চায়ের ন্যায্যমূল্য ও চা শিল্পের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

June 20, 2019,

স্টাফ রিপোর্টার॥ চা শিল্পের সমস্যা ও উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তোরণে ও এ শিল্প রক্ষায় সরকারের কাছে নানা দাবি দাওয়া নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। নিজ বাগানের মালিকদের পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন হামিদিয়া টি কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার মো: সিরাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের হল রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন এ অঞ্চলে চা শিল্পের ইতিহাস ১৬৫ বছরের। ১৭০ টি চা বাগান নিয়ে এশিল্প নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে নানা সমস্যা ও সম্ভাবনায় কোন রকম ঠিকে আছে। কিন্তু নানা কারনে এখন সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এই শিল্প ঠিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। গার্মেন্টস শিল্পের পর পরই চা এদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক অর্থ আমদানীকারক ফসল। কিন্তু সে অনুযায়ী এশিল্প সরকারী সুযোগ সুবিদা পায় কম। ১৯৫৭ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা শিল্পের ইতিহাসে প্রথম বাঙ্গালি হিসেবে টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৫১ সনে তৎকালীন পাকিস্থানে পাকিস্থান টি বোর্ড গঠিত হয়েছিল। ১৯৫৭ সালে পাকিস্থান টি রিসার্চ স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। ১৯৭৩ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বিটিআরআই। কিন্তু বাস্তব সত্য হল চা শিল্পের কল্যাণে এসব প্রতিষ্ঠান থাকার পরও ঋণের দায়ে অনেক চা বাগানই বন্ধ হচ্ছে। তিনি বলেন ৪,১৫,৬২২ জন রেগুলার ও ক্যাজুয়াল ৫,৩৫,০০০ জন শ্রমিক রয়েছেন। ১,১৫,৭০৮ হেক্টর ভূমি চা চাষের জন্য লীজ দিয়েছেন সরকার। এর মধ্যে ৫৯,৬০৯ হেক্টর ভূমি চা চাষে ব্যবহ্রত হচ্ছে। অবশিষ্ট ভূমি অন্যান্য প্রয়োজনী কাজে ব্যবহ্রত হচ্ছে। ২০১৪ সালে চা উৎপাদন হয়েছিল ৬৪ মিলিয়ন কেজি। ২০১৬ সালে ৮৫ মিলিয়ন কেজি রের্কড পরিমান উৎপাদ হয়। এই উৎপাদন বাড়লেও কোন মালিকই সরকারী সহায়তা কিংবা পুরষ্কৃত হননি। কিন্তু এ শিল্পের বিকাশমান অগ্রযাত্রা ঠিকিয়ে রাখতে পুরস্কার সরকারী সহযোগীতা বা অনুপ্রেরণা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন চায়ের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ,চা শিল্পের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও সিন্ডিকেটদারী টি টেস্টার ও প্লান্টারদের বাদ দিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চায়ের মান নির্ণয়,উৎপাদন বেশি হলে পুরস্কৃত করা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করার জোর দাবি তোলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলাম বলেন প্রতি কেজি চায়ের উৎপাদন খরচ ১৬০-১৭০ টাকা। চলতি বছরে সর্বশেষ নিলামে ১৪৩ টাকা থেকে ১৮০ টাকা দর মিলে। এতে চা শিল্পের মারাত্মক লোকসান হচ্ছে। তিনি চায়ের গুনগত মান বেদে ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি করেন। তা না হলে মালিক পক্ষ উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে এবং এশিল্পও চরম হুমকিতে পড়বে। এ অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষন করে বলেন, চা মন্ত্রণালয় স্থাপন করে এই সকল সিন্ডিকেটসহ সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলে বাংলাদেশের চা আবারও রপ্তানী হবে। এ থেকে প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন সম্ভব হবে। কর্মসংস্থানসহ ঠিকে থাবে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠী। অনুকুল আবহাওয়া থাকলে এ বছরেও চায়ের উৎপাদন ১০০ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে ছিলেন হামিদিয়া টি কোম্পানীর সহকারী ব্যবস্থাপক রাহেল আহমদ চৌধুরী, প্রধান করণীক আনছার আহমদ, সুপারভাইজার জয়নাল আবেদীন, এইচ টি সি জয়ন্ত দেব প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com