শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে করণীয়
বশির আহমদ : বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু মেধা নয়; বরং নিয়মিত অধ্যয়ন, পরিকল্পিত প্রস্তুতি, সময়ানুবর্তিতা, মনোযোগ এবং মানসিক দৃঢ়তার সমন্বয়ই ভালো ফলাফলের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতে, কিছু মৌলিক কৌশল মেনে চললে শিক্ষার্থীরা সহজেই তাদের শিক্ষাগত ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।
প্রথমতঃ লক্ষ্য নির্ধারণ ও পরিকল্পিত পড়াশোনা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের উচিত প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং সেই অনুযায়ী পড়ার সময়সূচি তৈরি করা। ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করে পড়লে শেখা সহজ হয় এবং পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। লক্ষ্যহীন পড়াশোনা সময় ও শ্রম-দুটিই অপচয় করে।
দ্বিতীয়তঃ নিয়মিত ও ধারাবাহিক অধ্যয়ন ভালো ফলাফলের অন্যতম শর্ত। পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলে হঠাৎ করে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে পড়াশোনা করার পরিবর্তে শুরু থেকেই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তৃতীয়তঃ সময় ব্যবস্থাপনা ও মনোযোগ শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। পড়াশোনা, বিশ্রাম ও বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় পরিহার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষকরা।
চতুর্থতঃ শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী থাকা ও প্রশ্ন করার মানসিকতা শিক্ষার্থীদের শেখার মান উন্নত করে। পাঠ না বুঝলে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকের কাছে প্রশ্ন করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয় এবং শেখার ঘাটতি কমে আসে।
পঞ্চমতঃ সক্রিয় শিখন কৌশল যেমন-লিখে অনুশীলন করা, সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করা, মাইন্ড ম্যাপ ব্যবহার এবং গ্রুপ স্টাডিতে অংশগ্রহণ-শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্র ও মডেল টেস্ট সমাধান পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করে তোলে।
এ ছাড়া শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক স্থিরতা ভালো ফলাফলের পূর্বশর্ত। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চললে পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। ভুলকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শেখার মানসিকতাই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেয়।
সবশেষে, আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক মনোভাব ও নৈতিক দৃঢ়তা শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পথে শক্তি জোগায়। পরিশ্রমের পাশাপাশি আল্লাহর উপর ভরসা ও দোয়ার গুরুত্বও একান্ত অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পরিকল্পিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলাবোধ ও আত্মবিশ্বাস-এই তিনটির সমন্বয় ঘটাতে পারলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়ন কোনো কঠিন বিষয় নয়। সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং সচেতন অভ্যাসই পারে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে।
লেখক : বশির আহমদ, অধ্যক্ষ, উলুয়াইল ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, মৌলভীবাজার সদর।



মন্তব্য করুন