৩ জনকে আসামী করে থানায় স্ত্রীর মামলা কমলগঞ্জে বন্ধুর প্রতিপক্ষের ঘুষিতে ১ ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ

June 22, 2021, এই সংবাদটি ১৮৭ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ পূর্ব বিরোধের জের ধরে বন্ধু মাছ ব্যবসায়ী মুকুল মিয়ার প্রতিপক্ষের কিল ঘুষিতে মাটিতে ঢলে পড়ে মারা গেলেন জুয়েল আহমেদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় সোমবার রাতেই নিহত জুয়েল আহমেদের স্ত্রী বাদি হয়ে ৩ জনকে আসামী ও অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সোমবার ২১ জুন বেলা সোয়া ১২টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারের কমলগঞ্জ সড়কে জুয়েল আহমেদের নিজস্ব ভবনের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত জুয়েল শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী গ্রামের মরহুম তজমুল আলীর একমাত্র ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে লাশের ময়না তদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় শিংরাউলী কবরস্থান সংলগ্ন ঈদগাহে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, শমশেরনগর শিংরাউলী গ্রামের সিএনজি চালক আহাদ মিয়ার পরিবারের সাথে একই এলাকার মাছ ব্যবসায়ী মুকুল মিয়ার পরিবারের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় আহাদ মিয়ার ছেলে মুন্না মিয়া ও তার আত্মীয় তুরন মিয়ার নেতৃত্বে একদল যুবক এসে মুকুল মিয়ার ছেলে বাপ্পাকে মারধোর করে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ ও সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন ও আব্দুল মোহিত সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিকভাবে সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে বেলা সোয়া ১২টায় আহাদ মিয়ার পক্ষ নিয়ে শারফিন মিয়া উত্তেজিতভাবে গালি গালাজ শুরু করেন। এসময় প্রতিবাদ করায় মুকুল মিয়ার বন্ধু জুয়েল আহমেদের সাথে সিএনজি চালক শারফিন মিয়ার তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে মুকুল মিয়ার প্রতিপক্ষ শারফিন মিয়ার নেতৃত্বে জুয়েল আহমেদকে কিল ঘুষি মারতে শুরু করে। ঘুষিতে জুয়েল আহমেদ মাটিতে ঢলে পড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুন্না সিনহা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাশের সুরতহাল তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য বিকেলেই মৌলভীবাজার সদর হাসপাতার মর্গে প্রেরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহত জুয়েল আহমেদের স্ত্রী বুশরা বেগম বাদি হয়ে সোমবার রাতেই ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজহারভুক্ত আসামী হলেন শমশেরনগর চৌমুহনা সিএনজি অটো চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শারফিন মিয়া, চালক ইসমাইল মিয়া ও চালক আহমদ মিয়া।
নিহতের স্ত্রী মামলা বাদি বুশরা বেগম বলেন, আসামী শারফিন মিয়া খুবই সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। এর আগেও একবার সে তার স্বামী জুয়েল আহমেদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তক্রমে ও দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন বলেন, সোমবার রােেত থানায় মামলা হওয়ার পর থেকে আসামীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তার আগে ঘটনাস্থলের সামনের একটি দোকানের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আরও আসামীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •