কিসের সংলাপ কিসের সমঝোতা, শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন – ব্যাস !

October 17, 2013, এই সংবাদটি ২৯৪ বার পঠিত

ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার সরকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও মনে হয় কোনভাবেই ক্ষমতা ছাড়বেনা। সংবিধানের ফাঁক-ফোকর দিয়েই হউক, একতরফা নির্বাচন করেই হউক বা তাদের দলীয় রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জরুরী অবস্থা জারী করে নির্বাচন না দিয়ে আরো দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফন্দি-ফিকিরের চিন্তা-ভাবনাও করছে, কিন্তু জনগন তাকে মেন্ডেট দিয়েছে ৫ বছরের জন্য, ৫ বছরের বেশী সময় নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য মেন্ডেট দেয়নি। শেখ হাসিনা আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা নিজের হাতে রাখার লোভে তার সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে ক্ষমতা ধরে রাখার উগ্র ও জঘন্য মানষিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন আর উদ্বোধন করার আনন্দ ও মজাতেই এখন সে ব্যস্ত, তাই নির্বাচনের আগে ভোটের রাজনীতির অংশ হিসেবে সারা দেশে সে শত শত কথিত উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনের ফিতা কাটার উৎসবে মেতে আছে। নিজের নাম খোদাই করার মত এমন মজা ও আনন্দ পাওয়ার জায়গা ( ক্ষমতা ) থেকে কি কেউ সহসা বিদায় নিতে চায় ? এ কারণে সে বিগত দিনে নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি বা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলের সাথে সংসদের ভেতরে বা বাইরে যে কোন জায়গায় আলোচনা করতে প্রস্তুত আছে বল্লেও তার সরকারের মেয়াদের শেষ মূহুর্তে এসে এখন বিরোধী দলের সাথে আলোচনার কোন আগ্রহ না দেখিয়ে বা আভাস-ইংগিত না দিয়ে পঞ্চোদশ সংশোধনীর আলোকে সংবিধান অনুযায়ী অর্থাৎ বর্তমান সংসদ বহাল রেখে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রী-এম,পিরা স্ব স্ব পদে বহাল থেকেই আগামী জাতীয় নির্বাচন করবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিরোধী দলের দাবী ও এর সমর্থনে ২৪ অক্টোবরের পর থেকে তাদের আন্দোলনের হুমকী এবং এর ফলে দেশে যে নৈরাজ্য, অনিশ্চিত ও সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এ ব্যাপারে দেশের আপমর মানুষ ও জাতিসংঘসহ বিদেশীরাও যখন চরম উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতা-নেত্রীরা একে কোন পাত্তাই দিচ্ছেনা। বরং বিরোধী দলের আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করবে বলে হুমকী দিচ্ছে। সব দলের বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল বা জোটের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে একটা গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সাথে সংলাপ বা সমঝোতার জন্য দেশী বিদেশী সর্বমহলের পক্ষ থেকে বার বার আহ্বান ও তাগিদ জানানো সত্ত্বেও ক্ষমতা ধরে রাখার তীব্র মনোবাসনা পোষণ করার কারণে শেখ হাসিনা সব কিছুকে উপেক্ষা করে তার দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের সাথে এখন আর কোন আলোচনা বা সমঝোতা করতেই নারাজ। সে হয়ত মনে করছে তার অভিপ্রায় বাস্তবায়নে বাঁধা দেওয়ার কোন শক্তি কারো নাই। বি,এন,পিসহ বিরোধী জোট তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হরতাল বা আন্দোলন করলে তাদেরকে আগের মত কঠোর ও নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হবে, তাছাড়া সে ও তার দলের নেতারা মনে করে সরকারের কাছ থেকে দাবী আদায়ের জন্য বিরোধী জোটের সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন করার কোন শক্তি-সামর্থ্য নাই। বিরোধী দলের আন্দোলন দমনের জন্য হাসিনা সরকার তার বর্তমান শাসনামলে পুলিশ বাহিনীকে তার নিজের আজ্ঞাবহ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছে, র‌্যাবকেও একই উদ্দেশ্যে সফলভাবে পুলিশের মত ব্যবহার করতে পারছে। শেখ হাসিনা ও তার সরকার একটা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চায়না বলেই এ ব্যাপারে বিরোধী দলের সাথে আলাপ-আলোচনার বিষয়টাকে কৌশলে এিেড়য়ে যাচ্ছে। প্রথম দিকে আলাপ-আলোচনার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সরকার প্রস্তুত আছে বলে বার বার বলা হলেও আলাপ-আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে কোন আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয় নাই, শুধু মাঠে ময়দানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় আলোচনার জন্য রাজী থাকা ও আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার কথা উচ্চারন করা আর সদিচ্ছা নিয়ে বাস্তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া কখনও এক হতে পারেনা, বিগত দিনগুলোতে আলোচনা না হওয়ার মধ্য দিয়েই তার প্রমান পাওয়া যায়। জাতিসংঘের বিশেষ দূত ঢাকায় এসে সরকার ও বিরোধী দলকে আলোচনায় বসার জন্য তাগিদ দেওয়ার পর সরকারী দলের সাধারন সম্পাদক বেশ নিশ্চিত করেই বলেছিলেন বিরোধী দলকে ২/৩ দিনের মধ্যে আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে, কিন্তু তা আর দেওয়া হলোনা। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতা ও সমর্থকরা এখন সব জায়গায় ভাষণে ও বক্তব্যে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে ঐ সময় বিরোধী দলের নেত্রী ৪ মে শাপলা চত্তরের জনসভায় সরকারকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়ায় আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ আলোচনায় না বসার একটা খোড়া অযুহাত, মাঠে ময়দানের বক্তৃতা / ভাষণে নেতা-নেত্রীরা অনেক কথাই বলে, কিন্তু বাস্তবে ও পর্দার অন্তরালে এর কোন প্রভাব থাকেনা। যে যার অবস্থানে থেকে যত কথাই বলুক যে কোন সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে নেতা-নেত্রীরা একজন আর একজনকে কেক কেটে মূখে তুলে দিতেও দেখা যায়। বি,এন,পি জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকী দিয়ে বহুবার বলেছিল তার দলের কাছে ট্রাম কার্ড আছে, ৩০ এপ্রিলই সরকারের শেষ দিন হবে। কিন্তু এর পরেও সমস্যা সমাধানের জন্য দুই দলের সাধারন সম্পাকরা আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছিল ( ফলাফল না হলেও )। সুতরাং খালেদা জিয়া ৪ মে’র জনসভায় ৪৮ ঘন্টার হুমকী দিয়েছিল এজন্য আর আলোচনা হবেনা এটা কোন অযুহাত বা কারণ হতে পারেনা। যে সংকটকে কেন্দ্র করে আলোচনা বা সমঝোতার প্রয়োজন সে সমস্যার কি সমাধান হয়ে গেছে ? আর ঐ দিন থেকে দেশ ও দেশের পরিস্থিতি আরো ৫ মাস সময় পার করে এসেছে, ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামের পর সরকারের পতনও হয় নাই। কাজেই সংকট সমাধানে এখন ৫ মাস আগের মেঠো বক্তৃতার একটা শব্দকে আলোচনার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাড় করাণোর দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে সংকট সমাধানে সরকারের সদিচ্ছা বা আন্তরিকতার অভাবকেই জনগনের কাছে স্পষ্ট করে তুলছে। শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা এরপর বিরোধী দলকে ফাঁদে ফেলবার জন্য আর এক কৌশল অবলম্বন করেছে। বিরোধী দলকে বার বার বলছে তাদের কোন প্রস্তাব থাকলে সংসদে গিয়ে আলোচনা করতে বা তাদের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করতে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটা সমঝোতায় পৌছানোর বিষয় ও প্রক্রিয়া আর যে কোন বিষয়ে সংসদের আলাপ-আলোচনার প্রক্রিয়া এক জিনিষ নয়। সংসদের কার্যপ্রনালী, প্রস্তাবনা ও এর উপর আলোচনার বিধি-বিধান ও ধরন একটা বিষয়ের উপর সমঝোতা বা ঐক্যমতে পৌছার বিষয় কখনও এক নয় – এটা সাধারন মানুষও বুঝে। যে বিষয়কে নিয়ে এখন সংকট দেখা দিয়েছে তা নিয়ে সংসদের ভেতরে ( সংসদীয় কমিটির সভাকক্ষে ) বা বাইরে বসে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি বা নেতারা প্রথমে আলাপ-আলোচনা করে যদি একটা সমঝোতা বা ঐক্যমতে পৌছাতে পারে তখন তাকে একটা প্রস্তাব