কালবৈশাখী ঘুর্ণিঝড়ে কমলগঞ্জে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর লন্ডভন্ড ॥ বিদ্যুৎ সঞ্চালন বিপর্যস্থ

April 23, 2016,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কালবৈশাখী ঘুর্ণিঝড়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ গাছালি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে ১২ ঘন্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও অধিকাংশ এলাকা এখনও বিদ্যুৎ বিহিন অবস্থায় রয়েছে। ২২ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যার পর কালবৈশাখী ঘুর্ণিঝড়ে আঘাত হানে।

Kamalgonj-Storm-Pic-2
সরেজমিনে দেখা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়। শুক্রবার রাত সোয়া ১১টায় আবারও সৃষ্ট বৃষ্টির সাথে ঝড়ের আঘাতে শমশেরনগর, পতনউষার, মুন্সীবাজার ও রহিমপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। পতনউষার ইউনিয়নের আফসলগতি, অনন্তপুর, মিনারাই, ব্রাহ্মণউষার, রামেশ্বরপুর, শ্রীরামপুর, বৃন্দাবনপুর, পালপুর গ্রাম এলাকায় ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আফসলগতি গ্রামে আকবর মিয়ার ঘরের চালা বাতাসের সাতে উঠে গাছের উপরে লেগেছে। বড় গাছ ভেঙ্গে রহমত আলী, আমরুজ আরী ও মাহমুদ আলী ঘরের উপর পড়ে সম্পূর্ণরুপে ঘরটি বিধ্বস্ত হয়। এ বাািড়তে মানুষজন রক্ষা পেলেও আকবর আলীর তিনটি ছাগল মারা গেছে। অনন্তপুর গ্রামে জহুর আলী, হারুন মিয়া ও কফিল মিয়ার একটি করে ঘর বিধ্বস্ত হয়। মিনারাই গ্রামে মাওলানা আব্দুল মোহিত হাসানীর একটি কাঁচা ঘরের চালা উড়ে যায়। একই সময় ঝড়ে সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নে সাতটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত তালিকায় অর্ধ শতাধিক ঘর সম্পূর্ণরুপে বিধ্বস্ত এবং আংশিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক। গাছ গাছালি ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়েছে কমপক্ষে দুই শতাধিক। প্রাথমিকভাবে পতনউষার ইউনিয়নে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ত্রাণ শাখা থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয় বলেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান।
ঝড়ে শমশেরনগর বিমান বন্দর এলাকায় ৬টি গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তারের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মুন্সীবাজার ইউনিয়নে ঝড়ে পাঁচটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতি ভেঙ্গে পড়ে। তাছাড়া ঝড়ে গাছ পড়ে বিভিন্ন ঘর গ্রামে ঘর ভাঙ্গাসহ বৈদ্যুতিক তাছ ছিড়ে মাটিতে পড়ে। ঝড়ের কারণে শুক্রবার রাত নয়টা থেকে কমলগঞ্জ উপজেলায় সম্পুর্ণরুপে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার দুপুরে শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী এস এম হাসনাত হাসান বলেন, গত দুই সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দফায় ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার রাতের ঝড়ে মুন্সীবাজার এলাকায় পাঁচটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়ে। তাছাড়া পাঁচটি ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক লাইনের বেশ ক্ষতি সাধন হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com