বোরো ধান কাটা শেষ পর্যায়ে, গোলায় ধান তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা

হোসাইন আহমদ॥ মৌলভীবাজার জেলার ৭ উপজেলায় বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন ধান শুকিয়ে গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাওর পাড়সহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক-কৃষানিরা। তবে আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকার কারনে ধান শুকাতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে তাদের।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর মৌলভীবাজার জেলায় ৫৪ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১৯ হাজার ৩ শত ৬৬ হেক্টর। বাকিটুকু চাষ হয়েছে হাওরপাড়সহ অপেক্ষাকৃত উচু অঞ্চলে। হাওরাঞ্চলের মধ্যে এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া উপজেলা অংশে ৪ হাজার ৫ শত ৮০ হেক্টর, জুড়ী উপজেলায় ৪ হাজার ৯ শত হেক্টর, বড়লেখা উপজেলায় ২ হাজার ৪ শত ৭৫ হেক্টর, রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরে ৩ হাজার ৩শত ৭৩ হেক্টর, কমলগঞ্জ উপজেলার কেউলার হাওরে ৪ শত হেক্টর, শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের ৩ হাজার ৬ শত ৩৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ৭৩ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। হাকালুকি হাওরের প্রায় শতভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। জেলার অন্য তিন বড় হাওরের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি, শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওর ও কমলগঞ্জ উপজেলার কেউলার হাওরে ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে।
সরেজমনি রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরে গেলে দেখা যায়, হাওরের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ধান কাটা প্রায় শেষ। এ সময় হাওর পাড়ের কৃষক মধু মিয়া, বটলাই মিয়া, করিম উদ্দিন এর সাথে কথা হলে তারা বলেন, ধান কাটা আমাদের অনেক আগেই শেষ হতো। কিন্তু শ্রমিক সংকট আর ঝড়-তোফানের কারনে ধান কাটতে সময় বেশি লাগছে। এখন ধান কাটা মোটামুটি শেষ হলেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারনে ধান শুকিয়ে গোলায় তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ধান কাটা শেষ পর্যায়ে। হাওরের ধান প্রায় পুরোপুরি কাটা শেষ হয়েছে। যেটুকু রয়েছে তা অপেক্ষাকৃত উচু অঞ্চলে। এখন আর বন্যা হলেও বোরো ধানের উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। আশা করছি কোনো ক্ষতি ছাড়া চলতি সপ্তাহে শতভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হবে।



মন্তব্য করুন