কঠোর লকডাউনে বিপাকে জুড়ীর নিন্মআয়ের মানুষ

July 29, 2021, এই সংবাদটি ১৪০ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় প্রতি দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। জুড়ীতে প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের হার ৭০% ছুঁই ছুঁই। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চলছে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন। কঠোর লকডাউনে নিম্নআয়ের মানুষ পড়েছে চরম দূর্ভোগে।
শুক্কুর আলী একজন রিকশাচালক। লকডাউনের পূর্বে প্রতিদিন মালিককে দিয়ে ৩০০-৪০০ টাকা আয়ে ভালোই চলছিল তার ৪ সদস্যের পরিবার। কিন্তু সরকার ঘোষিত লকডাউনে রিকশা চললেও নেই আগের মত আয় রোজগার। আয়-রোজগার তেমন না থাকায় সংসার চালাতে বর্তমানে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শুধু শুক্কুর আলী নয়, লকডাউন এর কারণে রিকশাচালক ও বিভিন্ন যানবাহনের শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষজন পড়েছে মহা বিপদে। বিশেষ করে সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকায় এসব যানবাহনের সাথে জড়িত শ্রমিকেরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি সংকটে। আয়-রোজগার একেবারে কমে যাওয়ায় নিম্নআয়ের এসব মানুষের চোখে মুখে এখন হতাশার ছাপ। নিম্নআয়ের মানুষের কপালে এখন শুধুই দুশ্চিন্তার ভাঁজ।
রিকশা চালক জামিন মিয়া ও লিল মিয়া জানান, লকডাউনের কারণে তেমন যাত্রী নেই। সারাদিন রিকশা চালানোর পরও চাল ডাল কেনার টাকাও হচ্ছে না। গতবারের লকডাউনে ধনীরা ও সরকার খাবার ও অর্থ দিলেও বর্তমানে এখনো কেউ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। ফলে বর্তমানে আমরা চরম বেকায়দায় আছি পরিবার-পরিজন নিয়ে।
লকডাউনের কারণে নিম্নআয়ের মানুষের মুখে এখন শুধুই হতাশার চিহ্ন। উপজেলার হতদরিদ্র অসহায় মানুষ এই লকডাউনে ভুগছে চরম খাদ্য সংকটে। লকডাউনের ফলে বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ জনের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরে নেই খাবার। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছেন তারা। লজ্জায় চাইতেও পারছেন না কারো কাছে।
উল্লেথ্য, ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই এবং সর্বশেষ ২৩ জুলাই থেকে চলছে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন। লকডাউনের সময় যত বাড়ছে, ততোই খাদ্য সংকটে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষেরা। সকালে ঘর থেকে কাজের সন্ধানে বের হয়ে সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর দিন শেষে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটানোই হলো নিম্নআয়ের পরিবারের কর্তার প্রধান কাজ। রাতে ঘুমানো, পরদিন আবারও কাজে যাওয়া এই টেনশন যেন তাদের নিত্যদিনের। কঠিন জীবন চক্রের মধ্যে থাকা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যা এদেশে নেহাত কম নয়। যাদের নেই কোনো সঞ্চয় বরং আছে ঋণের বোঝা! এমন অবস্থায় সরকারসহ বিত্তবানদের ত্রাণ সহায়তা এখন নিম্নআয়ের মানুষের নিশ্চুপ আকুতি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক বলেন, বর্তমান কঠোর লকডাউনে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা ইতিমধ্যে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। আমরা তালিকা করে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেবো। এছাড়াও যাদের ঘরে খাবার নেই তারা ৩৩৩ নম্বরে কল করলে আমরা খাবার ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •