বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ও মানবাধিকার

November 30, 2016,

মোহাম্মদ আবু তাহের॥ মিয়ানমারের রোহিং এলাকায় যারা বসবাস করেন তারাই রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। রোহিঙ্গা শব্দের অর্থ নৌকার মানুষ। যারা সমুদ্রে নৌকার সাহায্যে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা অর্জন করে দিনাতীপাত করেন। ইতিহাসবিদদের মতে আরবি শব্দ রহম থেকে রোহিঙ্গা শব্দের উদ্ভব। অষ্টম শতাব্দীতে আরবের বাণিজ্য জাহাজ রামব্রি দ¦ীপের তীরে এক সংঘর্ষের কারণে ভেঙ্গে পড়ে। তখন তারা বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে রহম, রহম, বলে দয়া প্রার্থনা করে। মহান আল্লাহ পাক তাদের বাঁচিয়ে দেন। তখন থেকেই তারা রোহিঙ্গা নামে পরিচিতি পায়। রাখাইন রাজ্যের জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। বিভিন্ন তথ্যানুসারে বহুকাল আগে থেকেই রোহিঙ্গারা বসবাস করছে সে অঞ্চলটিতে। মিয়ানমার বিট্রিশ শাসন মুক্ত হয়েই রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার বিভিন্ন প্রক্রিয়া গ্রহন করতে থাকে। রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ০৫ (পাঁচ) লাখ, সৌদি আরবে ০৪ (চার) লাখ,পাকিস্তানে ০২(দুই) লাখ এবং থাইল্যান্ডে ০১ (এক) লাখ। ১৯৮২ সালে জেনারেল নে উইনের সামরিক সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার হরণ করে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির নৃশংস রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও নিপীড়ন পৃথিবীর সকল শান্তি প্রিয় মানুষকে হতবাক করেছে। মানুষ হিসেবে তাদের কোন বেঁচে থাকার অধিকার নেই। নেই তাদের কোন মানবাধিকার। জাতিসংঘই বলেছে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠির নাম রোহিঙ্গা। অথচ রোহিঙ্গা নির্যাতনের ব্যাপারে জাতিসংঘের ভূমিকা অস্পষ্ঠ। নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধে জাতিসংঙ্গের কোন কার্যকর উদ্যোগ পৃথিবীর মানুষের কাছে দৃশ্যমান হয়নি। মিয়ানমার স্বীকার করুক বা না করুক রোহিঙ্গারা ঐতিহাসিক ভাবেই সে দেশের নাগরিক। বিশ্বের কোথাও যদি শান্তি বিঘিœত হয় মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার যদি না থাকে সেখানে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা মানুষের বসবাসের অধিকার ফিরিয়ে দেয়াই জাতিসংঘের দায়িত্ব ও কর্তব্য। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে জাতিসংঘ তাদের দায়িত্ব কতটুকু পালন করছে তা পৃথিবীর মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। গণমাধ্যম থেকে জানা যায় ০৯ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত৬৯ জন রোহিঙ্গা মুসলমান কে হত্যা করেছে সে দেশের সেনাবাহিনী। নিরীহ রোহিঙ্গাদের উপর তারা হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালিয়েছে বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়। সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যার পাশাপাশি ধর্ষন করছে, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। নিরাপরাধ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। শিশুদের জ্বলন্ত আগুনে ছুড়ে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অনেকের হাত পা কেটে পঙ্গু করে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আগে মিয়ানমারের নাম ছিল বার্মা। বার্মা সরকারের নির্যাতনের কারনে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশেও অনেক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছিল। বুদ্ধ রাখাইনদের টার্গেট হলো নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্টিকে নির্যাতনের মাধ্যমে নির্মূল করে দেওয়া। দেশ ত্যাগে বাধ্য করা। সেই লক্ষ্যে সরকার, সেনাবাহিনী অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতারিত করার জন্য রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালাচ্ছে মিয়ানমার সরকার। তারা মুসলমানদের মসজিদ ও হাজার হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। অং সান সূচি ও তার দল এন এল ডি প্রায় দশলাখ রোহিঙ্গাকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। সেনা সমর্থিত সরকার রোহিঙ্গাদের সাময়িক ভোটাধিকার দিতে চেয়েছিল বুদ্ধ বিক্ষুরা এর তীব্র প্রতিবাদ করে। বৌদ্ধ ধর্মের মূল নীতি হলো অহিংস হওয়া। হিংসা বিদ্ধেষ ভুলে গিয়ে মানবতার জয়গান গাওয়া। গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারিদের অহিংস হওয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তিনি সর্বজীবে দয়া ও অহিংসা মন্ত্রের চর্চা করে গেছেন। মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারিদের সম্পূর্ণ বিপরীত ভূমিকায় অবতীর্ন হতে দেখা যায়। এই বুদ্ধ ভিক্ষুরাই সূিচর রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল সমর্থক। সূচির ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূচি শান্তিতে নোবিল পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু তিনি মুসলিম রোহিঙ্গাদের নির্য়াতনের বিষয়ে কথা বলছেন না। তিনি এখন ও নীরব। তার দীর্ঘ নিরবতার কারন কি শান্তি প্রিয় বিশ্ববাসী জানতে চায়। তার নোবেল পুরস্কার প্রতাহারের দাবী উঠেছে। পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবী ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ সূচির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার আবেদনে সাক্ষর করেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সূচির বিতর্কিত ভূমিকা কাম্য হতে পারে না। আন্তর্জাতিক শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করেন তাদের মধ্য থেকেই নোবেল পুরস্কার পেয়ে থাকেন। সূচির মতো যারা এই পুরস্কার পেয়েছেন তারা আজীবন এই মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করবেন পৃথিবীর মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই এটি প্রত্যাশা করবে। অং সান সূচির দীর্ঘ নীরবতা পুরস্কার প্রত্যাহার বা ফিরিয়ে নেয়ার দাবীকে গ্রহন যোগ্য করে তুলছে বলে মনে করি। নিয়ম অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার করার সুযোগ নেই। নোবেল কমিটি আজ পর্যন্ত পুরস্কার প্রদানের আগে ও পরে পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়নি। তবে এটি ও ঠিক আগে যারা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হয়েছেন তারা গণহত্যাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করছেন বলে জানা যায়নি। সূচির মতো নীরব থাকেন নি। সূচি কেন সব কিছু দেখে শুনে ও না দেখার ভান করছেন। যখন একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী তার নিজ দেশে তিনি ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হন নির্যাতনের কারণে সংখ্যালঘু দেশ ত্যাগে বাধ্য হয় তখন শান্তি রক্ষার স¦ার্থেই নোবেল শান্তি কমিটির উচিত শান্তি পুরস্কার জব্দ করা অথবা শান্তির স্বার্থেই নতুন ভাবে চিন্তা করা। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে কারও পুরস্কার এখনও প্রত্যাহার হয়নি যেমন সত্য, ঠিক তেমনি সত্য মিয়ানমারের মতো অন্য কোন দেশে সংখ্যালঘু মুসলিমরা এ ধরনের অমানবিক নৃশংস রাষ্ট্রীয়ভাবে হত্যার ঘটনাও ঘটেনি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো মিয়ানমারের ব্যাপারে বিশ্ব নেতারা নিশ্চুপ, মুসলিম বিশ্ব নিশ্চুপ, এবং ও,আই,সির কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে জাতিসংঘের কার্যকর উদ্যোগ নেই। সকল ধর্মই বলে মানুষ হত্যা মহা পাপ। অথচ মিয়ানমারের বুদ্ধ নেতারা নীরব। তারা কেন মহামতি গৌতম বুদ্ধের অহিংস বাণীগুলো অনুসরণ করেন না, ধারন করেন না। সকল ধর্মের শিক্ষাই হলো বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব ও মানবতা। ধর্মের দৃষ্টিতে সব মানুষ পরস্পরের ভাই। কারণ তারা একই আদম সন্তান। কোন ধর্মেই হিংসা বিদ্ধেষ হঠকারিতা নেই। মহানবী (স:) বলেছেন তোমরা পরস্পরের মধ্যে দয়ামায়া এবং সহমর্মিতায় একটি দেহের মতো, দেহের একটি অংশে ব্যথা হলে সর্বাংশে তা অনুভূত হয়। শেখ শাদী (র:) বলেন আদম সন্তান একই অঙ্গের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ যেহেতু সে একই বস্তু হতে সৃষ্ঠ, অঙ্গের কোনো অংশ যদি ব্যথা পায়, অন্য অঙ্গগুলো আরাম নাহি পায়, যদি তুমি অন্যের ব্যথায় না হও ব্যথিত, মানব নাম ধারণ করা তোমার হবে অনুচিত। মানবাধিকারের মূল কথা হলো ব্যক্তির মানবসত্বা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় রোহিঙ্গারা কোন মানব তো নয়ই তারা যেন কোন প্রাণীই নয়। কারণ যারা সত্যিকারের মানব সন্তান তারা অন্য প্রাণীর প্রতিও মায়া মমতা দেখাবে। মানুষ হয়ে অন্য মানুষের বিপদাপদে সহমর্মিতা সাহায্য সহযোগিতা না করা মহাপাপ। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার ১৩ ধারায় বলা হয়েছে প্রত্যেক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে চলাচল ও বসতি স্থাপনের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। ১৪ ধারায় বলা হয়েছে নির্যাতন এড়ানোর জন্য প্রতোকেরই অপর দেশ সমূহে আশ্রয় প্রার্থনা ও ভোগ করার অধিকার রয়েছে। ১৭ ধারায় বলা হয়েছে কাউকে তার সম্পত্তি থেকে খেয়াল খুশি মতো বঞ্চিত করা চলবে না। ২২ ধারায় বলা হয়েছে সমাজের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকেরই সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে। প্রত্যেকেই জাতীয় প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের সংগঠন ও সম্পদ অনুসারে তার মর্যাদা ও অবাধে ব্যক্তিত্ব বিকাশে অপরিহার্য অর্থনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সমূহ আদায় করার জন্য স্বত্ববান। সদস্য রাষ্ট্রসমূহ যাতে মানুষের মানবাধিকার হরণ না করতে পারে সেজন্য জাতিসংঘ অঙ্গিকারবদ্ধ। মানবাধিকার এর বিষয়টি কোনো রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। আশ্চর্য হলেও সত্য রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতনের বিষয়ে মিয়ানমারের সুশীল সমাজ, মিয়ানমারের মানুষ কথা বলছে না, মিয়ানমারের হাজার হাজার মানুষ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে এবং অনেকেই অনুপ্রবেশ করছে আবার বি,জি,বির কড়া নজরদারীর কারণে অনেকেরই অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বিশ্ব বিবেক, বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো যেন ঘুমিয়ে পড়েছে। হিউমান রাইটস ওয়াচের মতে এক হাজারেরও বেশি মুসলমানদের ঘড়বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহতের সংখ্যা ৩০০ (তিনশত) ছড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে পারে না। জাতিসংঘের মাধ্যমে র্কাযকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জাতিসংঘকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে চীন ও ভারত সহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহকে অনেক বেশি আন্তরিক হতে হবে। বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি ডা: এ কি এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার এর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের আশ্রয় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাংলাদেশের মানুষকে অন্য দেশ আশ্রয় দিয়েছিল। বি চৌধুরী রোহিক্সগাদের মানবাধিকারের কথাই বলেছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত সাময়িক ভাবে উম্মুক্ত করে দিয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গণহত্যা থেকে তাদের বাচাঁতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতেও বাধ্য করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ দেখানো হবে। বিভিন্ন প্রতিকূলতার পরেও যারা এসে পড়েছেন আমরা যতদিন পারি তাদের রাখবো। সুবিধাজনক সময়ে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এই মানবিক ঘোষনায় পৃথিবীর মানবিক মূলোবোধ সম্পন্ন মানুষের কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করেছে। কিন্তুু রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার। এমনিতেই কক্সবাজার জেলায় অসংখ্য রোহিঙ্গা রয়েছেন। তাছাড়া এত বেশি শরণার্থীকে স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার শক্তিও বাংলাদেশের নেই। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে চলাচলের ও বসতি স্থাপনের অধিকার যেমন রযেছে ঠিক তেমনি রয়েছে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অধিকার। তাদের এই মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারের পাশ্ববর্তী দেশ সমূহ, মুসলিম দেশ সমূহ এবং বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক-ব্যাংকার ও কলামিষ্ট এবং সভাপতি ব্যাংক অফিসার্স এসোসিয়েশন, মৌলভীবাজার জেলা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com