কমলগঞ্জে শ্রমিক নেতা মফিজ আলীর ১৮তম মৃ/ত্যুবার্ষিকী পালন 

October 10, 2026,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ : বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি, মৌলভীবাজার জেলা কমিটি সভাপতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, প্রখ্যাত চা-শ্রমিক নেতা মফিজ আলী-এর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১০ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে পুষ্পস্তবক শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ১১ টায় বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘসহ বিভিন্ন সংগঠন কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীসূর্য-ধূপাটিলাস্থ প্রয়াত নেতার সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ এবং প্রয়াত নেতার অসমাপ্ত কাজকে অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে শপথ গ্রহণ করে। পরে স্থানীয় মাঠে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি মো. নুরুল মোহাইমীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাসের পরিচালনায় অনুষ্টিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের অন্যতম নেতা মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির নেতা রমজান আলী পাখি, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সোহেল মিয়া, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাষ, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম, চা শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা, প্রবীণ চা-শ্রমিকনেতা স্যামুয়েল বেগম্যান প্রমুখ।

বক্তারা মফিজ আলীর জীবনের উপর আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, মফিজ আলী ছাত্র জীবন থেকে প্রগতিশীল রাজনীতির ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে ছাত্রআন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলনে আত্ননিয়োগ করে তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটা সময় নিজের পরিবার-পরিজন ও আত্মপ্রতিষ্ঠার চিন্তা না করে সাধারণ মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। দীর্ঘ ৬০ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৭ বার কারাবরণ করেন। ২০০৮ সালে ১০ অক্টোবর সংগ্রামী এই জননেতা ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, আমৃত্যু সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী মফিজ আলী শৈশবেই প্রত্যক্ষ করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা। আর জননেতা মফিজ আলীর মৃত্যুর ১৮ বছর পালন করা হচ্ছে তখন পুঁজি ও শক্তির অনুপাতে বাজার ও প্রভাব বলয় পুনর্বন্টন নিয়ে আন্ত:সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগীতা-প্রতিদ্বন্ধিতা তীব্রতর হয়ে বাণিজ্য যুদ্ধ, মুদ্রা যুদ্ধ, স্থানিক ও আঞ্চলিক যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারসহ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

বক্তারা আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির এই সময়ে বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ মজুরি না পাওয়া, কাজ শেষে মজুরি-বোনাস প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা, শিল্প কারখানা বন্ধ, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা সর্বোপরি জনজীবনের সমস্যা-সংকট বৃদ্ধি পেয়ে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়ছে। সাম্রাজ্যবাদী ও তার এদেশীয় দালালদের লুটপাটের কারণে দেশের আর্থিক খাত দেউলিয়াত্বের ঝূঁকিতে রয়েছে। গার্মেন্টসসহ শত শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার ও মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com