কমলগঞ্জে দুই ভাষা সৈনিকের সত্যিকারের কোন মূল্যায়ন নেই

February 19, 2017,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জ উপজেলার প্রয়াত দুই ভাষা সৈনিকের সত্যিকারের কোন মূল্যায়ন নেই। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করলেও আঞ্চলিক পর্যায়ে থাকার কারনে প্রয়াত জননেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস ও মফিজ আলী ভাষা সৈনিক হিসাবে এখনও মূল্যায়িত হননি। ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছরে ভাষার মাসে কমলগঞ্জের সচেতন মহল এমন প্রশ্ন তোলে ধরেন।জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার কুশালপুর গ্রামে জন্মগ্রহনকারী সাবেক সাংসদ প্রয়াত জননেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস ভাষা আন্দোলনের সময়ে ঢাকার রাজপথে সক্রিয় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে নেতৃত্ব দিলেও ভাষার মাসে তাঁর কোন মূল্যায়ন নেই। অপরদিকে পতনঊষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা গ্রামে জন্মগ্রহনকারী প্রয়াত মফিজ আলী ঔপনিবেশিক পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির ভাষা বিরোধী আন্দোলনের সময়ে সিলেট ও শমশেরনগর কেন্দ্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের সেই পথ ধরেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং সর্বশেষ পূর্ব পাকিস্তান চা শ্রমিক সংঘের শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক হিসাবে মফিজ আলীকে ২০০৩ সনে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করলেও আর কোন মূল্যায়িত হননি।   কমলগঞ্জের লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ঢাকাকে কেন্দ্রবিন্দু করে সংগঠিত হলেও তা হয়ে উঠে বাঙালির জাতীয়তা তথা জাতিসত্ত্বার আন্দোলন। ঔপনিবেশিক পাকিস্তানি শাসক গোষ্টির ভাষা বিরোধী এ আন্দোলন একই সঙ্গে গ্রাম ও শহরকে যুক্তভাবে গড়ে উঠে। ফলে বিভিন্ন স্থানে এ আন্দোলনের চরিত্র অভিন্ন ছিল। কমলগঞ্জের কুশালপুর গ্রামে জন্মগ্রহনকারী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস ভাষা আন্দোলনের ঢাকা কেন্দ্রিক নেতা হলেও তিনিও মূল্যায়িত হননি। তেমনি বৃহত্তর সিলেটের অন্তর্গত কমলগঞ্জের প্রয়াত শ্রমিক নেতা মফিজ আলী ভাষা আন্দোলনের এক দৃশ্যমান নেতা ছিলেন। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও তিনি সেভাবে বিবেচ্য বা মূল্যায়িত হয়ে উঠেননি। এই দুই প্রয়াত নেতা মফস্বল অঞ্চলের অধিকারী হওয়ার কারনে কি তাদের ঠিকমতো বুঝে নেওয়া যাচ্ছে না এ প্রশ্ন এলাকার সচেতন মানুষের।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com