কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে॥ স্থায়ী সমাধানে ব¬ক নির্মানের দাবী গ্রামবাসীর

June 10, 2017,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। দেখার যেন কেউ নেই। প্রতিরক্ষা বাঁধ থাকলেও নদী ভাঙ্গনে প্রতি বছরই গ্রামের দিকে ধেয়ে আসছে ধলাই নদী। বার বার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে অনেক পরিবার নিঃস^ হয়েছেন। এখন আরও অনেক পরিবার নিঃস্ব হওয়ার পথে।
সরেজমিন পরির্দশনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে অন্যান্য ওয়ার্ডের মতো বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ হলেও নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। ক্রমান্বয়ে নদীর এপার ভেঙ্গে ওপারের বড়গাছ গ্রামে গিয়ে মিলিত হয়েছে। ওয়ার্ডবাসীর সাথে আলাপকালে তারা বলেন, সাধারণ প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে আর ভাঙ্গন প্রতিরোধ সম্ভব নয়, স্থায়ী সমাধানে জরুরী ভিত্তিতে ঝুকিপূর্ণ (প্রতীম ধরের বাড়ী হইতে আব্দুর রবের বাড়ী পর্যন্ত) স্থানে ব¬ক বসিয়ে এই প্রতিরক্ষা বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব। তাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। বছর বছর উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতের আঘাতে প্রতিরক্ষা বাঁধটির এবারও ভিন্ন ভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০০ ফুট ফাটল দেখা দেয়া দিয়েছে অনেক জায়গা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।


এছাড়া আরো কয়েকটি স্থান রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে বাঁধটি মেরামত না করা গেলে পরবর্তীতে নদীর পানি বাড়লেই বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে শতভাগ। আর বাঁধ ভাঙ্গলে এ ওয়ার্ডের ঈদগাহ, রামপাশা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নব নির্মিত দুর্গামন্দির, ভৈরব থলী, পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত ড্রেন, পাকা রাস্তা সহ ছাইয়াখালী হাওর বালি মাটিতে নিমজ্জিত হয়ে কৃষি কাজে অনুপযোগী হবে হাজার হাজার একর কৃষি জমি তাতে কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
এদিকে অনেকে অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নানা অজুহাত ও গাফিলতির কারণেই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি সহ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ বাড়ছে
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দু বিজয় শংকর চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে কোন বরাদ্দ না থাকায় আমরা কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা ধলাই নদী নিয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। আসলে ধলাই নদীটা হচ্ছে একটি ফাসি রিভার। গভীরতার অভাবে অল্প পানি হলেই পানি উপড়ে পড়ে বাঁধ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয় এর জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে নদীটি ড্রেজিং করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্ল¬কের ব্যবস্থা করে দিলে ২০-৩০ বৎসরেও বন্যার প¬াবিত হওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না। বর্তমানে যেগুলো অধিক  ঝূকিপূর্ণ সেগুলো পরিদর্শন করে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com