বন বিভাগের অনিয়ম-২ সড়কের দুই পাশে গাছ নেই : ৩ বছরেও সরকারি কোষাগারে টাকা জমা হয়নি

April 23, 2018,

স্টাফ রিপোর্টার॥ সামাজিক বনায়নের আওতায় সদর উপজেলার শাহবন্দর হইতে দিঘিরপাড়, ঘরোয়া-ছনকাপন, চমৎকার আমবেলা হয়ে কাগাবলা সংযোগ সড়কের উসমান শাহ মাজার হইতে কাগাবলা রোডের বিক্রিত টাকা সরকারি কোষাগারে এখনও জমা হয়নি। ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল ৫৭টি লটের টেন্ডার হয়। বনবিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডার পাওয়ার ১ বছরের মধ্যে লটের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে গাছ কেটে নেয়ার কথা থাকলেও ৩ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও অদ্যবধি ১০টি লটের টাকা জমা দেয়া হয়নি। যার কারণে সরকার, উপকারভোগী ও সামাজিক বনায়নের সাথে সংশ্লিষ্টটা চরম ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল ৫৭টি লটের মধ্যে ৫৪টি লট টেন্ডার পান মুহিবুর রহমান তরফদার এবং ৩টি পান মোঃ ফজলুর রহমান। মোঃ ফজলুর রহমান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের রাজস্ব জমা দিয়ে গাছ কেটে নিলেও মুহিবুর রহমান তরফদার দীর্ঘ দিন সময় ক্ষেপন করে ১০টি লটের টাকা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জমা দেননি। যার প্রেক্ষিতে চরম ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন এলাকার সমাজিক বনায়নের দরিদ্র উপকারভোগীরা।
একটি সূত্র জানায়, কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের ১০ মে (পত্র নং ২২-০১-০০০০-৬৯০-২৯-৩০-১৫) মুহিবুর রহমান তরফদারকে ৩ দিনের সময় দিয়ে চুড়ান্ত নোর্টিশ প্রদান করে। নোটিশে বলা হয় ওই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দিলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের জন্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহযোগীতায় গাছ গুলো নির্দ্দারিত সময়ের মধ্যে গাছ কেটে নেননি। পরবর্তীতে গাছ কেটে নিলেও লটের টাকা এখনও জমা দেননি। সম্প্রতি এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আব্দুল মজিদ নামের এক ব্যাক্তি অভিযোগ করেন।
একাধিক উপকারভোগীর সাথে কথা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০১৫ সালে গাছ বিক্রি করা হলেও আজ পর্যন্ত টাকা পাইনি। বনবিভাগে গেলে কর্তৃপক্ষ বলেন মুহিবুর রহমান তরফদার আওয়ামীলীগ নেতা। উনি গাছ না কেটে নিলে আমরা টাকা দিতে পারবনা। তারা আরো বলেন, শুরুতে ১৭ জনের নাম থাকলেও পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ বাম হাতের লেনদেনের বিনিময়ে আরোও ৩ জনের নাম কমিটিতে ডোকায়। এ ছাড়া ওই কমিটিতে জীবীত কয়েকজনকে মৃত দেখানো হয় এবং মৃত ব্যাক্তির কোন ওয়ারিশান নেই দেখানো হয়।
এবিষয়ে পরিবেশবীদরা বলেন, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ১ বছরের মধ্যে গাছ কেটে নেয়া হলে আবার ওই জায়গায় গাছ লাগানো যেত। গাছ লাগাতে পারলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি উপকারভোগীরাও অনেক লাভমান হত। কিন্তু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারনে আজ পর্যন্ত ১০টি লটই বিলম্বে কাটা হয় ও রাজস্বের টাকা এখনও জমা হয়নি।
এবিষয়ে বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা চস্পা লাল বৈদ্য বলেন, আমি প্রায় ৪ মাস হয়েছে যোগদান করেছি। মুহিবুর রহমান তরফদারকে এপর্যন্ত ৬টি নোটিশ দিয়েছি। ২৫ লাখ টাকা আদায় করেছি। আশাকরছি আরো কয়েক দিনের মধ্যে লটের প্রাপ্য ৯ লাখ টাকা আদায় হয়ে যাবে। লটের কার্যাদেশ হওয়া গাছ কেটে নেয়ার মেয়াদ কতদিন থাকে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বিভিন্ন মেয়াদে কার্যাদেশ দেয়া হয়। তবে ৫৪টি লটের কার্যাদেশের মেয়াদ ১ বছর ছিল।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com