কানাডার পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হয়ে চমক দেখালেন মৌলভীবাজারের ডলি বেগম

স্টাফ রিপোর্টার : কানাডার সেন্ট্রাল পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হয়ে চমক দেখালেন মৌলভীবাজারের মেয়ে ডলি বেগম। কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গড়লেন নতুন ইতিহাস। তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী যিনি সে দেশের জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ডলি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রাদেশিক নির্বাচনে স্কারবরো সাউথ ওয়েস্ট আসন থেকে তিনবার বিজয়ী হন। বাংলাদেশ সময় ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালের দিকে এই আনন্দের খবর পান বাংলাদেশে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা। ডলির ধারাবাহিক সাফল্যে তার নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাজরাকোনা গ্রাম সহ জেলার সর্বস্তরের মানুষ উৎফুল্ল।
জানা যায়, কানাডার টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। ডলি দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত। কানাডা প্রবাসীরা বলছেন, তার এই জয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। এটি কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি সম্মানজনক অনুপ্রেরণা।
সোমবার ১৩ এপ্রিল স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে ডলি বেগম নির্বাচিত হন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বদ্বিতাকারী অন্য দলের প্রার্থীরা ছিলেন, কনর্জারভেটিভ পার্টির ডাইনা ফিলিপ্রভা, এনডিপি’র ফাতিমা শাহবান, জিআরএন-এর প্রজা মালিহতরা। উপনির্বাচনে ডলি বেগমের জয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সূত্র মতে ২০১৮ সালে প্রথমবার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘এমপিপি’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। এরপর ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও তিনি ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন।
চলতি বছরের শুরুতে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমন্ত্রণে ডলি বেগম লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন। এর আগে প্রথমবার এমপিপি নির্বাচিত হওয়ার পর ডলি কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক সংসদে বিরোধীদলীয় ডেপুটি হুইপ ও স্পিকার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তখন কানাডায় প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী যিনি সে দেশের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধারাবাহিক বিজয় অর্জন করেন। ডলি বেগম কনজারভেটিভ প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের গণবিরোধী নানা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খোলামেলা বক্তব্য রেখে অন্টারিওর প্রভিন্সিয়াল রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। তার মা বাবা ভাই ও স্বামী তাকে রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেন।
২০২৪ সালে তিনি তার স্বামী ব্যারিস্টার রিজওয়ান রহমানকে হারান। কানাডা প্রবাসী কানাডাস্থ ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক এম আর আজিজ ও কানাডা প্রবাসী মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা কানাডাস্থ কুলাউড়া সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন আহমদ কমরু, আবু সুলতান আজাদ মানবজমিনকে বলেন অন্টেরিও প্রদেশের বসবাসরত বাংলাদেশিরাসহ পুরো কানাডার প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন ডলি বেগমের বিজয়ের সুসংবাদ পাওয়ার জন্য। তারা বলেন ডলির বিনয়ী স্বভাব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দল ও কমিউনিটির প্রতি তার উদার আন্তরিকতা তাকে বার বার নির্বাচনে বিজয়ী করছে।
মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাজরাকোনা গ্রামের সন্তান ডলি বেগম। ডলি বেগম রাজা মিয়া ও জবা বেগম দম্পতির বড় সন্তান। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ডলি বড়। তার ছোট ভাই মহসিন আহমদ সে দেশের একজন সফল ব্যবসায়ী।
১৯৯৮ সালে ডলি তার বাবা-মার সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমান। ডলি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় প্রবাস জীবনে চলে যান।



মন্তব্য করুন