বা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হলে সাংসদরা কন্ঠভোটে তা পাশ বা অনুমোদন করবে। এটাই হলো বর্তমান সংকট নিরসনে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংসদ কর্তৃক অনুমোদনের একমাত্র প্রক্রিয়া ( যেভাবে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে করা হয়েছিল )। কিন্তু তা না করে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের লোকজন ও সমর্থকরা বার বার শুধু বলছে বিরোধী দল যাতে সংসদে গিয়ে তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করে। যদি তাই করা হয় তবে সংখ্যাগড়িষ্ঠতার জোরে বিরোধী দলের প্রস্তাবকে এক মিনিটেই কন্ঠভোটে নাকোচ করে বাতিল করে দিবে। আর তখন সরকার বলবে বিরোধী দলের প্রস্তাব “মহান” সংসদও প্রত্যাখ্যান করেছে, সুতরাং বিরোধী দলের নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবীর আর কোন গ্রহনযোগ্যতা নাই। বিরোধী দল সরকারের এ কৌশল বুঝবেনা এটা মনে করা সরকারের বোকার স্বর্গে বাস করার সামিল। ইদানিং শেখ হাসিনা সরকার বিরোধী দলের সাথে আলোচনার জন্য আর এক নতুন শর্তের কথা বলছে, বি,এন,পি যদি যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করে তবে সরকার বিরোধী দলের সাথে এখনও আলোচনা করতে রাজী আছে। এটাও শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী জোটের আর একটা নির্বাচনী কৌশল। জামায়াত ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই বি,এন,পি’র সাথে নির্বাচনী জোট বেঁধেছে এবং ঐ বছরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বি,এন,পি জোটের কাছে পরাজিত হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জামায়াত বি,এন,পি জোটে থেকে নির্বাচন করেছে। জামায়াত এখনও যেহেতু রাজনৈতিক দল হিসেবে বাতিল হয় নাই এবং আগামী নির্বাচনে বি,এন,পি জোটর সাথেই আছে তাই ভোটের রাজনীতির সমীকরনকে মাথায় রেখে শেখ হাসিনা ও তার সরকার নতুন এই কৌশলগত শর্ত উত্থাপন করেছে। যদি আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা আদর্শগত ও নৈতিক কারণে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতকে মনে করত তবে ১৯৯৬ এর নির্বাচনের আগে বি,ন,পি’র বিরুদ্ধে আন্দোলনে জামায়াতকে সহযোগী সংগঠন হিসেবে সাথে নিতনা অথবা ১৯৮২-৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদের ৯ বছরের শাসণকালে এরশাদের মিত্র হিসেবে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধের দল মনে করলে জামায়াতের বিচারের দাবী করত বা ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতের বিচার করা শুরু করত। তাছাড়া হাসিনা সরকারতো এখন জামায়াতের নেতাদের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার করছেই, বিচার কাজ চলমান, সুতরাং বিচারে জামায়াতের যা হবার হবে, আলোচনার শর্ত হিসেবে জামায়াত প্রসঙ্গ টেনে আনা আলোচনায় না বসার আর একটা বাহানা ছাড়া আর কিছু নয়। সোজা কথা হল শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে চায়না বলেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে সে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় আসতে চায়, এজন্য বিরোধী দলের সাথে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন নতুন ও অপ্রত্যাশিত শর্ত দিয়ে কোন আলোচনায় বসতে চাচ্ছেনা। এতে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের মধ্যে একদলীয় স্বৈরশাসনের যে মানষিকতার জন্ম হয়েছিল সে ধারনা থেকে দলটি এখনও বের হয়ে আসতে পারছেনা। তারা চাচ্ছে শুধু আওয়ামী লীগই এ দেশে রাজনীতি করবে এবং আওয়ামী লীগই কেবল এ দেশ শাসন করবে। মূখে গনতন্ত্র বা সংসদীয় গনতন্ত্রের অনুসারী বল্লেও বিরোধী দল বা বিরোধী মতের অস্তিত্বকে আওয়ামী লীগ কখনই মেনে নিতে পারনো। যে কারণে তারা ৪২ বছর পর হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ( যাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসতে না পারে ) ’৭১ সালের মানবতাবিরোধী আপরাধের কথিত অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার