কর্মকারদের নেই আগের কর্মব্যস্থতা : প্রযুক্তিতে ভাটা পড়েছে হাতের কাজ

July 20, 2021, এই সংবাদটি ৯৫ বার পঠিত

সাইফুল্লাহ হাসান॥ পুড়ছে কয়লা, উত্তাপে অগ্নিলাল হচ্ছে লোহা। তার উপর আবার হাতুড়ির আঘাত। তাতে তৈরী হয় দৈনন্দিন জীবনে কাজের উপযুক্ত দ্রব্য সামগ্রী, দা, বটি, চাকু, কুড়াল, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো জিনিস। বলছিলাম কামার পাড়ার কথা।
বিশেষ করে কোরবানির ঈদ আসলে তাদের কর্মব্যস্থতা বেড়ে যায়। কিন্তু এইবার কামারপাড়ায় আগের মতো নেই কর্মচাঞ্চল্য। লকডাউনে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা কামর পল্লীতে এখন যেন সুনশান নীরবতা চলছে। দীর্ষ লকডাউনে পড়েছে হতাশার ভাঁজ।
১৪ দিনের লকডাউন শীতিল হওয়ার পরের দিন মৌলভীবাজার জেলা সদরের কয়েকটি কামারদের পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের কয়েকটি দোকান বন্ধ। যে কয়েকটি খুলা রয়েছে সেগুলোতেও তেমন কাজ-কাম নেই। বসে রইছেন কামাররা। কয়েকজন কারিগরকে দেখা গেছে পুরনো দা-বটিতে ধার দিচ্ছেন।
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চাকু প্রতি পিছ ২০০- ৫০০ টাকা, ছেদ দা ৩০০- ৭০০ টাকা, চাপাতি ৫০০- ১০০০ টাকা, বটনি দা ২০০- ১৫০০। পুরনো যন্ত্রপাতি শান দিতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
কথা হয় কারিগর অশখ দে’র সাথে। তিনি বলেন, লকডাউনের সময় একদম বেকার ছিলাম। ভাবছিলাম, লকডাউন খুললে কাজ পাওয়া যাবে। কিন্তু সেরকম এখনো ক্রেতা নেই। প্রতি কোরবানির ঈদে অনেক কাজ থাকতো, এবার আর নাই। অনেকে এসে পুরনো চাপাটি দা-বটি, ছুরি ধার দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমার পরিবারে ৬ জন সদস্য। একমাত্র আমিই রোজগার, টাকা পয়সা না পেলে তাদেরকে কিই-বা খাওয়াবো, আমিই খাবে কি। আমি এই দোকানে ৬ বছর থেকে কাজ করনতেছি।
অশখ দেব হতাশার ভাঁজ নিয়ে বলেন, এখন মেশিনের জিনিস বের হওয়ায় আমাদের কাজকাম কমে গেছে। মানুষ মেশিনে ধার দিয়ে চলে যায়। আমাদের হাতের কাম কমে গেছে। আমাদের সমবয়সি অনেকে এ কাজ ছেড়ে দিয়েছি। আমি পূর্ব পুরুষের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কাজ করছি।
আরেক কারিগর কমলা কান্ত দেব। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর থেকে এ কাজ করছেন। তিনি বলেন, এই কাজের উপরেই আমার পুরো সংসার। ছেলে একটারে এই কাজ শিখাইছি। মাজন যা দেন সবাইকে নিয়ে কোনমতে চলা যায়।
তিনি বলেন, বর্তমানে ভালোমানের লোহা ও কয়লা পাওয়া কঠিন। তাই যন্ত্রপাতির দামও বেড়েছে। বিক্রি করা কঠিন হচ্ছে। ¬
তিনি বলেনর, এ পেশা দিন দিন খারাপ অবস্থায় চলে যাচ্ছে। এখন আমরা কামাররা কোনও মতে টিকে আছি। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •