জুড়ীতে পোষা হাতির আক্রমনে এক ব্যক্তির মৃত্যু
বিশেষ প্রতিনিধি॥ জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নে হাতির আক্রমনে মঙ্গল খাড়িয়া (৪৫) নামক এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
৩ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে ইউনিয়নের পুটিছড়া বন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিনের কয়েকটি পোষা হাতি জুড়ী রেঞ্জের আওতাধীন পুটিছড়া ও আশপাশের বনে বিচরণ করে। হাতির মালিক গাছ টানার কাজে এদেরকে ব্যবহার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মঙ্গল ও একই এলাকার কৃষ্ন চাষা (৪০) স্থানীয় এলাপুর বাজার থেকে খরচপাতি কিনে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পুটিছড়া এলাকায় পৌঁছালে পেছনদিক থেকে ছুটে আসা একটি পুরুষ হাতি তাঁদের ধাওয়া করে। এ সময় মঙ্গল পা পিছলে কাঁচা রাস্তায় পড়ে গেলে তাঁকে পা দিয়ে চাপা দেয় হাতি। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
কৃষ্ন আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে গিয়ে জমির নিচু স্থানে লুকিয়ে পড়েন। পরে হাতিটি পুটিছড়া বনের ভেতর দিয়ে চলে যায়। এদিকে মঙ্গলের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হাতির মালিকপক্ষ, পুলিশ ও বন বিভাগের লোকজন সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে যান। পরে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় হাতির মালিকপক্ষ ক্ষতিপূরণ হিসেবে মঙ্গলের পরিবারকে এক লাখ টাকা দিতে সম্মত হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর উদ্দিন বলেন, রোববার রাতে দুর্ঘটনার পর এলাকার লোকজন হাতির আক্রমণের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটান। হাতিটি যেকোনো সময় লোকালয়ে নেমে আবারও কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
হাতিটির মালিক মঈন উদ্দিনের ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী মামুনুর রশীদ বলেন, মোস্ত হয়ে গেলে পুরুষ হাতিরা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে মাহুত (হাতি দেখাশোনায় নিয়োজিত ব্যক্তি) চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, নিহত মঙ্গলের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে তাঁর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, মঙ্গলের দুই স্ত্রী ও সাত জন সন্তান। পরিবারটি খুবই গরিব। মামলা চালানোর মতো আর্থিক অবস্থা না থাকায় পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে আমরা আপসে বিষয়টির সমাধান করে ফেলেছি।



মন্তব্য করুন