শমশেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার ২৩ কিলোমিটার বেহাল সড়ক অধিকাংশ স্থানে পিচ উঠে সৃষ্ট গর্তে যানবাহন চলাচল অসহনীয়

December 3, 2016,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর থেকে কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার সড়কের দীর্ঘ ২৩ কিলোমিটারের অধিকাংশ স্থানের পিচ ঢালা উঠে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃস্টি হয়েছে। গর্তে ভরা এই সড়ক দিয়ে সকার প্রকার যানবাহন চলাচল এখন অসহনীয় হয়ে পড়েছে। সড়কটির বেহাল অবস্থায় ২৫ মিনিটের পথে সময় লাগছে ১ ঘন্টা। সম্প্রতি সরেজমিন এ সড়ক ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা থেকে ব্রাহ্মণবাজার- শমশেরনগর হয়ে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত সড়কটি যাতায়াতে, মালামাল পরিবহনে খুবই গুরত্বপূর্ণ। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আসা পর্যটকরাও বড়লেখার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে যেতে এ সড়কটি ব্যব্হার করেন। কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর পর্যন্ত সড়কটির প্রশস্থকরণসহ উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছিল চার মাস আগে। এ সময়ের অবিরাম বৃষ্টিপাতে সে উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে আগায়নি। এর মাঝে নিয়মিত সকল প্রকার যানবাহন চলাচল অব্যাহত আছে এ সড়কে। ফলে ব্রাহ্মণ বাজার থেকে শমশেরনগর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানের পিচ ঢালা উঠে ছোট বড় সহস্রাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর প্রশস্থকরণকৃত স্থানের ম্যাকাডমকৃত পাথরও উঠে যাচ্ছে। কোন প্রকার যানবাহন কোন গতি নিয়ে এ সড়কে চলতে পারছে না। ফলে শমশেরনগর থেকে ব্রাহ্মণবাজার পর্যন্ত আগে যেখানে ২৫ মিনিট সময় লাগতো সেখানে এখন এক ঘন্টারও বেশী সময় লাগছে।
এই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সা চালক মনির হোসেন, তাজুদ মিয়া, ট্রাক চালক তাজু মিয়া, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী জামাল উদ্দীন ও জুড়ি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো: আসাদ উল্যা বলেন, প্রতিদিন এই পথে তারা যাতায়ত করতে হয়। সড়কের বর্তমান অবস্থায় চলাচল হয়ে উঠেছে অসহনীয়। বাস চালক আজম আলী বলেন, এত বেশী গর্তের সৃস্টি হয়েছে যে, ঝাঁকুনি এখন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে। এসব ঝাঁকুনিতে সুস্থ্য যাত্রীরা সহ্য করে যানবাহনে যাতায়ত করলেও কোন রোগীকে নিয়ে এই সড়কে যাতায়াত করা যাচ্ছে না।

kamalgon-j-pic-3
সিএনজি অটোরিক্সা চালক, প্রাইভেট কার চালক, মাইক্রোবাসের চালক ও বাস চালকরা  আরও জানান, এই সড়কে ১৫টিরও অধিক কালভার্ট ও একটি সেতু নতুন করে নির্মাণ করতে গিয়ে ঠিকাদার বিকল্প পথ তৈরী করেছেন। এসব বিকল্প পথেও অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হলে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। শনিবার ৩ ডিসেম্বর সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নির্মাণাধীণ প্রতিটি কাল ভার্টের ও একটি সেতুর বিকল্প পথে গর্তের ফলে বিকল্প পথ অতিক্রমকালে প্রায়ই ছোট যানবাহনগুলো বিকল হয়ে পড়ছে। কাঁদার কারণে যানবাহনগুলো খাদে পড়ে দুর্ঘটনায় পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এর মাঝে শমমেরনগর বিমানবন্দর সংলগ্ন রেল গেইটের পশ্চিম তীরে উষা দেবী সেতুর উঠার মুখে পিচ ঢালা উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ গর্ত অতিক্রমকালে প্রায়ই যানবাহন আটকা পড়ে। ফলে সকল প্রকার যান বাহনকে ঝুঁকি নিয়ে এ সেতুটি অতিক্রম করতে হচ্ছে।

kamalgon-j-pic-2সড়ক ও জনপথের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত সংস্কারাধীণ শমশেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের বর্তমানের বেহাল দশার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সড়কটি একটু প্রশস্থ করা হচ্ছে। অব্যাহতভাবে যানবাহন চলাচলে যানবাহনের চাপে অনেক স্থানে সড়কের পিচ ঢালা উঠে গেছে। এ পথে ১৬টি কালভার্ট ও একটি সেতু নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে এসব কালভার্ট ও সেতুর বিকল্প পথ দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়। তবে টানা বৃষ্টির সময় বিকল্প পথের কাঁদায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি আশা করেন আগামী ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত সড়কটির উন্নয়ন কাজ এক ভাল পর্যায়ে চলে আসবে। তখন আরও দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। ২৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ১০ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলেও নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com