করে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রতিপক্ষ বি,এন,পি জোটকে দূর্বল করার কাজে হাত দিয়েছে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের কথাবার্তা ও কার্য-কলাপ দেখে মনে হচ্ছে তাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য হল বি,এন,পিকেও নি:শেষ করে দেওয়া – যাতে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের আর কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ না থাকে এবং আওয়ামী লীগই যেন আজীবন বাংলাদেশ শাসন করতে পারে। যে কারণে আওয়ামী গোষ্টি এখন পর্যন্ত বি,এন,পি’র জন্ম বা অস্তিত্বকেই স্বীকার করতে চায়না। তারা অনবরত বলে বেড়ায় বি,এন,পি’র জন্ম হয়েছে ক্যান্টনমেন্টের গর্ভ থেকে, সামরিক উর্দী পড়া লোকের হাত দিয়ে বি,এন,পি’র জন্ম হয়েছে, অগনতান্ত্রিক ও অবৈধ পথে বি,এন,পি’র জন্ম হয়েছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। যদি আওয়ামী লীগ প্রকৃত গনতন্ত্রে বিশ্বাসী হত তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে যে কোন ঘটনা বা ঘটনাপ্রসূত ফলাফল বা পরিনতিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিত। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব হয়েছিল, জিয়াউর রহমান কোন একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলনা। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বলিষ্ঠ কন্ঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে, স্বাধীনতাযুদ্ধে একজন সেরা বীর যোদ্ধা হিসেবে এবং তারও আগে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সফল ও সাহসী সৈনিক হিসেবে বাংগালীদের কাছে জিয়াউর রহমান নামটি পরিচিতি লাভ করে। এভাবেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে নতুন নতুন নেতা ও নেত্রীর জন্ম হয়ে থাকে। শেখ মুজিবকেও এ দেশের সকল মানুষ চিনতনা, তাকে প্রথমে চিনতে পেরেছে তদানিন্তন পূর্বপাকিস্তানের জাতীয় সংসদে স্পীকারকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনার পর, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী হওয়ার পর, ৬-দফার আন্দোলনের পর, ’৬৯ এর গনআন্দোলনের পর, ’৭০ এর নির্বাচনের পর এবং ৭ মার্চের ভাষণের পর।। কাজেই জন্ম থেকে রাজনৈতিক কর্ম-কান্ডের সাথে যারা জড়িত কেবল তারাই এ দেশে রাজনীতি করতে পারবে বা রাজনৈতিক দল করতে পারবে আর কেউ পারবেনা – এটার কোন যুক্তি থাকতে পারেনা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন আরকানসাস রাজ্যের একজন জারজ সন্তান ছিলেন, এ সত্য গোটা মার্কিনবাসীর কাছে জানা থাকা সত্ত্বেও সেই জারজ সন্তান ক্লিন্টন পরবর্তি জীবনে পর পর ২ বার আমেরিকার অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। এটাই হলো মার্কিন জনগনের প্রকৃত গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের উদাহরন। আমাদের দেশের জনগন বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের এমন গনতান্ত্রিক মানষিকতা কি আছে ? শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য নিজস্ব দলের অধীনে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কেবল আমেরিকা ও অন্যান্য গনতান্ত্রিক দেশের উদাহরন দেওয়া হয়। ঐসব দেশের গনতন্ত্রের আর অন্য কোন অঙ্গনের ধারে কাছেও যেতে চায়না। প্রকৃত গনতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে আওয়ামী লীগকে অবশ্যই বাংলাদেশের জনগনের কাছে বি,এন,পি’র গ্রহনযোগ্যতাকে সম্মান ও বিবেচনা করতে হবে, বি,এন,পি’র জন্ম যার হাত দিয়েই হউক বা যেখান থেকেই হউক এ দেশের অধিকাংশ মানুষের সমর্থন নিয়ে বি,এন,পি ২ বার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে সক্ষম হয়েছিল, বিগত ২৩ বছরে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশী সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। বি,এন,পিই এখন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রধান একটা রাজনৈতিক দল, এটাই হল বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা, আওয়
ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার সরকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও মনে হয় কোনভাবেই ক্ষমতা ছাড়বেনা। সংবিধানের ফাঁক-ফোকর দিয়েই হউক, একতরফা নির্বাচন করেই হউক বা তাদের দলীয় রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জরুরী অবস্থা জারী করে নির্বাচন না দিয়ে আরো দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফন্দি-ফিকিরের চিন্তা-ভাবনাও করছে, কিন্তু জনগন তাকে মেন্ডেট দিয়েছে ৫ বছরের জন্য, ৫ বছরের বেশী সময় নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য মেন্ডেট দেয়নি। শেখ হাসিনা আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা নিজের হাতে রাখার লোভে তার সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে ক্ষমতা ধরে রাখার উগ্র ও জঘন্য মানষিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন আর উদ্বোধন করার আনন্দ ও মজাতেই এখন সে ব্যস্ত, তাই নির্বাচনের আগে ভোটের রাজনীতির অংশ হিসেবে সারা দেশে সে শত শত কথিত উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনের ফিতা কাটার উৎসবে মেতে আছে। নিজের নাম খোদাই করার মত এমন মজা ও আনন্দ পাওয়ার জায়গা ( ক্ষমতা ) থেকে কি কেউ সহসা বিদায় নিতে চায় ? এ কারণে সে বিগত দিনে নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি বা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলের সাথে সংসদের ভেতরে বা বাইরে যে কোন জায়গায় আলোচনা করতে প্রস্তুত আছে বল্লেও তার সরকারের মেয়াদের শেষ মূহুর্তে এসে এখন বিরোধী দলের সাথে আলোচনার কোন আগ্রহ না দেখিয়ে বা আভাস-ইংগিত না দিয়ে পঞ্চোদশ সংশোধনীর আলোকে সংবিধান অনুযায়ী অর্থাৎ বর্তমান সংসদ বহাল রেখে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রী-এম,পিরা স্ব স্ব পদে বহাল থেকেই আগামী জাতীয় নির্বাচন করবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিরোধী দলের দাবী ও এর সমর্থনে ২৪ অক্টোবরের পর থেকে তাদের আন্দোলনের হুমকী এবং এর ফলে দেশে যে নৈরাজ্য, অনিশ্চিত ও সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এ ব্যাপারে দেশের আপমর মানুষ ও জাতিসংঘসহ বিদেশীরাও যখন চরম উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতা-নেত্রীরা একে কোন পাত্তাই দিচ্ছেনা। বরং বিরোধী দলের আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করবে বলে হুমকী দিচ্ছে। সব দলের বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল বা জোটের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে একটা গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সাথে সংলাপ বা সমঝোতার জন্য দেশী বিদেশী সর্বমহলের পক্ষ থেকে বার বার আহ্বান ও তাগিদ জানানো সত্ত্বেও ক্ষমতা ধরে রাখার তীব্র মনোবাসনা পোষণ করার কারণে শেখ হাসিনা সব কিছুকে উপেক্ষা করে তার দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের সাথে এখন আর কোন আলোচনা বা সমঝোতা করতেই নারাজ। সে হয়ত মনে করছে তার অভিপ্রায় বাস্তবায়নে বাঁধা দেওয়ার কোন শক্তি কারো নাই। বি,এন,পিসহ বিরোধী জোট তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হরতাল বা আন্দোলন করলে তাদেরকে আগের মত কঠোর ও নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হবে, তাছাড়া সে ও তার দলের নেতারা মনে করে সরকারের কাছ থেকে দাবী আদায়ের জন্য বিরোধী জোটের সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন করার কোন শক্তি-সামর্থ্য নাই। বিরোধী দলের আন্দোলন দমনের জন্য হাসিনা সরকার তার বর্তমান শাসনামলে পুলিশ বাহিনীকে তার নিজের আজ্ঞাবহ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছে, র‌্যাবকেও একই উদ্দেশ্যে সফলভাবে পুলিশের মত ব্যবহার করতে পারছে। শেখ হাসিনা ও তার সরকার একটা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চায়না বলেই এ ব্যাপারে বিরোধী দলের সাথে আলাপ-আলোচনার বিষয়টাকে কৌশলে এিেড়য়ে যাচ্ছে। প্রথম দিকে আলাপ-আলোচনার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সরকার প্রস্তুত আছে বলে বার বার বলা হলেও আলাপ-আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে কোন আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয় নাই, শুধু মাঠে ময়দানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় আলোচনার জন্য রাজী থাকা ও আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার কথা উচ্চারন করা আর সদিচ্ছা নিয়ে বাস্তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া কখনও এক হতে পারেনা, বিগত দিনগুলোতে আলোচনা না হওয়ার মধ্য দিয়েই তার প্রমান পাওয়া যায়। জাতিসংঘের বিশেষ দূত ঢাকায় এসে সরকার ও বিরোধী দলকে আলোচনায় বসার জন্য তাগিদ দেওয়ার পর সরকারী দলের সাধারন সম্পাদক বেশ নিশ্চিত করেই বলেছিলেন বিরোধী দলকে ২/৩ দিনের মধ্যে আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে, কিন্তু তা আর দেওয়া হলোনা। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতা ও সমর্থকরা এখন সব জায়গায় ভাষণে ও বক্তব্যে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে ঐ সময় বিরোধী দলের নেত্রী ৪ মে শাপলা চত্তরের জনসভায় সরকারকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়ায় আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ আলোচনায় না বসার একটা খোড়া অযুহাত, মাঠে ময়দানের বক্তৃতা / ভাষণে নেতা-নেত্রীরা অনেক কথাই বলে, কিন্তু বাস্তবে ও পর্দার অন্তরালে এর কোন প্রভাব থাকেনা। যে যার অবস্থানে থেকে যত কথাই বলুক যে কোন সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে নেতা-নেত্রীরা একজন আর একজনকে কেক কেটে মূখে তুলে দিতেও দেখা যায়। বি,এন,পি জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকী দিয়ে বহুবার বলেছিল তার দলের কাছে ট্রাম কার্ড আছে, ৩০ এপ্রিলই সরকারের শেষ দিন হবে। কিন্তু এর পরেও সমস্যা সমাধানের জন্য দুই দলের সাধারন সম্পাকরা আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছিল ( ফলাফল না হলেও )। সুতরাং খালেদা জিয়া ৪ মে’র জনসভায় ৪৮ ঘন্টার হুমকী দিয়েছিল এজন্য আর আলোচনা হবেনা এটা কোন অযুহাত বা কারণ হতে পারেনা। যে সংকটকে কেন্দ্র করে আলোচনা বা সমঝোতার প্রয়োজন সে সমস্যার কি সমাধান হয়ে গেছে ? আর ঐ দিন থেকে দেশ ও দেশের পরিস্থিতি আরো ৫ মাস সময় পার করে এসেছে, ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামের পর সরকারের পতনও হয় নাই। কাজেই সংকট সমাধানে এখন ৫ মাস আগের মেঠো বক্তৃতার একটা শব্দকে আলোচনার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাড় করাণোর দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে সংকট সমাধানে সরকারের সদিচ্ছা বা আন্তরিকতার অভাবকেই জনগনের কাছে স্পষ্ট করে তুলছে। শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা এরপর বিরোধী দলকে ফাঁদে ফেলবার জন্য আর এক কৌশল অবলম্বন করেছে। বিরোধী দলকে বার বার বলছে তাদের কোন প্রস্তাব থাকলে সংসদে গিয়ে আলোচনা করতে বা তাদের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করতে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটা সমঝোতায় পৌছানোর বিষয় ও প্রক্রিয়া আর যে কোন বিষয়ে সংসদের আলাপ-আলোচনার প্রক্রিয়া এক জিনিষ নয়। সংসদের কার্যপ্রনালী, প্রস্তাবনা ও এর উপর আলোচনার বিধি-বিধান ও ধরন একটা বিষয়ের উপর সমঝোতা বা ঐক্যমতে পৌছার বিষয় কখনও এক নয় – এটা সাধারন মানুষও বুঝে। যে বিষয়কে নিয়ে এখন সংকট দেখা দিয়েছে তা নিয়ে সংসদের ভেতরে ( সংসদীয় কমিটির সভাকক্ষে ) বা বাইরে বসে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি বা নেতারা প্রথমে আলাপ-আলোচনা করে যদি একটা সমঝোতা বা ঐক্যমতে পৌছাতে পারে তখন তাকে একটা প্রস্তাব বা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হলে সাংসদরা কন্ঠভোটে তা পাশ বা অনুমোদন করবে। এটাই হলো বর্তমান সংকট নিরসনে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংসদ কর্তৃক অনুমোদনের একমাত্র প্রক্রিয়া ( যেভাবে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে করা হয়েছিল )। কিন্তু তা না করে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের লোকজন ও সমর্থকরা বার বার শুধু বলছে বিরোধী দল যাতে সংসদে গিয়ে তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করে। যদি তাই করা হয় তবে সংখ্যাগড়িষ্ঠতার জোরে বিরোধী দলের প্রস্তাবকে এক মিনিটেই কন্ঠভোটে নাকোচ করে বাতিল করে দিবে। আর তখন সরকার বলবে বিরোধী দলের প্রস্তাব “মহান” সংসদও প্রত্যাখ্যান করেছে, সুতরাং বিরোধী দলের নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবীর আর কোন গ্রহনযোগ্যতা নাই। বিরোধী দল সরকারের এ কৌশল বুঝবেনা এটা মনে করা সরকারের বোকার স্বর্গে বাস করার সামিল। ইদানিং শেখ হাসিনা সরকার বিরোধী দলের সাথে আলোচনার জন্য আর এক নতুন শর্তের কথা বলছে, বি,এন,পি যদি যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করে তবে সরকার বিরোধী দলের সাথে এখনও আলোচনা করতে রাজী আছে। এটাও শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী জোটের আর একটা নির্বাচনী কৌশল। জামায়াত ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই বি,এন,পি’র সাথে নির্বাচনী জোট বেঁধেছে এবং ঐ বছরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বি,এন,পি জোটের কাছে পরাজিত হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জামায়াত বি,এন,পি জোটে থেকে নির্বাচন করেছে। জামায়াত এখনও যেহেতু রাজনৈতিক দল হিসেবে বাতিল হয় নাই এবং আগামী নির্বাচনে বি,এন,পি জোটর সাথেই আছে তাই ভোটের রাজনীতির সমীকরনকে মাথায় রেখে শেখ হাসিনা ও তার সরকার নতুন এই কৌশলগত শর্ত উত্থাপন করেছে। যদি আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা আদর্শগত ও নৈতিক কারণে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতকে মনে করত তবে ১৯৯৬ এর নির্বাচনের আগে বি,ন,পি’র বিরুদ্ধে আন্দোলনে জামায়াতকে সহযোগী সংগঠন হিসেবে সাথে নিতনা অথবা ১৯৮২-৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদের ৯ বছরের শাসণকালে এরশাদের মিত্র হিসেবে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধের দল মনে করলে জামায়াতের বিচারের দাবী করত বা ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতের বিচার করা শুরু করত। তাছাড়া হাসিনা সরকারতো এখন জামায়াতের নেতাদের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার করছেই, বিচার কাজ চলমান, সুতরাং বিচারে জামায়াতের যা হবার হবে, আলোচনার শর্ত হিসেবে জামায়াত প্রসঙ্গ টেনে আনা আলোচনায় না বসার আর একটা বাহানা ছাড়া আর কিছু নয়। সোজা কথা হল শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে চায়না বলেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে সে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় আসতে চায়, এজন্য বিরোধী দলের সাথে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন নতুন ও অপ্রত্যাশিত শর্ত দিয়ে কোন আলোচনায় বসতে চাচ্ছেনা। এতে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের মধ্যে একদলীয় স্বৈরশাসনের যে মানষিকতার জন্ম হয়েছিল সে ধারনা থেকে দলটি এখনও বের হয়ে আসতে পারছেনা। তারা চাচ্ছে শুধু আওয়ামী লীগই এ দেশে রাজনীতি করবে এবং আওয়ামী লীগই কেবল এ দেশ শাসন করবে। মূখে গনতন্ত্র বা সংসদীয় গনতন্ত্রের অনুসারী বল্লেও বিরোধী দল বা বিরোধী মতের অস্তিত্বকে আওয়ামী লীগ কখনই মেনে নিতে পারনো। যে কারণে তারা ৪২ বছর পর হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ( যাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসতে না পারে ) ’৭১ সালের মানবতাবিরোধী আপরাধের কথিত অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার করে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রতিপক্ষ বি,এন,পি জোটকে দূর্বল করার কাজে হাত দিয়েছে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের কথাবার্তা ও কার্য-কলাপ দেখে মনে হচ্ছে তাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য হল বি,এন,পিকেও নি:শেষ করে দেওয়া – যাতে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের আর কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ না থাকে এবং আওয়ামী লীগই যেন আজীবন বাংলাদেশ শাসন করতে পারে। যে কারণে আওয়ামী গোষ্টি এখন পর্যন্ত বি,এন,পি’র জন্ম বা অস্তিত্বকেই স্বীকার করতে চায়না। তারা অনবরত বলে বেড়ায় বি,এন,পি’র জন্ম হয়েছে ক্যান্টনমেন্টের গর্ভ থেকে, সামরিক উর্দী পড়া লোকের হাত দিয়ে বি,এন,পি’র জন্ম হয়েছে, অগনতান্ত্রিক ও অবৈধ পথে বি,এন,পি’র জন্ম হয়েছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। যদি আওয়ামী লীগ প্রকৃত গনতন্ত্রে বিশ্বাসী হত তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে যে কোন ঘটনা বা ঘটনাপ্রসূত ফলাফল বা পরিনতিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিত। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব হয়েছিল, জিয়াউর রহমান কোন একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলনা। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বলিষ্ঠ কন্ঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে, স্বাধীনতাযুদ্ধে একজন সেরা বীর যোদ্ধা হিসেবে এবং তারও আগে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সফল ও সাহসী সৈনিক হিসেবে বাংগালীদের কাছে জিয়াউর রহমান নামটি পরিচিতি লাভ করে। এভাবেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে নতুন নতুন নেতা ও নেত্রীর জন্ম হয়ে থাকে। শেখ মুজিবকেও এ দেশের সকল মানুষ চিনতনা, তাকে প্রথমে চিনতে পেরেছে তদানিন্তন পূর্বপাকিস্তানের জাতীয় সংসদে স্পীকারকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনার পর, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী হওয়ার পর, ৬-দফার আন্দোলনের পর, ’৬৯ এর গনআন্দোলনের পর, ’৭০ এর নির্বাচনের পর এবং ৭ মার্চের ভাষণের পর।। কাজেই জন্ম থেকে রাজনৈতিক কর্ম-কান্ডের সাথে যারা জড়িত কেবল তারাই এ দেশে রাজনীতি করতে পারবে বা রাজনৈতিক দল করতে পারবে আর কেউ পারবেনা – এটার কোন যুক্তি থাকতে পারেনা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন আরকানসাস রাজ্যের একজন জারজ সন্তান ছিলেন, এ সত্য গোটা মার্কিনবাসীর কাছে জানা থাকা সত্ত্বেও সেই জারজ সন্তান ক্লিন্টন পরবর্তি জীবনে পর পর ২ বার আমেরিকার অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। এটাই হলো মার্কিন জনগনের প্রকৃত গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের উদাহরন। আমাদের দেশের জনগন বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের এমন গনতান্ত্রিক মানষিকতা কি আছে ? শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য নিজস্ব দলের অধীনে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কেবল আমেরিকা ও অন্যান্য গনতান্ত্রিক দেশের উদাহরন দেওয়া হয়। ঐসব দেশের গনতন্ত্রের আর অন্য কোন অঙ্গনের ধারে কাছেও যেতে চায়না। প্রকৃত গনতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে আওয়ামী লীগকে অবশ্যই বাংলাদেশের জনগনের কাছে বি,এন,পি’র গ্রহনযোগ্যতাকে সম্মান ও বিবেচনা করতে হবে, বি,এন,পি’র জন্ম যার হাত দিয়েই হউক বা যেখান থেকেই হউক এ দেশের অধিকাংশ মানুষের সমর্থন নিয়ে বি,এন,পি ২ বার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে সক্ষম হয়েছিল, বিগত ২৩ বছরে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশী সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। বি,এন,পিই এখন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রধান একটা রাজনৈতিক দল, এটাই হল বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা, আওয় জাহিদ হাসান

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •