কমলগঞ্জের শমশেরনগরে ফ্রান্স প্রবাসীর একের পর এক সাজানো মিথ্যে ও হয়রানিমূলক মামলা : সুবিচারের চেয়ে নির্যাতিত পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

May 10, 2016, এই সংবাদটি ৪০৭ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে এক ফ্রান্স প্রবাসী পরিবারের একের পর এক সাজানো মিথ্যে ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে সুবিচারের দাবি জানাচ্ছে নির্যাতিত পরিবার।
১০ মে মঙ্গলবার দূপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নির্যাতিত আব্দুল কাইয়ূম এর বড়বোন মাহবুব আরা।

IMG_5208
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের ২নং বিমান বন্দর সড়ক আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। আমরা তিন ভাই তিন বোন। আমার ছোট ভাই আব্দুস সালাম কুলাউড়া উপজেলার রবির বাজারের দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার কলেজ শাখার কৃষি বিজ্ঞানের একজন প্রভাষক। আরেক ছোট ভাই আব্দুল কাইয়ূম শমশেরনগর বাগান সড়কস্থ ফ্রান্স প্রবাসী ফয়জুল হক শামছুর মালিকানাধীন মার্কেটে ঘর ভাড়া নিয়ে অলিম্পিক বিস্কুট কোম্পানীর কমলগঞ্জ উপজেলার পরিবেশক হিসাবে নিজ প্রতিষ্ঠান নেহাল ডিষ্ট্রিভিউশন-এর মাধ্যমে সুনামের সাথে ব্যবসা করছিলো। দিনে দিনে তার ব্যবসায় উন্নতি হতে থাকে। মৌখিকভাবে ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকা নিরাপত্তা অর্থ দিয়ে ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। আকস্মিকভাবে ভবন মালিক নিরাপত্তা অর্থ বাড়িয়ে ৫,০০,০০০(পাঁচ লাখ) টাকা করার নির্দেশনা দেন। এতে আমার ছোট ভাই আব্দুল কাইয়ূমের সাথে ভবন মালিকের বাবা হাজী মোতালেব সাহেবের বিরোধ সৃষ্টি হয়। আমার ভাই আকস্মিকভাবে দোকানের বাড়ানো নিরাপত্তা অর্থ দিতে আপত্তি জানায়। পরবর্তীতে ঘরের মালিক ফয়জুল হক শামছুলের বাবা ও আত্মীয় স্বজনরা দোকান ছেড়ে দিতে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে।
বাবা হাজী মোতালেবের অসুস্থ্যতার নাম করে ০৬/০৯/২০১৫ ইং তারিখ রাত সাড়ে ৯টায় আমার ছোট ভাই ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ূমকে ঘর মালিক প্রবাসী ফয়জুল হক শামছুলের ভাগ্নে রুবেল মিয়া (২৮) এর মাধ্যমে দোকানের পিছনে বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। বাসার বসার ঘরের দরজা অতিক্রম করে ভিতরে প্রবেশকালে আব্দুল কাইয়ূমের চোখে স্প্রে মেরে সাথে সাথে তার হাত ও পা বেধে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। তারপর ঘরের মালিক ফয়জুল হক শামছু ও তার নিজস্ব লোক শমশেরনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক আহমদের নেতৃত্বে কমপক্ষে ৮/১০ জন লোক কাইয়ূমকে মেঝেতে ফেলে লাটি, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে বেদড়কভাবে পেটায়। বেদড়ক পিটুনিতে আমার ভাই কাইয়ূমের পায়ের দুটি স্থানে হাঁড়, এক হাতের হাঁড় ও হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে যায়। তাছাড়া মাথায় ও গলায় মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এরপরও ইউপি সদস্য ফারুক আহমদ আমার ভাই কাইয়ূমের গলায় দড়ি বেধে টানতে থাকে।
আমার ভাইয়ের আত্মচিৎকার ও ঘটনার খবর শুনে শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ ও শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিদর্শক মতিউর রহমান গিয়ে মুমূর্ষূ অবস্থায় হাত পা বাঁধা অবস্থায় আব্দুল কাইয়ূমকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ফাঁকে প্রবাসী ফয়জুল হক শামছুল তার স্ত্রী সুলতানা আক্তারকে বাদী করে নির্যাতিত কাইয়ূমকে আসামী করে ০৭/০৯/২০১৫ ইং তারিখে ৩/১৩৮ নং ঘর চুরির একটি মামলায় অভিযুক্ত করে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় গ্রেফতার করেন। আব্দুল কাইয়ূমের অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা সেবার জন্য প্রেরণ করা হয়। ২১/০৯/২০১৫ ইং সিলেট থেকে আব্দুল কাইয়ূমকে মৌলভীবাজার আদালতে আনা হলে তার জামিন না মঞ্জুর করে এ দিনই কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরদিন ২২/০৯/২০১৫ ইং আদালত আব্দুল কাইয়ূমের জামিন মঞ্জুর করেন।
ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ূমেক বাসায় ডেকে নিয়ে অমানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে শমশেরনগরে সাংবাদিকসহ সর্বস্থরের মানুষজন প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন পালন করেন। সাংবাদিক ভাইগণ বিষয়টি নিয়া খবর প্রচার করেন এবং উহা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। যারাই প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের থেকে বাছাই করে শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদকে ১ নম্বর ও সাংবাদিক মুজিবুর রহমান রঞ্জুকে ২ নম্বর আসামী করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাতনামা নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন প্রবাসী ফয়জুল হক শামছু।
তাতেও তারা থেমে থাকেনি। নোয়াখালিতে নকল ও ভূঁয়া কাগজাত দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আব্দুল কাইয়ূমকে আসামী করে একটি মামলা করা হয়। সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল ২০১৬ ইং রাতে একটি সাজানো ঘটনা দেখিয়ে নাহিদুল ইসলাম চৌধুরী রাসেল বাদী প্রবাসী সামছুর ভাগ্নে হয়ে কমলগঞ্জ থানায় ৫ মে ২০১৬ ইং একটি মামলা দায়ের করে। ঐ মামলায় নিরীহ কাইয়ুমসহ আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়। ঐ রাতেই কমলগঞ্জ থানায় ওসি অভিযোগটি এফআইআরভুক্ত করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিদর্শক মোঃ আবু সায়েম আব্দুর রহমানকে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উল্লেখ আবশ্যক যে, ৩০ এপ্রিল রাতে সহকারী পরিদর্শক মোঃ আবু সায়েম আব্দুর রহমান কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে অবৈধভাবে আমাদের বাসায় প্রবেশ করে প্রতিটি ঘর তছনছ করে আমার ছোট ভাই আব্দুল কাইয়ূমকে খোঁজতে থাকে। আমারা কোন প্রকার নির্দেশনা ও বৈধ কাগজ ছাড়া বাসায় এভাবে হানা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে পুলিশ দ্রত স্থান ত্যাগ করে প্রবাসী পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নতুন নাটক সাজিয়ে মামলা করেন।
অথচ এসব মিথ্যে মামলার কারণে প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে ০৭/০৯/২০১৫ইং আমরা কমলগঞ্জ থানায় মামলা দিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহন করেনি। তখন আমরা বাধ্য হয়ে মৌলভীবাজার আদালতে ৩০১/১৫ (কমল) নং পিটিশন মামলা তাং-১০/৯/১৫) দায়ের করি। আদালত মামলাটি তদন্তে পাঠালে আবার প্রবাসীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নির্যাতনকারীর পক্ষে প্রতিবেদন প্রেরণ করে।
কমলগঞ্জ থানার তৎকালীন কর্মকর্তা মো: এনামুল হকের সাথে পরামর্শ করে বিগত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং রাতে আমার ছোট ভাই ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ূমকে বাসায় ডেকে নিয়ে প্রবাসী ফয়জুল হক শামছু নিজে ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এভাবে নির্যাতন করেছে। পরবর্তীতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্তাদেরও ভুল বুঝিয়ে তদন্তের নামে আমাদের পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজনদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। আমরা এসব ঘটনা নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মহোদয়ের সাথে দেখা করতে গেলে কোন প্রকার মূল্যায়ন না করে উল্টো কটুক্তি করে নাজেহাল করা হয়।
একের পর এক হয়রানী মূলক মিথ্যে মামলার আসামী হতে হচ্ছে। আমাদের বাড়ি ঘরের পুরুষরা এসব মামলার আসামী। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকেই বাড়ি ছাড়ায় এখন পুরুষ শূণ্য। তদন্তের নামে প্রত্যেহ দিন ও রাতে দুই বার বাসায় গিয়ে হানা দিচ্ছে পুলিশ।
মাহবুব আরা উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে সরেজমিন গিয়ে সাধারণ মানুষজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এসব নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র পেয়ে যাবেন। এ ছাড়াও তিনি পুলিশ ব্যাতিত সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকেও উক্ত বিষয়ে তদন্ত করার জোর দাবী জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •