শ্রীমঙ্গলে শিশু ধর্ষন প্রভাবশালী ও মাতব্বরদের চিকিৎসায় বাধা প্রদানের অভিযোগে আটক ৩

April 13, 2016, এই সংবাদটি ২২৬ বার পঠিত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের রাজপাড়া গ্রামের পাত্রীকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেনীর ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষন এবং পরবর্তীতে ভিকটিম শিশুটিকে চিকিৎসা দিতে বাধা প্রদানের অভিযোগে তিন ব্যাক্তিকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার রাতে অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের আটক করে ১২ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যেমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে। তারা হলেন- রাজাপুর গ্রামের ধর্ষক মৃত নজির মাষ্টারের পুত্র শহিদ মিয়া, একই গ্রামের মাতব্বর সুরুক মিয়া ও ফটিক মিয়া। এর আগে ভিকটিম শিশুটির বাবা দুরুদ মিয়া ৪ জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১২, তাং ১১/০৪/১৬, সময় ১১. ৪৫ মিনিট ।

শ্রীমঙ্গল থানার এস আই রফিকুল ইসলাম জানান,  শনিবার বিকালে গ্রামের এক বিয়েতে বাড়ির লোকজন চলে যাওযার সুযোগে একই বাড়ির ভাতিজার মেয়ে নাতনিকে মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে নিজ ঘরে ডেকে এনে শিশুটির সম্পর্কের দাদা শহিদ মিয়া মেয়েটিকে ধর্ষন করে। নির্যাতনের পর শিশুটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে পরিবার ও বাড়ির লোকজনের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালী ও মাতব্বর সুরুক মিয়া, ফটিক মিয়া ও হান্নান মিয়া বিষয়টি শালিস করে দিবে বলে নির্যাতিত শিশুটিকে চিকিৎসা দিতে বাধা প্রদান করে। এমনকি বিষয়টি চেয়ারম্যানকে পর্যন্ত জানাতে দেয়নি ওই মাতব্বররা। সুযোগ পেয়ে সোমবার রাতে ভিকটিম শিশুসহ তার বাবা দুরুদ মিয়া থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করলে ৯/১ এর ৩০ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

তিনি বলেন, শিশুটিকে চিকিৎসা দিতে রাতেই মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং থানায় মামলা রেকর্ড করার পর পরই ৪ আসামির মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার কোর্টের মাধ্যমে জেলে প্রেরন করা হয়েছে। মামলার আরেক আসামী হান্নান মিয়া কে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

ভূনবীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও ঘটনাটি সত্য। ৫/৬ বছরের শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে আমি এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই সাথে সাথে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি আমি রাতেই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জেনে থানায় গিয়ে শিশুটিকে দেখে আসছি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •