মৌলভী চা বাগানের গলা কে/টে হ/ত্যা, আলামতসহ ২ আ/সা/মি গ্রে/প্তা/র

January 8, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মৌলভী চা বাগান বাংলো টিলার ঢালে জাকির হোসেনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি  বিকেলে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এক প্রেস ব্রিফিং করে জানান, চলতি মাসের ৫ জানুয়ারি গলা কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতযুক্ত একটি লাশ পাওয়া যায়। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশের সুরতাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং হত্যাকান্ডের শিকার ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করে। ওই খুনের শিকার ব্যাক্তির নাম জাকির হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা, সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের, মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনর্চাজ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য সহ অন্যন্যরা।

এ ঘটনায় পরবর্তীতে জাকির হোসেনের স্ত্রী আনজিলা বেগম বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় ৬ জানুয়ারি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। খুনের শিকার জাকির হোসেন (৫০), পিতা-মৃত মকবুল হোসেন, গ্রাম-ইব্রাহীমপুর, থানা-সুনামগঞ্জ সদর, জেলা-সুনামগঞ্জ। পেশায় দিনমজুর এবং মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম সংলগ্ন লিয়াকত আলীর কলোনীতে ভাড়া থাকতেন।

মামলায় আসামী করা হয় আকাশ রবি দাশ (২০), পিতা- লক্ষীনারায়ন রবিদাস, মাতা-হোসনা রবি দাস, গ্রাম: মৌলভী, চা বাগান, পাথরটিলা, থানা-মৌলভীবাজার সদর, জেলা- মৌলভীবাজার।  স্বাধীন আহমেদ (২০), পিতা- সেলিম মিয়া, মাতা-কাজল বেগম, ঠিকানা: সাং- নিতেশ্বর, (প্রেমনগর চা বাগান রোড) থানা-মৌলভীবাজার সদর, জেলা-মৌলভীবাজার। ঘটনার পর পরই মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এর এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়েরসহ সদর থানার একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে এবং মামলা রুজু হয়।

মামলার তদন্তে ভিকটিমের পরিবারের দেওয়া তথ্য, পুলিশের গোপন সোর্স এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আকাশ এবং স্বাধীন নামে  দুই যুবককে শনাক্ত করা হয়। ৭ জানুয়ারি ভোরে তাদেরকে কুমিল্লাহ জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন ছুফুয়া বাবুর্চি বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ৮ জানুয়ারি সকালে গ্রেফতারকৃত দুইজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আবারো অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থল এবং তার আশেপাশে তল্লাশী করে ঘটনাস্থল থেকে ৩শ মিটার দুরে গ্রেফতারকৃত দুইজনের দেখানো মতে হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত রক্তমাখা দা এবং আসামি স্বাধীনের রক্তমাখা হুডি জব্দ করা হয়। খুনের শিকার জাকির বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে ইট, বালু ও মাটি তোলাসহ দিনমজুরের কাজ করতেন।

অপরদিকে আসামি স্বাধীন গাড়ির বালু ও ইট তোলার কাজ করতেন এবং হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সূত্র ধরে প্রায় এক বছর আগে জাকিরের সঙ্গে স্বাধীনের পরিচয় হয়। জাকির প্রায়ই চা বাগানে গিয়ে বাংলা মদ পান করতেন। বন্ধুত্বের কারণে স্বাধীন জাকিরকে সময় দিতেন এবং তার সঙ্গে চলাফেরা করতেন। বন্ধুত্ব থেকে সমকামিতার দিকে ধাবিত হন। তারা একসাথে মদপানও করত। একপর্যায়ে জাকিরের বিকাশে জমানো টাকা হাতিয়ে নিতে স্বাধীনের আরেক বন্ধু আকাশ মিলে জাকিরকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে তারা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com