কুলাউড়ায় ৮ চোরাই গাড়ি ও ২২ ডাকাত আটক নিয়ে ধুম্রজাল

May 29, 2016,

বিশেষ প্রতিনিধি॥ কুলাউড়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে দু’মাসের মধ্যে চোরাই ৮টি গাড়ীসহ ২২ জন ডাকাতকে আটক করে কোর্ট হাজতে প্রেরন করলেও ডাকাতদের আশ্রয়দাতা এবং তাদের গডফাদারদের নাম প্রকাশ কিংবা তাদের গ্রেফতার না করায় এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

Car-Pic-Kulaura
পুলিশ জানায়, ২৪ মে মঙ্গলবার কুলাউড়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুরি করা ৭ গাড়িসহ ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের সক্রিয় ৮ ডাকাতকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করে। গ্রেফাতারকৃতরা হলো কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর জয়পাশা এলাকার মৃত মন্তর আলী’র ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ফুল (২৯), শিবির রোড এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে আশরাফ হোসেন রনি (২৮) এবং মোঃ মতিন মিয়া’র ছেলে হৃদয় আহমেদ বাহার (২১), জয়পাশা এলাকার মন্নান মিয়া’র ছেলে শাহিন মিয়া (২৭) ওই এলাকার মৃত মকবুল আলী’র ছেলে আবুল হোসেন (৩৪), বড়কাপন গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে শহিদ মিয়া (২৬), কাদিপুর ইউনিয়নের গুপ্তগ্রামে’র মদরিছ আলী’র ছেলে হেলাল মিয়া (২৯), সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার বারকোট কর্তাপাড়া গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে রাজু আহমেদ ইকবাল (২৮)।

Kulaura---22
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৪মে মঙ্গলবার সারাদিন অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে মোস্তাফিজুর রহমান ফুল, আশরাফ হোসেন রনি, হৃদয় আহমেদ বাহার, শাহিন মিয়া ও আবুল হোসেনকে উপজেলা পরিষদের পাশে পরিত্যক্ত একটি বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে। পরে আটককৃতদের দেয়া তথ্যমতে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজার এলাকায় গ্রামীন ব্যাংকের পাশের সড়ক থেকে একটি প্রাইভেটকারসহ (ঢাকা মেট্রো-খ-১১-৯০৮২) গ্রেফতার করা হয় শহিদ মিয়া, হেলাল মিয়া ও রাজু আহমেদ ইকবালকে। এছাড়াও তাদের স্বীকারোক্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাতি ও ছিনাতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত চোরাইকৃত ১টি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৫২৪৮), ৫টি প্রাইভেট কার নং (ঢাকা মেট্রো-খ-১১-৭৩১৩, সিলেট-চ-১১-৩২২৭, ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৩০২৭, ঢাকা মেট্রো-গ-১১-০৯৬১, ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৫২৪৮) উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায় আটককৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূলহোতা। গাড়ি চুরি করে সেগুলো আবার ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হত। তারা সিলেট বিভাগে সংঘটিত বিভিন্ন ডাকাতি, ছিনতাই, গাড়ি চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম গাড়িসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৮ সক্রিয় সদস্যকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।
অথচ, লোকমুখে চাউর আছে যে, এতসব চোরাইগাড়ী ও অধিকাংশ ডাকাতদের কুলাউড়া-চৌধুরীবাজার সড়কের চিহ্নিত এক জুয়াড়ীর বাড়ী থেকে পুলিশ আটক করে কিন্তু পুলিশ রহস্যজনক কারনে ঐ জুয়াড়ীর ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ এখনো নেয়নি। শান্ত শিষ্ট কুলাউড়াকে অশান্ত করার পায়তারায় ঐ জুয়াড়ী দুর্দন্ড প্রতাপে একের পর এক অপকর্ম করে চললেও প্রশাসন রহস্যজনক কারনে তার ব্যাপারে গা ছাড়া ভাব দেখাচ্ছে। কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে সাধারন মানুষের দাবী এক সাথে এতসব গাড়ী কুলাউড়ার কার বাসা কিংবা বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হলো তা মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা।
এ ঘটনার মাত্র ৫দিন আগে ২০মে শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাতির প্রস্ততিকালে ৭ ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ডাকাত সদস্যরা হলেন, মুহিবুর রহমান মুকিত, আব্দুর রহমান, মোতালিব মিয়া, রানা মিয়া, কনা মিয়া, আবুল মিয়া ও লালদার মিয়া। কুলাউড়া শহরের ইষ্টার্ন হোটেলে অবস্থানকালে ডাকাত মুহিবুর রহমান মুকিত ও আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের তথ্য অনুযায়ী কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা (পিপিএম) এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ২১মে শনিবার গভীর রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার করেন। ডাকাতির জন্য তাদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা (মৌলভীবাজার-থ-১১-২০০২) জব্দ করেছে পুলিশ। ওই দিন রাতে আটককৃত ডাকাত কনা মিয়া ও লালদার মিয়া পুলিশের জিঙ্গাসাবাদে জানায় তাদের সহযোগী ডাকাত সদস্যদের মধ্যে মোতালিবসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জন দূষ্কৃতিকারী রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘির হাওড়ের দক্ষিন পাশে অবস্থান করে রাতে কোথায় ডাকাতি করবে সিদ্বান্ত ও পরামর্শ নিচ্ছে। পরে পুলিশ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে রাজনগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত মোতালিবকে গ্রেফতার করলে ও অপর সদস্যরা পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে ঐ এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে ১টি দেশীয় লোহার দা ও কাঠের বাট, ১টি লম্বা ডেগার, ২টি ছোরা, ৭ পিছ কালো কাপড়, বিষাক্ত ট্যাবলেট ২৫টিসহ আরো ডাকাতির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে। গ্রেফতাকৃত ডাকাত সদস্যদ্যের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ডাকাতির মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতাকৃত ডাকাত মুহিবুর রহমান মুকিত, আব্দুর রহমান, মোতালিব মিয়া, রানা মিয়া, কনা মিয়া, আবুল মিয়া, লালদার মিয়ার সহযোগী আন্তঃজেলা ডাকাত সিন্ডিকেট দলের সক্রিয় ৭ সদস্যকে ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলেন, রাজনগর উপজেলার কোনাগাঁও গ্রামের মৃত মজমিল মিয়ার পুত্র মোস্তফা মিয়া, একই উপজেলার দত্তগ্রামের মৃত দিরাই মালাকারের পুত্র সেফুল মালাকার ও ওই উপজেলার আনোয়ারা বেগম, কমলগঞ্জ উপজেলার কুমড়াকাপন গ্রামের মতছির আলীর পুত্র ইসলাম আলী, একই উপজেলার কালীপুর গ্রামের মৃত উসমান খানের পুত্র সুমন আহমদ ওরফে সুলেমান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উছাইল গ্রামের আইন উল্যাহর পুত্র শহিদ উল্যাহ, কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইসলামপুর গ্রামের ফিরোজ আলীর পুত্র শাকিল হাসান রুবেল। পরে তাদেরকে জেল হাজাতে প্রেরন করে পুলিশ।
২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও এক নারীসহ ৭ ডাকাতকে গ্রেফতার করে কুলাউড়া থানা পুলিশ। এছাড়াও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো, রাজনগর উপজেলার কোনাগাঁও গ্রামের মৃত মজমিল মিয়ার পুত্র মোস্তফা মিয়া, একই উপজেলার দত্তগ্রামের মৃত দিরাই মালাকারের পুত্র সেফুল মালাকার ও ওই উপজেলার আনোয়ারা বেগম, কমলগঞ্জ উপজেলার কুমড়াকাপন গ্রামের মতছির আলীর পুত্র ইসলাম আলী, একই উপজেলার কালীপুর গ্রামের মৃত উসমান খানের পুত্র সুমন আহমদ ওরফে সুলেমান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উছাইল গ্রামের আইন উল্যাহর পুত্র শহিদ উল্যাহ, কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইসলামপুর গ্রামের ফিরোজ আলীর পুত্র শাকিল হাসান রুবেল।
২ এপ্রিল শনিবার দুপুরে কুলাউড়া থানা পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, কুলাউড়া উপজেলায় সম্প্রতি কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকায় ১৪ মার্চ থানায় দায়েরকৃত মামলায় (নং-২২) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) জুনায়েদ আলম সরকারের তত্বাবধানে এবং কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম ও ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল আলমের নের্তৃত্বে পুলিশ ফোর্স অভিযান চালিয়ে পর্যায়ক্রমে ২৭ মার্চ মোস্তফা মিয়াকে রাজনগর থেকে আটক করে। ২৯ মার্চ ভৈরব থানার চন্ডিবের দক্ষিণ পাড়ায় গানের আসর থেকে ইসলাম আলীকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ওই এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসা থেকে সুমন আহমদ ওরফে সুলেমান ও শহিদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যমতে চট্টগ্রামের খুলশী থানার মতি ঝর্ণা বস্তি থেকে শাকিলকে আটক করা হয়। শাকিলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শ্রীমঙ্গলের মুসলীমবাজ গাঙ্গেরপার এলাকা থেকে লুন্ঠিত মোবাইলসেটসহ আনোয়ারা বেগমকে আটক করা হয়। ১ এপ্রিল ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রসহ অস্ত্র সরবরাহকারী সেফুলকে আটক এবং ডাকাতির কাজে ব্যববহৃত সিএনজি অটোরিক্সা (মৌলভীবাজার থ-১১-২৯২০) উদ্ধার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৩টি মোবাইল, দু’টি রাম দা, একটি কাটারসহ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানে কুলাউড়া থানার এস আই নুর হোসেন, এস আই জহিরুল ইসলাম ও এ এস আই মহিন উদ্দিন অংশ নেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com