রাজনগর-খেয়াঘাট সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগে

রাজনগর প্রতিনিধি : রাজনগর-খেয়াঘাট সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় যাত্রীদের। সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শেষ হলেও এখনো বাস চলাচল শুরু না হওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনগর-খেয়াঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী থাকায় এ পথে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
তবে বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাধ্যমে সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে। সড়কটি এখন অনেকটাই চলাচলের উপযোগী হলেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাস সার্ভিস এখনো চালু হয়নি। ফলে সড়ক সংস্কারের সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
যাত্রীরা জানান, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে তাদের সিএনজি অটোরিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে বাসের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য অতিরিক্ত এই ভাড়া বহন করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্বের মতো বাস চলাচল চালু করা হোক। এতে যাত্রীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ থেকেও তারা মুক্তি পাবেন।
এ বিষয়ে চাদঁনীঘাট বাস মালিক সমিতির সভাপতি আনছার মিয়া বলেন, রাজনগর-খেয়াঘাট সড়কটি দীর্ঘদিন ভাঙা ও সংস্কারের কারণে বাস চলাচলের উপযোগী ছিল না। বর্তমানে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। আমরা বাস সার্ভিস দিতে আগ্রহী। কিন্তু রাজনগর সদরে মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে মূল সড়কে একটি গেইট দেওয়া হয়েছে। সেই গেইটের কারণে বাসের উপরের অংশ লেগে যায়। গেইটটি সরিয়ে দিলে আমরা বাস সার্ভিস চালু করতে পারব।
রাজনগর বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়ক যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ একটি গেইট দিয়েছে। আমরা সড়ক বিভাগের সঙ্গে আলাপ করেছি। বাস সার্ভিস চালু হলে গেইটটি আরও ওপরে তুলে দেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মৌলভীবাজারের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আল-আমিন বলেন, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে যাতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য এমপি মহোদয়ের পরামর্শে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে হাইট-বার (গেইট) দেওয়া হয়েছে। বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এমপি মহোদয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করলে একটি সমাধান বের হবে।



মন্তব্য করুন