সম্ভবনার নতুন দিগন্ত বদলে যাচ্ছে কুলাউড়ার প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গন ———————-মোহাম্মদ ফখর উদ্দীন

April 13, 2016, এই সংবাদটি ২২৫ বার পঠিত

 

স্টাফ রিপোর্টার॥ নানা সমস্যায় পিছুটান। তারপরও এই সম্মুখ সমরে নিরন্তর ছুটে চলা। এ যেন এক নতুন দিগন্তের আবেশের আমেজের প্রত্যাশায়। সৃষ্টিশীলতার উন্নত মননে। নতুন অবয়বে আগামীর প্রজন্মকে দিক নির্দেশনা দিতে। যারা হবে আমাদের আগামীর কাংঙ্খিত দিকপাল। ওরা আলোকিত হয়ে দেশ মাতৃকার তরে আলো ছড়াবে। তাইতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ওদের দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে চাই নানা আয়োজন। কিন্তু সে সাধ্য কোথায় ? তাই সাধ্যের মধ্যেই খুঁজতে হবে এমন স্বপ্নের সোনালী সোপান। কিন্তু এ পথ যে চ্যালেংঞ্জিং। ঝরে পড়ার শংঙ্কাটা যে তাই একটু বেশি। তারপরও ছুটে চলা। অন্তরের গহীনে অভিমানী স্বপ্ন বুনে এমন প্রত্যয়ে। আর অবহেলিত হয়ে ঝরে পড়ে নয় বরং প্রস্ফুটিত পুষ্পকানের সুরভিত পুষ্প হয়ে সৌরভ চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়ার রপ্ত কৌশলে। সফল হতেই হবে এমন দৃপ্ত পণে। প্রতিযোগীতার লড়াইয়ে টিকে থেকে। তাই স্বপ্ন শুধু সম্ভাবনার। এমন স্বপ্ন বাস্তবায়ন যদিও কঠিন তারপরও চূড়ান্ত পথে এগোতে হবে। যেতে হবে দূর বহুদূর। অন্যদের প্রেরণ দিতে আর প্রেরণা পেতে। এমন অটুট দৃঢ় পণে এ কন্ঠকাকীর্ণ পথে এগিয়ে যেতে তাই সম্ভবনার হাতছানি। এই সফলতার নেপথ্যের কারিগর কিন্তু একজনই। তিনিই এই নতুনত্বের স্বপ্ন দ্রষ্টা। দিন বদলের নেপথ্যের সারথি। আর অন্যরা তা বাস্তবায়নের অন্যতম সহযোগী। বলতে গেলে এমনি ভাবেই শুরু কুলাউড়ার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বদলে যাওয়ার বর্তমান ইতিহাস। যে অধ্যায়টি ভবিষ্যতে ইতিহাসের পাতায় খচিত হবে স্বর্ণাক্ষরে। দিন বদলের ¯্রােতে বদলাতে হবে চারপাশ। আনতে হবে পরিবর্তন। আসতে হবে নতুনত্ব। তাই প্রথমে সংকল্প। পরে নিজ অফিস থেকেই শুরু হল দিন বদলের আলোর মিছিল। নেতৃত্বে কুলাউড়ার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের দক্ষ কান্ডারি আস্থাভাজন অভিভাবক শ্রদ্ধেয় শরিফ উল ইসলাম স্যার। পরিবর্তন শুরু হল উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে। চোখ ধাঁধাঁনো শৈল্পীকতার কারুকাজে। অফিসের প্রবেশ দ্বারেই পাথর কেটে খচিত হল বই কলমের ছবি। রুচিশীল আপন সুন্দর্যের ছোঁয়ায় সাজানো হল এই শিক্ষা অফিসের ভবনটিও।ভেতরে বাহিরে এমনই দৃশ্য উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক স্কুলে আনয়নের প্রচেষ্টা চলে অব্যাহত। একজন অগ্রসেনানী আর তাঁর সাথে এক ঝাঁক নিবেদীত সৌন্দর্য পিপাসু মননশীল যোদ্ধা থাকলে শত বাধাঁর প্রাচীর ভাঙ্গতে কতক্ষণ। এমনটিই হল। সকলের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় উপজেলার অনেক জরাজীর্ণ আধমরা র্নিজীব স্কুল গুলো এখন জেগে উঠতে শুরু করেছে। চাওয়া অনুযায়ী আর্থিক সহযোগীতাটা কম। তাতে কি?  সীমিত বরাদ্ধ । কিন্তু তাই দিয়েই আনা হল স্কুল গুলোর চোখ ধাঁধাঁনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন। স্কুলগুলোর বর্তমান অপরুপ নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যে কাউকে বিমোহীত করে। শুধু কি স্কুল গুলোকে বাহ্যিক পরিপাটি কিংবা সুর্ন্দযের ঢালি বানিয়ে ক্ষান্ত। এমনটিই নয়। বদলানো হয়েছে এর অভ্যন্তরীণ অবয়বও। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কি ভাবে স্বীয় কর্মক্ষেত্রে আরো মনোনীবেশ করা যায় এদিকটাতেও দেওয়া হয়েছে অধিকতরও গুরুত্ব। পাঠদানে আনা হয়েছে নানা পরিবর্তন। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনযোগী করতে রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। এমন উদ্যোগে বিদ্যালয়গুলোতে আসছে সাফল্য। বিগত দিনের ফলাফলই এর প্রমান। ইতিমধ্যেই এই উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষাক্ষেত্রে দৃশ্যতে আমূল পরিবর্তনের খবর ব্যাপক নাড়া দিচ্ছে এ জেলার সর্বমহলে। তাই অনেকেই কৌতুহলী হয়ে শুনতে চান এর নেপথ্যে থাকা কারিগরের কথা। ওদের এমন কৌতুলী জিজ্ঞাসায় ভালো লাগে। তখন মন হয় ভালো কান্ডারি পাওয়ায় আমরা মনে হয় কাঙ্খিত লক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে আমাদের ছোট ভূমিকাও হয়ত বড় অবদান রাখছে। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কথা গুলোর বাস্তবতা পরখ করতে গত ০৫ এপ্রিল ২০১৬ খ্রী: কুলাউড়াতে আসলেন মাননীয় ডিপিও স্যারসহ প্রায় ৪০ জনের একটি বিশাল বহর। টিমটিতে ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একঝাঁক চৌকস অফিসার। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এত বড় একটি টিমের একসাথে সরজমিনে পরিদর্শন  কুলাউড়ার প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে এটা এই প্রথম এবং দেশের কোথাও একযোগে এত অফিসারের পরিদর্শন হয়েছে বলে আমার জানা নেই। পরিদর্শকদল উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক  বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সন্তুষ্ট হলেন। তারা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিজ পরিকল্পনায় নেওয়া নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নের সফলতার প্রশংসাও করলেন। এটা নি:সন্দেহে কুলাউড়াবাসী বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের বিষয়। তাদের এমন সুনামের জন্য অভিনন্দন জানাই কুলাউড়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের অগ্রনায়ক শরিফ উল ইসলাম স্যারকে ও তাঁর সুযোগ্য সহকর্মীদের। স্যালুট জানাই মানুষ গড়ার কারিগর আমার সে সব নিবেদীত প্রাণ বন্ধুদেরকে। হয়ত আমাদের (শিক্ষকদের) কষ্টের দিক বিবেচনা করে উৎসাহ বৃদ্ধি এবং কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ কবি নিচের চরণগুলো উৎসর্গ করেছিলেন- “ঊষর মরুর ধূষর বুকে ছোট্র যদি শহর গড়ো, একটি শিশু মানুষ করা তার চাইতেও অনেক বড়”। যারা প্রচন্ড শীত, গরম এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে  উপেক্ষা করে ক্লান্তিহীন চিত্তে মাতৃসূলভ ¯েœহ, পিতৃসূলভ শাসন এবং মমতা দিয়ে নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।এই বাগানের (প্রাথমিক বিদ্যালয়) ফুল ফুটানোর জন্য নিবেদীত প্রাণ পরিচর্যাকারী আমার প্রাণ প্রিয় সংগ্রামী সহযোদ্ধা সহকর্মীবৃন্দদেরকে অভিনন্দন। বদলে যাচ্ছে আমাদের চারপাশ। সেই ¯্রােতে আমরাও ভাসতে চাই। আমাদের কল্যাণে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আগামী দিনের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগীতা চাই। কারণ উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত সুযোগ্য ও দক্ষ নাগরীক গঠন। আর এ দ্বায়িত্ব শুধু রাষ্ট্র ,সরকার, শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা অফিসার আর শিক্ষকদের উপর ছেড়ে দিয়ে আর আড়ালে আবডাল থেকে শুধু তাদের ত্রুটি খুঁজলে হবেনা। আপনাকেও দ্বায়িত্ব নিয়ে সামনে আসতে হবে। আমাদের ভুলগুলি শুধরে দিয়ে করতে হবে সহযোগীতা। এগিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা । নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে এ বিভাগে। আমরা আমাদের স্বার্থে দেশ ও জাতীর স্বাথের্, উন্নত রাষ্ট্র গঠনের তরে এ ক্ষেত্রে আরো নিবেদীত হতে হবে। সম্মানিত অভিভাবক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের আরো অগ্রণী ভূমিকা পালনের আশা রাখছি। আমাদের সকলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায়ই কল্যাণ বয়ে আনবে আমাদের ভবিষ্যতের। এ প্রত্যাশা আর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত থাকুক আমাদের। এ পথ চলার যেন শেষ না হয়। সকলের সু স্বাস্থ্য ও মঙ্গলময় জীবন কামনা করছি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •