মৌলভীবাজারের ঈদ বাজার দখলে রেখেছে ভারতীয় ‘সারারা-গারারা’

স্টাফ রিপোর্টার॥ গেল ক’দিন থেকে জমজমাট এজেলার ঈদ বাজার। ঈদকে সামনে রেখে রোজার প্রথম দিকে ছোট বড় মার্কেটগুলোতে ক্রেতা বিক্রেতার ব্যস্ততা তেমন একটা পরিলক্ষিত হয়নি। তবে এখন সময় যত যাচ্ছে ততই বেড়ে চলেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। এরই সাথে বাড়ছে বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। ফুরসদ নেই কারো। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। তাই একসাথে বাড়তি ক্রেতাদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে শেষ সময়ে এসে ঈদ বাজার জমে উঠায় বেজায় খুশি বিক্রেতারা। আর ক্রেতারা পচন্দের কাপড়,জুতা অরনামেন্টস আর প্রসাধনী পেয়ে মুগ্ধ। প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের ঈদের বাজার বরাবরই দখলে থাকে দেশীও পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় ও বিদেশী পোশাক। দোকানীরা জানালেন এবারো তরুণীদের আকর্ষণীয় পোশাকের তালিকায় রয়েছে বোম্বের সারারা,গারারা ড্রেস।
মৌলভীবাজার জেলা শহরের সব শপিং মলে এখন নারী,পুরুষের কিংবা শিশুর উপচে পড়া ভীড়। সবাই ঈদের কেনাকাটা ব্যাস্ত। এবারের বাজারে রয়েছে বিদেশী ব্যান্ডের ব্যতিক্রমী আকর্ষণ। মৌলভীবাজার চৌমোহনা থেকে কুসুমবাগ এম সাইফুর রহমান রোডের সকল শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। এক জায়গায় দেশী বিদেশী সব পণ্য কেনাকাটা করতে জেলার মধ্যে সবচেয়ে পচন্দের শপিং মলগুলোর মধ্যে রয়েছে এমবি ও বিলাস।
জেলা শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কে পাশাপাশি দূরত্বে থাকা দু’টি প্রতিষ্ঠানে গুণগত পণ্যের কারনেই মূলত আকৃষ্ট হন ক্রেতারা। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীরা এই দু’টি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে দেশ ও বিদেশী বাহারী রকমারী নানা পণ্যের সমাহারের কারনেই কেনাকাটায় পচন্দ করেন। তাই বছর জুড়েই এই দুই প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের ভীড় থাকে লক্ষ্যণীয়। আর ঈদ ও পূজোঁর সময় কেনাকাটা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে এই দুই শপিংমলে।
এমবির সত্তাধিকারী ডা: আব্দুল আহাদ ও কামরান আহমদ আর বিলাসের সত্তাধিকারী সুমন আহমদ ও সুহাদ আহমদ বলেন ঐতিহ্য ধরে রাখতে আর ক্রেতাদের চাহিদার যোগান দিতে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে বছর জুড়ে দেশ ও বিদেশী নানা পণ্যের যোগান রাখি। ঈদ পূজোঁয় নতুন নতুন পণ্যের চাহিদা বাড়ে। আমরাও ক্রেতাদের চাহিদার যোগান দিয়ে সেবার গুণগত মান রক্ষায় সচেষ্ট থাকি। জানা যায় এবারের কালেকশনে মেয়েদের ড্রেসের মধ্যে সারারা, বেলবেট, গারারা, নজর, উপামি, বেসিদা, রাজকুমারী নামের পোষাক গুলো আকর্ষণীয়।
সারার একটির দাম ২০ হাজার টাকা। বেলবেট ১২ হাজার আর গারার দাম সাড়ে ১৮ হাজার। এগুলো ভারতীয় বোম্বের পণ্য। রাউন্ডে ড্রেস একটার দাম পড়েছে সাড়ে ৩৬ হাজার। এছাড়াও দেড় থেকে চার হাজার টাকার ভীতর রয়েছে ক্রপ টপ ও লেহেঙ্গা ড্রেস। শাড়ির মধ্যে মুঙ্গাই, ডুলা, টিস্যু, মসলিন, নেট, ও কাশ্মেরী বেশ আকর্ষণীয়। রয়েছে চেন্নাই কাতান, গুজরাটি কাতানসহ নামীদামি সব শাড়ী। এগুলোর দাম ২ হাজার থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত। ছেলেদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় শার্ট, পেন্ট ও পাঞ্জাবী কালেকশন। একেকটি শার্ট ১ হাজার থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত । কটন ফ্রেব্রিক্স, কটন সিল্ক, তসর লিলেনের পাঞ্জারি বেশি চলছে। এগুলো দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
জুতার বাজারে রয়েছে নামী-দামী ব্রান্ডের জুতা। এগুলোর মূল্য ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। এছাড়াও রয়েছে কসমেটিক্সের বিশাল সম্ভার। ফাহাদ, সাফুল ও তামিম তিন তরুণ এসেছেন এমবি শপিংমলে তারা জানালেন শার্ট পেন্ট ও পাজামা ও পাঞ্জাবী সব দেখছেন। কালেকশন ভালো। এখন পচন্দের পালা।
বিলাস শপিং মলে এসেছেন শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার বাসিন্দা সায়েমা সুলতানা,সাদিয়া আফরিন, ফাতেমা জান্নাত। তাদের সাথে এসেছেন তাদের লন্ডন প্রবাসী দুই ভাগনি তাবাসুম তামান্না ও ফাহমিদা তারিন। তারা জানালেন ঈদের কালেকশনগুলো ঘুরে দেখেছেন। বিদেশী অনেক ভালো পণ্যও পেয়েছেন। ঈদের জন্য নতুন নতুন ভালো কালেকশনও আছে। দুটি ড্রেস কিনেছেন। আরো কয়েকটি কিনবেন। এছাড়াও শহরের জুলিয়া শপিং সিটি, আরকে কমপ্লেক্র, সেভেন প্লাজা, আশরাফ সেন্টারসহ মার্কেট গুলোতে কাপড়ের বেচা কেনা ভালোই চলছে। ট্রেডিশন,নাইক,এ,কে কালেকশন, আলিসান, স্টাইল পয়েন্ট, জেন্স কর্ণার, ভাইব্রেন্ট, ডিসকভারী, দরজী বাড়ি, স্টাইল পয়েন্টসহ জেন্টস কর্ণারগুলোতেও ক্রেতাদের ভীড় লক্ষণীয়। টেইলার্স ও বুটিক হাউজগুলোতেও ক্রেতাদের ভীড় চোখে পড়ার মত। ক্রেতাদের চাহিদার যোগান দিতে নির্ঘুম রাত কাটছে দর্জিপাড়ার। জুয়েলারী দোকানগুলোও বাদ পড়ছেনা কেনাকাটার তালিকায়। এদিকে বড় বিপণী ছাড়াও ছোট ও মাঝারি গুলোতেও ভীড়ও লক্ষ্যণীয়। এগুলোতে মধ্যবিত্তরা ভীড় করছেন বেশি। শহরের সাইফুর রহমান সড়কের পাশেই এই দোকান গুলোর অবস্থান। বিত্তবানের জন্য বড় দোকান থাকলেও শহরের দরিদ্র লোকদের ঈদের বাজারের জন্য রয়েছে সড়কের পাশে বেশ কিছু ভ্রাম্যমান দোকান। ফুটপাত আর হকার। তাদের চাহিদা অনুযায়ী রয়েছ বিভিন্ন ধরনের কাপড়। শহরের সোনালী ব্যাংকের অপর পাশে রয়েছে এ সকল ভ্রাম্যমান দোকান। দরিদ্র মানুষের ঈদের বাজারের ঠিকানা এইসব দোকান ও হকার।



মন্তব্য করুন