘিœত করে এই চাপাতা রাখতে হচ্ছে। একটি সূত্র জানায় ভাড়াউড়া চা ডিভিশনের ফ্যাক্টরীতে চা গুদামজাত করার ক্ষমতা ৫৬ হাজার ৯শ ২৫ কেজি। কিন্ত চা ফ্যাক্টরীতে বর্তমানে মজুদ আছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ কেজি। অপর একটি খরবে জানা যায় রাজঘাট ডিভিশনের ফ্যাক্টরীতে চা গুদামজাত করার ক্ষমতা ১ লাখ ৫ হাজার ৬শ কেজি। কিন্ত বর্তমানে ফ্যাক্টরীতে গুদামজাত করা আছে ৫ লাখ ৭২ হাজার কেজি। যাহা ধারণ ক্ষমতার অনেক উর্দ্ধে। ফিনলে চা কোম্পানীর অন্য এক ডিজিএম জানান, জাতীয় রাজনীতির অশান্তি ও হরতাল অবরোধের কারণে ফিনলে কোম্পানীর ২৩ লাখ কেজি তথা ২.৩ মিলিয়ন কেজি তৈরী চা চট্টগ্রাম নিলাম বাজারে প্রেরণের অপেক্ষায় থাকায় কোম্পানীর প্রভূত ক্ষতিসাধন হচ্ছে। কারণ কোম্পানীর প্রাত্যহিত ব্যয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ওয়েজেস দিতে কোম্পানীর অসুবিধা হচ্ছে। ফিনলে কোম্পানীর ২.৩ মিলিয়ন কেজি চাপাতা বর্তমান নিলাম বাজারের গড় মূল্য ২৩৪ টাকা হিসেবে ৫৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সময়তো এই চাপাতা বাজারজাত করতে না পারলে আগামীতে এ চাপাতা হয়তো বর্তমান মূল্যে বিক্রয় করা সম্ভব হবে না। এতে কোম্পানীর আর্থিক ক্ষতি হবে বলে ফিনলে কোম্পানীর কর্মকর্তারা মনে করেন। এদিকে এবারকার ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবৎসর অনুকুল পরিবেশ ও ইউনিফর্ম বৃষ্টিপাতের কারণে চায়ের প্রত্যাশিত উৎপাদন ৬৩ মিলিয়ন পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যাহা ইতিমধ্যে বাস্তবায়নের আলামত দেখা গেছে। এদিকে সরকার কর্তৃক ২০% আমদানী কর রেহাত করায় ইতিমধ্যে আমদানী কারকরা নভেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত ৯.৬৩ মিলিয়ন কেজি বিদেশী নিম্নমানের চা আমদানী করেছেন। চায়ের উৎপাদন ভালো থাকায় এবং অধিক চা আমদানী করায় আমদানী কারকরাও একটি বিপদের মধ্যে আছেন বলে চা অভিজ্ঞ মহল জানান। অভিজ্ঞমহলের মতে দেশের আভ্যন্তরীন বাজারে বৎসরে চায়ের কনজামশন (ব্যবহার) ৫৫ লক্ষ কেজি। দেশীয় চা ভোক্তারা বর্তমানে বিদেশী কমমূল্যের চায়ের সাথে দেশীয় চায়ের মিশ্রন তথা ব্লেন্ডিং করা চা খেতে ইচ্ছুক নহেন। এছাড়া নির্বাচনকালীন বৎসরে চায়ের ব্যবহার একটু অধিক হয়। কিন্ত এবৎসর নির্বাচন পার্শিয়েল (আংশিক) হওয়ায় চায়ের ব্যবহার ততটা হবে না। বাংলাদেশের গ্রীণ টি ঃ বাংলাদেশে ফিনলে কোম্পানীর জাগছড়া ডিভিশনে গ্রীণ টি উৎপাদন হয়। বৎসরে ১ লাখ ৫০ হাজার কেজি গ্রীণ টি জাগছড়া ডিভিশনে উৎপাদন হয়। এর কিছুটা বাংলাদেশে বিক্রয় হয়। বাকী ৯০ শতাংশই পাকিস্তানে রপ্তানী করা হয়। পাকিস্তানী ক্রেতারাই মূলত গ্রীন টি’র বায়ার। তারা শিপমেন্টের মাধ্যমে এই চা পাকিস্তানে বহন করে নিয়ে যায়। জাগছড়া ডিভিশনের ম্যানেজার হুমায়ণ কবীর মজুমদার জানান হরতাল অবরোধের কারণে ২ কোটি ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার ৬০ হাজার কেজি তৈরী গ্রীণ টি জাগছড়া চা বাগানের ফ্যাক্টরীতে চট্টগ্রাম নিলাম বাজারে প্রেরণের অপেক্ষায় আছে। গ্রীণ টি’র মূলত বায়ার পাকিস্তান। পাকিস্তানের গ্রীন টি ক্রেতারা চট্টগ্রাম অফিসে চা সরবরাহ করার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে জাগছড়া চা বাগানের ম্যানেজার হুমায়ন কবীর জানান। পলিপ্যাক ডিভিশন ঃ বিভিন্ন চা বাগানের চাপাতা ফ্যাক্টরীতে সরাসরি প্যাকেটজাত করে ভোক্তাদের নিকট সরবরাহ করেন ফিনলে চা কোম্পানী। ফিনলে চা কোম্পানীর পলিপ্যাক চা মূলত খুলনা, বগুড়া, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিক্রয় হয়। সামান্য পরিমান পলিপ্যাক চা হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেটে বিক্রয় হয়। পলিপ্যাক চাপাতার গড় প্রতি কেজি চাপাতার মূল্যে চারশ টাকা। একটি সূত্র জানায় ফিনলে কোম্পানীর পলিপ্যাক ডিভিশনে প্যাকেটজাত চাপাতা ১ লাখ ৭০ হাজার কেজি গুদামজাত হয়ে আছে। যাহার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। হরতাল অবরোধের কারণে এই প্যাকেটজাত চাপাতা বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে পলিপ্যাক ডিভিশনের কর্মকর্তা জানান। স্টাফ রিপোর্টার॥

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •