শ্রীমঙ্গলে ইফতার সামগ্রীতে হাইড্রোজের ব্যবহার, জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি

March 7, 2026,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে জমজমাট ইফতার বাজার। তবে বাহারি রঙের জিলাপি ও মুখরোচক নানা ইফতার সামগ্রীর আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘হাইড্রোজ’ নামের বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং, পোড়া ও পুনঃব্যবহৃত তেল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে খাবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় খাদ্য সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার প্রবিধিমালা-২০১৭ উপেক্ষা করে হাইড্রোজ জাতীয় রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। প্রবিধিমালা অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদনে এ ধরনের রাসায়নিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও রঙিন ও আকর্ষণীয় দেখাতে জিলাপি, বেগুনি, পিয়াজু, ছোলাসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রীতে এসব উপাদান মেশানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হাইড্রোজ (সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট) টেক্সটাইল ডাই হিসেবে ব্যবহ্নত হয়। খাবারে হাইড্রোজ ব্যবহার নিষিদ্ধ। খাবারে হাইড্রোজ ব্যবহারে মারাত্মক স্বাস্থ্য-হানি হয়। এটি একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এটি শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন হাইড্রোজযুক্ত খাবার গ্রহণে পাকস্থলীর ক্যানসার, আলসার, তীব্র পেটব্যথা ও হরমোনজনিত নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, জেলার অনেক জায়গায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোজ ব্যবহারের কারণে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে। এর মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের স্বনামধন্য“বেঙ্গল সুইট ফুডকে ১৬ লক্ষ টাকা ও ৪ মার্চ কুলাউড়ার তিনটি রেস্টুরেন্টকে ১লক্ষ টাকা জরিমানা ও একটি দোকানকে সিলগালা করা হয়েছে। কুলাউড়ার আল মদিনা মিষ্টিঘরকে ৫০,০০০ টাকা, মেসার্স সুজন মিষ্টিঘরকে ২০,০০০ টাকা ও ধানসিড়ি রেষ্টুরেন্ট এন্ড হোটেলকে ৩০,০০০/-  টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়। পাশাপাশি ধানসিড়ি রেষ্টুরেন্ট এন্ড হোটেলকে সাময়িক সিলগালা মারা হয়েছে।

এদিকে পোড়া ও বারবার ব্যবহার করা তেলে তৈরি খাবারেও তৈরি হয় ট্রান্স ফ্যাট ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান, যা হৃদরোগ ও লিভারের সমস্যা বাড়াতে পারে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের কারণে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

সচেতন মহল দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস নয় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুধু জরিমানা করলেই হবে না জরিমানার সাথে অন্তত এক সপ্তাহের কারাদন্ড প্রদান করা প্রয়োজন। এতে ভেজাল ব্যবসায়ীরা সচেতন হবে বলে মনে করেন তারা। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রমজানের পবিত্রতা ও মানুষের সুস্থতার স্বার্থে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং ব্যবসায়ীদের নৈতিক দায়িত্ববোধই পারে এ অনিয়ম বন্ধ করতে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com