শ্রীমঙ্গল পশুর হাটের বর্জে ভেসে উঠেছে সাগর দিঘির মাছ

July 24, 2021, এই সংবাদটি ৩২১ বার পঠিত

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নিয়ন্ত্রনাধিন সাগর দিঘির সব মাছমরে ভেসে উঠছে। মৎস্য বিভাগের ধারণা করছেন কুরবানীর পশুর হাটের বর্জ ফেলায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ইজারাদারের দাবী কেউ শত্রুতা করে করেছে। এ ঘটনায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মাছ মরে গেছে।
সাগর দিঘিপাড়ের ব্যবসাীয় শাহী নআহমদ জানান, প্রথমে বৃহস্পতিবার থেকে দিঘী পানিতে দু একটা মাছ ভেসে উঠলেও শনিবার সকালে পুরো দিঘী জুড়ে বড় বড় মরা মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। মরা মাছ পঁচে দূর্গন্ধে দিঘীর চারপাশের পরিবেশ ভরে যায়।তাদের দোকানে বসাই কষ্ট করছিলো।
সরেজমিনে শনিবার সকালে সাগর দীঘি পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরো দীঘি জুড়ে রুই, পাঙ্গাস, তেলাপিয়াসহ বড় বড় মাছ ভেসে উঠেছে। দিঘীর চারপাশের এলাকায় মরাপচা মাছের দূর্গন্ধে ছড়িয়ে পড়ে। ইজারাদারের লোকজন নৌকা দিয়ে দীঘি থেকে মরা সংগ্রহ করছেন।
সাগর দীঘি মাছ চাষের দেখা শোনার দায়িত্বে থাকা জুয়েল মিয়া বলেন, কোরবানীর ঈদের দিন থেকে এখানে মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। এখানে রুই, কাতলা, পাঙ্গাসসহ মিশ্র মাছ চাষ করা হচ্ছিলো। এখানে সব মাছবড়। দিঘিরপাড়ে কোরবানীর হাট থাকায় এই কয়দিন মাছ মারা হয়নি। ঈদের পর মাছগুলো ধরে বিক্রয় করার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু এর আগেই মাছ মরার ঘটনা ঘটলো। এতে ১৫/২০লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, মাছগুলো দূরে মাটি চাপা দেয়ার ব্যবস্থা করাহয়েছে।
এ বিষয়ে দিঘি ও গরুর বাজারের ইজারাদার হাজী আজিজুর রহমান দুলাল জানান, এটি কেউ শত্রুতা করে করেছে। কারণ পুশুর হাট ও তারেই ইজারা নেয়া। এখানে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন তার জন্য তার অনেক লোক রয়েছে। পশুর বর্জ দিঘিতে ফেলা হয় না। একটি চক্র গত ৬ মাস ধরে শ্রীমঙ্গলে গ্যাস দিয়ে রাতের আধারে মাছ মেরে নিয়ে যায়। ইতি মধ্যে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। ভাড়াউড়ায় তার আরো একটি পুকুরে, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ফিসারীতে, সবুজবাগ জয়দীপ চক্রবর্তীর পুকুরে এমোনিয়া গ্যাস ছেড়ে অক্সিজেন সংকট করে মাছ মেরে নিয়ে গেছে একিটি চক্র। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কশন করেন।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো.ফারাজুল কবির বলেন, ধারনা করা হচ্ছে, সাগরদিঘির পাশেই কোরবানীর পশুরহাট বসেছিলো। সেখানে গরুর গোবর ও মুত্র ও বর্জ পদার্থ বৃষ্টির পানিতে দীঘিতে পরে গ্যাস সৃষ্টি হয়ে অক্সিজেনের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ খোঁজতে মরা মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে শহরের প্রচুর মানুষ এই দিঘির পানি ব্যবহার করে থাকেন তাই সহসা প্রচুর বৃষ্টি না হলে এই পানি পরিবর্তন করারও পরামর্শ মৎস্য বিভাগের।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •