জুড়ীতে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের মে দিবস পালন

স্টাফ রিপোর্টার : মহান মে দিবসের ঐতিহাসিক শিক্ষাকে সামনে রেখে শোষণ বঞ্চণার বিরুদ্ধে সংগ্রাম তীবতর করে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার দৃপ্ত শপথ আর অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জুড়ী আঞ্চলিক কমিটি আন্তজাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস ‘মহান মে দিবস’ পালন করে।
১ মে শুক্রবার সকাল ১০ টায় ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জুড়ী আঞ্চলিক কমিটির নেতৃত্বে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন, রাইস মিল শ্রমিক সংঘ, ডেকোরেটার্স শ্রমিক সংঘ ও স’মিল শ্রমিক সংঘের নেতাকর্মীরা স্ব স্ব সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা নাইট চৌমুহনা চত্ত্বরে জমায়েত হয়ে লাল পতাকার র্যালী বের করেন। র্যালীটি উপজেলা নাইট চৌমুহনা চত্ত্বর হতে শুরু হয়ে নিউ মার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুণরায় উপজেলা নাইট চৌমুহনা চত্ত্বরে এসে সমাপ্ত হয় এবং সেখানে এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জুড়ী আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ও হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু। এছাড়াও শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাইস মিল শ্রমিক সংঘের সভাপতি জমির আলী, স’মিল শ্রমিক সংঘের নেতা আব্দুল আলী, ডেকোরেটার্স শ্রমিক সংঘেরর সভাপতি মোঃ সামছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমেদ, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা বাপ্পি মিয়া প্রমুখ।
বৃষ্টি বিঘ্নিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন ১৮৮৬ সালে রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিক শ্রেণি সামাজিক স্বীকৃতি এবং বিশ্বব্যাপী ৮ ঘন্টা শ্রম, ৮ ঘন্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘন্টা বিনোদনের দাবি প্রতিষ্ঠিত করে। ৮ ঘন্টা শ্রম দিবস এবং মহান মে দিবসে ছুটি কারো দান নয় বরং শ্রমিক শ্রেণির রক্তস্নাত পথে অর্জিত অধিকার। বক্তারা শ্রমিক শ্রেণির মহান শিক্ষা গুরু কমরেড এঙ্গেলেসের বক্তব্য উদৃত করে বলেন ‘মে দিবসের সংগ্রাম শুধু মাত্র ৮ ঘন্টা শ্রম দিবসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মে দিবসের সংগ্রাম শ্রমিক শ্রেণির মজুরি দাসত্ব ব্যবস্থার উচ্ছেদের অবিচ্ছেদ্য সংগ্রাম।’ তাই আজকে প্রতিক্রিয়াশীল মহলসহ বিভিন্ন মহলের উদ্দেশ্যমূলকভাবে মে দিবস পালনের মালিক-শ্রমিক ঐক্যে কথা বলে যে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্ঠা চলছে তার বিপরীতে শ্রমিকশ্রেণিকে মে দিবসের বিপ্লবী চেনতাকে ধারণ করে মজুরি দাসত্ব উচ্ছেদ করে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃপ্ত শপথ নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।
সমাবেশ থেকে বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে জাতীয় ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, আসন্ন ঈদুল আযহায় মাসিক বেতনের সমপরিমাণ উৎসব বোনাস প্রদান এবং ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন কার্যকর, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা, জ্বালানি ও এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো এবং স্বল্পমূল্যে রেশনিং চালুর দাবি জানান।



মন্তব্য করুন