ধলাই নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে হিরামতিসহ কয়েকটি গ্রাম ॥ আতংকে কয়েক হাজার পরিবার
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মণিপুরী অধ্যুষিত হিরামতি গ্রামের ধলাই নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধটি প্রায় ৩৫০ ফুট লম্বা ফাটলসহ বাঁধটির অধিকাংশ চলে গেছে নদী গর্ভে। এছাড়া আরো কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাধবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু, ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রনজিৎ কুমার সিংহ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিরামতির বাঁধ পরিদর্শন করে বাঁধের বেহাল অবস্থা দেখে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জরুরী ভিত্তিতে বাঁধটি সংস্কারের দাবী জানান। অন্যতায় টানা বৃষ্টি শুরু হলে যেকোন মুহুর্তে তলিয়ে যেতে পারে কয়েকটি গ্রাম। নদী ভাঙ্গনের আতংকের মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছেন কয়েক হাজার পরিবার।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানান, যথাসময়ে সময়মত ধলাই নদীর হিরামতির বাঁধটি মেরামত না করা গেলে আর নদীর পানি বাড়লেই বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ। কারণ বাঁধটি সামান্য একটু জায়গা বাকি রয়েছে ভাঙ্গতে। আর বাঁধ ভাঙ্গলে মাধবপুর, ভানুগাছ বাজারসহ কমলগঞ্জ, ও মুন্সিবাজার পর্যন্ত কয়েক হাজার পরিবার বন্যার পানিতে পানিবন্দী সহ চরম দূর্ভোগে পড়বে। মাধবপুর বাজারের সমাজকর্মী আসহাবুর ইসলাম শাওন, রাজনীতিবিদ সৈয়দ শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড গোটা কয়েক জায়গায় নদীর পাড় কেটে নদীর বাঁধে মাটি ফেলে লোক দেখানোর কাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডেও গাফিলতির কারনে শতাধিক বন্যা কবলিত গ্রামে হাজার হাজার পানিবন্দি সহ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ বাড়ছে।
আলাপকালে মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, এ ইউনিয়নের হীরামতি, শুকুর উল্ল্যার গাঁওসহ কমপক্ষে ৮/১০ টি স্থানে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে বেশ কিছু এলাকার ফসলী জমি তলিয়ে গেছে।
ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বেশ কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দু বিজয় শংকর চক্রবর্তী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ধলাই ও মনু নদের ওপর সার্বক্ষনিক নজরদারি করছে। ইতিমধ্যে হীরামতি, বাদে করিমপুরসহ বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বাকীগুলো জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছে।



মন্তব্য করুন