(ভিডিও সহ) ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তায় শুরু জেলা ইজতেমা

আব্দুল কাইয়ুম॥ প্রশাসনের দুই স্থরের ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেদিয়ে লাখো মানুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে প্রথমবারের মত মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় গণজমায়েত মৌলভীবাজার জেলা ইজতেমা।
বৃহস্পতিবার ২৫ জানুয়ারি শহরের উপকন্ঠে জগন্নাথপুর এলাকার উপশহরে বাদ ফজর মধ্যপ্রচ্যের আরব দেশ ফিলিস্তিন থেকে আসা তাবলিগের মুরব্বি শেখ মোহাম্মদ ইয়াদ এর ২ঘন্টাব্যাপী আমবয়ানের মধ্যেদিয়ে শুরু হয় তিনদিন ব্যাপী এই গণজমায়েতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস,ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে দলে দলে জামাতবন্দি হয়ে আল্লাহ আল্লাহ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে তাবলিগ জামাতের ধর্মপ্রান মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে প্রবেশ শুরু করেন ।
বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার শুরা সদস্য ও দ্বায়িত্বশীলরা মাঠে এসে পৌঁছান। সন্ধার সূর্য ডুবার পূর্বেই ইজতেমা মূখি হাজার হাজার মানুষের ঢল নামা শুরু হয়। সালাম আর জিকিরের সাথে দলে দলে সুশৃঙ্খলভাবে মাঠে প্রবেশ করেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা তাবলিগ অনুসারিরা । পাশাপশি মধ্যেপ্রাচ্যের নির্যাতিত আরব দেশ ফিলিস্তিন, আরবআমিরাত, মরোক্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন, মালেশিয়া সহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকেও এসেছে কয়েকটি জামাত। মাঠের জিম্মাদার সূত্রে জানা গেছে, তিনদিন ব্যাপী জেলা ইজতেমায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার মধ্যেরাতে এসে পৌঁছান কাকরাইল মসজিদের শুরা সদস্য মাওলানা ফারুক ও সিনিয়র মুরব্বি মাওলানা আব্দুল মতিন। কাকরাইলের এই দুই মুরব্বি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর আমবয়ান করবেন।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সেবা দিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সেবা কেন্দ্র চালু এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত তিনহাজার খুটি ও চটের তৈরি বিশাল প্যান্ডেলের নিচে সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে ৭টি খিত্তায় ভাগ হয়ে জামাতবন্দি হয়ে বসা শুরু করেন তাবলিগের সাথিরা। বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে মাঠঘুরে দেখা যায় ইজতেমা উপলক্ষে মূল ভ্যানু সহ আশ পাশের গোটা এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইও-১ মারুফ হোসেন জানান, ইজতেমা এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল আছে, নেয়া হয়েছে দুই স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৬০টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ইজতেমা এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইজতেমা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেট ও আর আর এফ সহ প্রায় পাঁচশো পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতেমা এলাকা ও আশপাশের সড়কে টহল দিচ্ছে র্যাব-৯ এর একটি দল। এর বাহিরে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সহ সাদা পোশাকে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে, দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের মাধ্যমে নজরদারী বাড়াতে ২টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মান করা হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলায় প্রথমবারের মত শুরু হওয়া সর্ববৃহৎ এই গণজমায়েত শেষ পর্যন্ত গণসমুদ্রে রূপ নিয়ে আগামী শনিবার সকাল ১১টার দিকে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হবে এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



মন্তব্য করুন