লাইব্রেরী বন্ধ থাকায় হতাশ বই প্রেমীরা : চান নবাগত ডিসি’র হস্তক্ষেপ

July 4, 2019,

আব্দুল কাইয়ুম॥ বই জ্ঞানের প্রতীক,তাই জ্ঞানের আলো জ্বালাবার দরজাটি বন্ধ থাকায় হতাশ অসংখ্য বই প্রেমীরা। কয়েকদিন যাবত সোস্যাল মিডিয়া ও অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর কার্যক্রম বন্ধের খবরে শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতি অণুরাগী বই প্রেমী,জ্ঞান পিপাষু মানুষজনকে করেছে চরম হতাশ, বাড়ছে সমালোচনা আর তীব্র ক্ষোভ। এমন ঘটনা জেলাবাসীর জন্য চরম লজ্জার।

জানা যায় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মৌলভীবাজার শহরের একমাত্র আলোর আঙিনাটির পাঠচক্রসহ সকল কার্যক্রম বিগত ৩ মাস ধরে পুরো দমে বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় লাইব্রেরীর প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা আর ভিতরের ফ্লোরে পড়ে আছে একটি সাদাকালো পত্রিকার সংখ্যা। দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকার ফলে লাইব্রেরীর প্রধান ফটকের সামনের আঙিনাও জমে আছে শেওলা। প্রতিদিনই এই জ্ঞানের রাজ্যে বই প্রেমি পাঠকরা এসে জ্ঞানের দরজা বন্ধ দেখে চরম ক্ষাভ নিয়ে হতাশ মনে ফিরে যাচ্ছেন। এতে করে অবহেলা ও অযত্মে ইতি মধ্যে নষ্ট হয়েছে পুরানো অনেক দূর্লভ বই।

এমন প্রেক্ষাপটে পাবলিক লাইব্রেরীর অচলবস্থা নিরসনে মৌলভীবাজারে সদ্য যোদানকৃত নবাগত জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে সোমবার ১ জুলাই সকালে মৌলভীবাজারের প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অনেক সিনিয়র সাংবাদিক নতুন জেলা প্রশাসকের কাছে জেলার নানান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করলে সেখানে পাবলিক লাইব্রেরীর অচলবস্থার বিষয়টি তুলে ধরলে নবাগত জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন পাবলিক লাইব্রেরী অতি শীগ্রই চালরু ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিবীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আজিজুর রহমান বলেন পাবলিক লাইব্রেরী যেহেতু জেলা পরিষদের সম্পত্তি তাই এটি চালুর উদ্যেগ আমি শীগ্রই নেব।

মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী চালুর বিষয়ে জানতে নবাগত জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি নতুন ভাবে অফিসের সব কিছু বুঝে নিচ্ছি, আশা করি খুব শীগ্রই পাবলিক লাইব্রেরী চালুর বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।

মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর সর্বশেষ আহবায়ক কমিটির যুগ্ন আহবায়ক নাট্যজন কবি আব্দুল মতিন বলেন মূলত পাবলিক লাইব্রেরীর অচলবস্থার আসল কারন হল আহবায়ক ও সদস্য সচিব দীর্ঘদিন যাবত কোন বৈঠক না ডাকার কারনে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 এবিষয়ে কবি সৌমিত্র দেব বলেন পাবলিক লাইব্রেরী বন্ধ থাকার বিষয়টি আমাকে ব্যতিত করেছে , আমি ঐতিহ্যবাহী এই লাইব্রেরী যাতে খুব তারাতাড়ি চালু হয় সে বিষয়ে চেষ্টা চালাবো।

এদিকে ২০১০ সালে পাবলিক লাইব্রেরীর কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নাম মাত্র আহ্বায়ক কমিটি আছে। শুধু তাইনা ২০১১ সালে আহবায়ক কমিটি নিয়ে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। দীর্ঘ ৬ বছর মামলা চলার পর ২০১৬ সালে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য: ৫২’র ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ৪ বছর পর অর্থাৎ ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী। ষাট বছরের বেশি সময় ধরে এ লাইব্রেরী মৌলভীবাজারের মুক্তবুদ্ধি ও শিল্প সাহিত্য চর্চার অনন্য কেন্দ্রস্থল হিসেবে ভুমিকা পালন করছে যুগযুগ ধরে। শহরের হাজার হাজার মানুষের শৈশব ,শিক্ষা জীবন ও কর্মজীবনের নানান সময়ের স্মৃতিঘেরা এই লাইব্রেরী।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com