তাদের আসল চেহারা মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে -তারেক রহমান

January 22, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আইনপুরের ২য় নির্বাচনী বিশাল জনসভায় জনতার উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন যারা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে, তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। যারা ষড়যন্ত্র করছে, যারা এই দেশের মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করছে। নির্বাচনে তারা জান্নাতের টিকেট বিক্রি করছে। যারা এ দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে শিরক করার চেষ্টার করছে। ফ্যাসিষ্টদের মতো একটি দল ভোট চুরির পায়তারা করছে। এদের সম্পর্কে আমাদের সতর্ক ও সজাগ সজাগ থাকতে হবে। এ সময় তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, ‘ঠিক বলেছি?’ জবাব ‘হ্যাঁ’। তারেক রহমান বলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।’

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে এই যে লক্ষ জনতা, সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি যে জনতা এরাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতির শক্তির মূল উৎস। ’জনগণ হলো বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস’ ৭১ সালে দেশ স্বাধীনের সময় যদি এরা দেশের পক্ষে কাজ  করত তবে আমাদের এতো রক্তপাত ও এতো প্রাণহানি হতো না। ৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। তাদের আসল চেহারা মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে।’

২৪ সালের ৫ আগষ্ট দেশের গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে বিজয়ী হয়েছি। এটা ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট এই দেশ ছেড়ে যারা পালিয়ে গিয়েছে, এরা গত ১৫/১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ছিল, এরা বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে গুম হয়ে যেতো, না হলে গায়েবি মামলা দিত, না হয় মিথ্যা মামলার বন্দি হতো, তা না হলে তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করতো, তা না হয় তারা বাংলাদেশের মানুষের অর্থ সম্পদ সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। গত ১৫ বছর এই এলাকায় না কোনো উন্নয়ন কাজ হয়েছে, না কোনো রাস্তাঘাট হয়েছে, না কোনো হাসপাতাল হয়েছে, না কোনো  মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে, কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাইফুর রহমান সাহেব অনেক গুলো উন্নয়নের কাজ করেছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে এই স্বৈরাচার সরকার যখন ক্ষমতায় এলো তখন সব বন্ধ হয়ে গেল। মানুষের কথা বলার অধিকার ছিল না তাই জনগন কাউকে তাদের দুঃখ কষ্টের কথা বলতে পারেনি। এলাকার সমস্যার কথা যে বলবে সেই মানুষটিও ছিল না, আমরা সংসদ ভবনে কি দেখেছি গান হচ্ছে, প্রশংসা হচ্ছে এমন সব কাজ হয়েছে যা মানুষের কাম্য ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই দলটি বলছে তাদের হাতে নাকি ব্যালট পেপার চলে গেছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিলে চা-শ্রমিকসহ সব দিনমজুর শ্রেণির নারীদের ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে একটি দল ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে নিশিরাতের ভোট ও ভোটচুরির নির্বাচন করেছে এবং ব্যাংক ও জনগণের সম্পদ লুট করে পালিয়েছে। তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।

তিনি বলেন, লুটেরা গুম-খুন ও সম্পদ হরণ করে পালিয়েছে। এখন সময় ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’-এর। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বলেন একটি দল নানা কৌশল করে নির্বাচন থেকে সরতে চায়। তারা প্রট্রোকল চায়। আমি বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে  তাদের জন্য থ্রী ডাবল প্রট্রোকল দাবি করছি।

তারেক রহমান বলেন আমরা দেখেছি গত ১৫-১৬ বছর অন্য দেশের কাছে কিভাবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এজন্য আমি আগে বলেছি দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্যদেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আরেকটি কথা বলেছিলাম, স্বৈরাচার সরকার যখন মানুষের ঘাড়ে চড়ে বসেছিল, সেটা হচ্ছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমরা টেক ব্যাক বাংলাদেশের’ অর্ধেক পথে এসেছি। আমরা স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ করেছি। গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ১২ তারিখে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে। আমরা বিজয়ী হলে জিয়াউর রহমানের মতো খাল খনন করতে চাই। এ সময় উপস্থিত সবাইকে নিয়ে স্লোগান দেন করবো কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ লন্ডন প্রবাসী বেশি। লন্ডন যেতে যতসময় লাগে তার চেয়ে বেশি সময় লাগে ঢাকা যেতে। আমি এখানের আসার পথে সড়কের এমন বেহাল দশা দেখেছি। খালেদা জিয়া ও সাইফুর রহমানের আমলের উন্নয়নের পর এ অঞ্চলে আর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বিগত ফ্যাসিস্টরা কেবল গুম,খুন,গণতন্ত্র,বাকস্বাধীনতা,আইনের শাসন হরণ করেনি। এদেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের মেগা প্রকল্পের নামে দেশের সম্পদ লুট করা হয়েছে আর এখন একটি  দল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি বিকেলে মৌলভীবাজারে আইনপুরের খেলার মাঠের নির্বাচনী জনসভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানের শুরুতে বলেন ‘আমরা যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি, কৃষক কার্ডের কথা বলেছি এ থেকে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আর্থিক সুবিধা পাবে।  এ সময় অনেকে স্লোাগান দিতে থাকেন। তখন তারেক রহমান বলেন, ‘যারা স্লোগান দেবেন, বুঝবো অন্য কেউ তোমরা।’তখন তারেক রহমান বলেন, ‘গুপ্ত গুপ্ত, হ্যাঁ।’ এসময় তিনি উন্নয়ন,গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসনের জন্য ধানের শীষে ভোট চান। জেলার ৪টি আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে।

বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে তিনি সমাবেশ থেকে ওমরাহ পালন করে আসা একজনকে মঞ্চে ডেকে নেন। বিএনপির চেয়ারম্যান ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি তো কাবা শরীফে গিয়েছেন, কাবা শরীফের মালিক কে? এখানে সবাই মুসলমান উল্লেখ করে তারেক রহমান তার কাছে তিনি জানতে চান, এই দুনিয়া, জান্নাত-জাহান্নামের মালিক কে? জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ। এরপর বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন, দোযখের মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, সবার মালিক আল্লাহ। জেতার মালিকও আল্লাহ। সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। এরপর তারেক রহমান ওই ব্যক্তিকে তাঁর আসনে বসান। এমন দৃশ্য জনসমাবেশে উপস্থিত জনতা হাত তালি দিয়ে অভিবাদন জানান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দিবো, ওই দিবো বলছে, বেহেস্তেরর টিকেট দিবে বলছে। জেতার মালিক মানুষ না, সেইটার কথা বলে শিরক করা হচ্ছে। শিরককারী ও মোনাফেকের দলের অপ্রচারে কান না দেওয়ার আহবান জানান।

এর আগে সিলেটে নির্বাচনী জনসভা শেষে বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে আইনপুরের মঞ্চে উঠেন। ৩টা ২০ মিনিট ৩ টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত তিনি বক্তব্য রাখেন।  জনসভায় জেলার ৭টি উপজেলা থেকে বিএনপি, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। দুপুর গড়াতেই শেরপুরের আইনপুর মাঠে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।

সকাল থেকে সমাবেশস্থলে মানুষের উপস্থিতি শুরু হয়। চারটি রংয়ের ক্যাপ ও টিশার্ট পরিধান করে দলীয় পতাকা ও  প্রতীকের প্লের্কাড নিয়ে দুপুরের আগেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে উপস্থিত হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। দুপুর ১টার আগেই কানায় কানায় মাঠটি পূর্ণ হয় মাঠ। মাঠে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মাঠের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের সড়কে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনে পরিচালনায় তারেক রহমান মঞ্চে আসন গ্রহণের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান।

তারেক রহমান মঞ্চে আসার পূর্বে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনের বিএনপির প্রার্থী নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া)  শওকতুল ইসলাম শুকু,  মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল) মুজিবুর রহমান মুজিব, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌছ, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামা জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা জামিউল আহমদ আনসারী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজিনা নাসের, মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব অদুদ আলম, জেলা বিএনপি নেতা ভিপি মিজানুর রহমান মিজান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, বিএনপি নেতা আশিক মোশাররফ, আয়াছ আহমদ, জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক এম এ মুহিত, জেলা বিএনপির সদস্য স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি অলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহেমেদ রহমান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান, জেলা কৃষদলের সভাপিত শামীম আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম কবির প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com