কমলগঞ্জে খামারির মাছ ভেসে গিয়ে অর্ধকোটি টাকার উপরের ক্ষতি
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জ উপজেলায় রোববার ৪ জুন ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে সৃষ্ট বন্যায় মৎস্য খামারিদের ৮১৭ পুকুর ডুবে পুকুরের চাষকৃত সমূহ মাছ ভেসে যায়। এক সাথে সারা উপজেলার ৮১৭টি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে খামারিদের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। উপজেলা মৎস্য বিভাগ সরেজমিন ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ক্ষতিসহ তালিকা সংগ্রহ করে।
১ জুন কমলগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড আলেপুর গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের পুরাতন ভাঙ্গন দিয়ে উজানি পাহাড়ি ঢলের পানিতে পৌরসভার ৪টি গ্রাম সহ আরও ৪টি ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। এসময় ফসলি জমি নিমজ্জিত করলে কোন পুকুর ডুবায়নি। পরবর্তীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ধলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৪ জুন রোববার সকালে কমলগঞ্জে আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারা, দক্ষিণ তিলকপুর ও জামরি কোণা গ্রাম এলাকার ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে ৩টি ভাঙ্গন দিয়ে ঢলের পানি দ্র”ত প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি করে। এই সাথে পাশ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করে এ্ পানি আবার কমলগঞ্জ উপজেলার নি¤œাঞ্চলে আঘাত করে। ফলে কমলগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৮৮টি গ্রাম বন্যা কবিলত হয়ে পড়েছিল। ৮৮টি গ্রামের ৭১ হাজার মানুষ ছিলেন পানি বন্দী। গ্রামের রাস্তাঘাট, ফসলি জমির সাথে সবগুলো পুকুর পর্যন্ত ডুবিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমশেরনগর, পতনউষার,মুন্সীবাজারও রহিমপুর ইউনিয়নের খামারিদের ৮১৭টি পুকুরের সমূহ মাছ বন্যার পানেতে ভেসে খালে-বিলে ও নদীতে মিশে গেছে। সরেজমিন ঘুরে কথা হয় আদমপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারি মো: হেলাল উদ্দীনের সাথে। তিনি জানান, বন্যার পানিতে তার ৩টি পুকুরের প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ বের হয়ে গেছে। শমশেরনগর ইউনিয়নের মৎস্য খামারি আমিখ মিয়া জানান, বিমান বাহিনর পুকুর বন্দোবস্ত নিয়ে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মাছ চাষ করছিলেন। সামপ্রতিক বন্যায় তার ৫টি পুকুর ডুবিয়ে নিলে কম পক্ষে ৭ লাখ টাকার মাছ বের হয়ে বন্যার বিস্তর পানিতে ভেসে গেছে। পতনউষার ইউনিয়নের খামারি তোয়াবুর রহমান (তোবারক) তার ১টি পুকুর থেকে লক্ষাধিক টাকার মাছ বের হয়ে গেছে। খামারিরা আরও বলেন, এক দিকে কমলগঞ্জের ধলাইর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে সৃষ্ট বন্যার আঘাত তার সাথে পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গনে সৃষ্ট বন্যার আঘাতও আসে কমলগঞ্জ উপজেলার নি¤œাঞ্চলে। শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ, পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ (বাবু) ও আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, তাদের জানামত বিগত ২৫ বছরেও এ ধরনের আকস্মিক ক্ষনস্থায়ী বন্যা তারা দেখেনি। বন্যার স্থায়ীত্ব ছিল কম। তবে ক্ষতি করে গেছে রোপিত আউশ ফসল ও মৎস্য খামারিদের। মানুষজন এখন ফসলি জমি, খালে-বিলে ও নদীতে যে মাছ শিকার করছেন তার ৮০ ভাগই খামারিদের পুকুর থেকে বের হয়ে যাওয় নানা জাতের মাছ। কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: শাহাদাৎ হোসেন এবারের বন্যায় কমলগঞ্জে মৎস্য কমারিদের ব্যাপক ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের তালিকা অনুযায়ী ৮১৭টি পুকুর ডুবালে এসব পুকুরের মাছ বের হয়ে গেছে। এতে ক্ষতি কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার উপরে হবে। বিষয়টি তারার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে অবহিত করেছেন। পরবর্তীতে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা আসলে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের প্রদান করা হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমদুদুল হকও বন্যায় মৎস্য খামারিদের ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, এ দিকে উপজেলা প্রশাসন নজরদারি করছে।



মন্তব্য করুন