অকালে ঝরে গেলেন সংগীত শিল্পী রাণী নাগ, অনাথ হলো দু’টি অবুঝ শিশু

July 28, 2021, এই সংবাদটি ২৪০ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ পৃথিবীর আলো-বাতাসে খানিক বেড়ে ওঠতে না ওঠতেই পিতৃহারা হলেন শিশু সৃষ্টি ও দৃষ্টি। এর পাঁচ বছরের মধ্যে মা সংগীত শিল্পী ও স্থানীয় পর্যায়ের নাট্যভিনেত্রী শিল্পী রাণী নাগ (৩৩) অকালে চির বিদায় নিলেন।
২৬ জুলাই সোমবার কিডনি সমস্যাজনিত জটিল রোগ ভুগে চলে গেলেন পরপারে। তারা আজ পিতৃহারার পর মাতৃহারা হলো। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরভাগ গ্রামের পিতার বাড়িতে শিল্পী রাণী শেষ নি:শ^াস করলে অবুঝ শিশু দু’টি অকুল সাগরে পড়ে। শোকের কাতরে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
মৃতের পিতার বাড়ি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে শিল্পী রাণী নাগের বিয়ে হয়েছিল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার দত্তগ্রামে। বিয়ের বছর কয়েক পরে মারা যান তার স্বামী। দু’টি অবুঝ মেয়ে শিশুকে নিয়ে পিতার বাড়ির সহযোগিতায় চলছিল তার জীবন সংগ্রাম। এর মাঝে বছর দেড়েক আগে ডাক্তারি পরীক্ষায় ধরা পড়ে তার দু’টি কিডনিই অকার্যকর হয়ে গেছে। আর্থিক দৈন্যতায় তখন তার ব্যয় বহুল চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এ সময় তার চিকিৎসা সহায়তায় সদর উপজেলার শেরপুর শ্রীহট্ট সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে স্থানীয় আজাদ বখত উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে গত ৩ মার্চ চ্যারিটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। মৌলভীবাজারের বরণ্যে শিল্পীরা এতে সংগীত পরিবেশন করেন। এ থেকে আয়ের এক লাখ ১৫ হাজার টাকা রোগাক্রান্ত শিল্পীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তা দিয়ে ঢাকার শ্যামলীর একটি হাসপাতালে তিনি বেশ কিছু দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তিনি পিতার বাড়িতে শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করলেও গত সোমবার দিবাগত রাতে তাকে স্বামীর বাড়ির বানিয়াচঙের দত্তগ্রামের শ্মশানঘাটে দাহ করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের চেনামুখ শিল্পী আজ চির বিদায় নিলেন সবাইকে রেখে। শিল্পী দম্পতির অবুঝ দু’টি শিশু সন্তান সৃষ্টি (১৩) ও দৃষ্টি (৭) পিতা-মাতা হারা হয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় পড়েছে। সমাজের বিত্তবানরা তাদের সহযোগিতায় হাত বাড়ালে শিশু দু’টির জীবন শঙ্কা মুক্ত হয়ে সুন্দর আগামীর পথে পা বাড়ানোর ভিত্তি খুঁজে পেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •