সব বাধা তুচ্ছ করে ফিরছেন তারেক রহমান : ২৫ তারিখের অপেক্ষায় সমগ্র বাংলাদেশ
মোস্তফা সালেহ লিটন : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত। দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রবাস জীবনের যবনিকাপাত ঘটিয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের স্বদেশে ফেরার ঘোষণায় এখন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সমগ্র বাংলাদেশ যেনো এক সাজ সাজ রব ও উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা। যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত সেই আবেগঘন বিদায়ী অনুষ্ঠানে তার কণ্ঠ থেকে যখন বের হলো আগামী ২৫ তারিখ মাতৃভূমিতে পদার্পণের ঘোষণা, তখন কেবল লন্ডনের সেই হলরুম নয় বরং ডিজিটাল বিশ্বের মাধ্যমে সংযুক্ত ১৮ কোটি বাংলাদেশীর হৃদয়ে যেন এক নতুন স্পন্দন অনুভূত হলো। আবেগময় বিদায় ও জনসমুদ্রের গর্জন দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ১৮টি বসন্ত কাটিয়ে প্রিয় নেতার বিদায় বেলায় লন্ডনের সেই সভাটি পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। যুক্তরাজ্যের প্রতিটি প্রান্ত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ছুটে এসেছিলেন তাদের প্রিয় নেতাকে মাতৃভূমিতে বিদায় জানাতে। হলরুমের ভেতর ও বাইরে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে যখন হিমশিম খাচ্ছিল আয়োজকরা, তখন একজন জনবান্ধব নেতার মতোই তারেক রহমান নিজে মঞ্চ থেকে নেমে এসে জনতার মাঝে গিয়ে দাঁড়ালেন। তার শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে যখন উচ্চারিত হলো কৃতজ্ঞতার বাণী – আপনারা আমাকে মায়ার বন্ধনে বছরের পর বছর আঁকড়ে ধরেছিলেন, আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ । তখন উপস্থিত হাজারো মানুষের চোখের কোণে চিকচিক করছিল আবেগের অশ্রু।
মন্ত্রমুগ্ধ ভাষনে রাষ্ট্রচিন্তার নতুন দিগন্তে তারেক রহমান এখন কেবল একজন দলীয় নেতা নন, তিনি আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের একমাত্র কাণ্ডারি। সেই বিদায়ী অনুষ্ঠানে তার টানা এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের ভাষন ছিল এক বিরল ঐতিহাসিক দলিল। তিনি যখন বললেন – দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা কি আপনারা শুনবেন ? তখন পিনপতন নীরবতায় ডুবে গেল পুরো অডিটোরিয়াম। তিনি আর স্বপ্ন দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; তিনি চান বাস্তবায়ন। তার ভাষণে উঠে এসেছে রাষ্ট্রের প্রতিটি মৌলিক স্তরের সংস্কার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, চিকিৎসা থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের মানবাধিকার রক্ষার এক সুস্পষ্ট নীল নকশা। তার শব্দচয়ন ও রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা প্রমাণ করেছে বিজয়ের ৫৪ বছর পর জাতি যে যোগ্য নেতার প্রতীক্ষায় ছিল, তার জন্য তিনি আজ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
মানবিক গুণাবলি ও নেতৃত্বের নতুন রূপ তারেক রহমানের ব্যক্তিত্বে এখন ফুটে ওঠে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা। তিনি কেবল ক্ষমতার পালাবদল চান না বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তন চান যেখানে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার হবে সু প্রতিষ্ঠিত। প্রবাসে থেকেও তিনি যেভাবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে নাড়ির টান বজায় রেখেছেন, তা বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল। তার এই মানবিক গুণাবলিই তাকে কোটি মানুষের হৃদয়ে ‘লিডার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জীবনের ঝুঁকি ও অবিচল দেশপ্রেম নিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা আসতেই একদল ষড়যন্ত্রকারীর কালো ছায়া দীর্ঘ হতে শুরু করেছে। ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট বা স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র, সহিংস হামলার অপচেষ্টা এবং নব্য নীল নকশা সবই যেন তার পথরোধ করতে চায়। কিন্তু তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রক্ত এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী । জীবনের ঝুঁকি জেনেও তিনি যেভাবে মৃত্যুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে দেশের পথে পা বাড়াচ্ছেন, এটাই হলো দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ উদাহরন । ১৮ বছর যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা তাকে নিরাপত্তার চাঁদরে আগলে রেখেছিল, এখন দেশের ১৮ কোটি মানুষের সময় এসেছে তাকে রক্ষা করার। তারেক রহমান মানেই বাংলাদেশ । তারেক রহমান এখন আর কেবল একটি নাম নয়, তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধ আগামীর একটি প্রতীক। তার প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয় বরং এটি একটি অবরুদ্ধ জাতির মুক্তির সোপান। ষড়যন্ত্রের জাল চারিদিকে ছড়ানো হয়েছে তাই বিএনপি’র প্রতিটি নেতা কর্মীকে চোখ-কান খোলা রেখে সজাগ থাকতে হবে।
আগামী ২৫ তারিখ কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নতুন সূর্যোদয়ের দিন। জাতির এই সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন হোক নিরাপদ, সার্থক এবং জনকল্যাণমুখী। ইতিহাস সাক্ষী দেবে, একুশ শতকের এই রাষ্ট্রনায়কই গড়ে তুলবেন আমাদের স্বপ্নের ‘নতুন বাংলাদেশ’। ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক মুহুর্তে উপস্থিত থেকে একজন বীরের দীর্ঘ ১৮বছরের নির্বাসিত জীবনের বিদায় অনুষ্টানে উপস্থিত হতে পেরে সত্যিই ভীষন উচ্ছসিত । অসাধারন একটি আয়োজনের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ যুক্তরাজ্য বি এন পিকে ।
লেখক : মোস্তফা সালেহ লিটন (সাবেক সভাপতি, কার্ডিফ বি এন পি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদল। সাবেক সহ সম্পাদক যুক্তরাজ্য বি এন পি।



মন্তব্য করুন