দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রীর দূর্গত এলাকা পরিদর্শন : পানিবন্ধি মানুষের জানমাল রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব

স্টাফ রিপোর্টার॥ দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী পরির্দশনে এসে মায়া বলেছেন, বন্যা দুর্গত মৌলভীবাজার সহ বৃহত্তর সিলেটের যে সব জায়গায় পানি বন্ধি মানুষ কষ্টে আছেন তাদের জানমাল রক্ষা করা এটি হলো আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। যতো দিন পর্যন্ত বন্যার্তদের দু:খ দুর্দশা ও কষ্ট লাঘব হবে না ততদিন পর্যন্ত এ ত্রাণ দেয়া অব্যাহত থাকবে। আমাদের ত্রাণের কোন অভাব নাই। এলাকার মানুষের যে চাহিদা তার চেয়ে বেশী ত্রাণ দিতে সক্ষম হবো।
সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে প্রশাসনসহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে বৈঠক শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথাগুলো বলেছেন। পরে মন্ত্রী বন্যা দুর্গত এলাকা শহরের বড়হাট ও রাজনগর উপজেলার কদমহাটা এলাকা পরির্দশন করেন এবং দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।
ত্রাণ বিতরণের পূর্বে শহরের বড়হাট এলাকায় বাঁধের উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পৌর মেয়র মোঃ ফজলুর রহমানের সঙাচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক চীপ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুশ শাহীদ, জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আজিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাধাপদ দেব সজল, পৌর কাউন্সিলর জালাল আহমদ, ফয়ছল আহমদ, মাসুদ আহমদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি নাহিদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সুমন প্রমুখ ।
ভারতের উত্তর ত্রিপুরায় উল্লেখ যোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে মনু নদীর বারইকোণাতে প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পৌর এলাকা ও সদর উপজেলার মোস্তফাপুর এবং কনকপুর ইউনিয়নের নি¤œাাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের বড়হাট এলাকায় আটকাপড়া মানুষদের সেনাবাহিনী সহ স্থানীয় জনগন উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রাতের বেলা আকস্মিক এই ভাঙ্গনের ফলে নিজ ঘরে আটকা পরে অনেকে। পানি ঢুকে ঘরের মূল্যবান মালামাল ডুবে নষ্ট হয়েছে। অনেকেই বাড়ির দোতালায় আশ্রয় নিয়েছেন আবার অনেককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে আনা হয়েছে। গতকাল রাতে শহরতলীর মোস্তাফাপুর এলাকায় পানির তোড়ে সোবহান নামের একজন মারা গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে ৮ জন মারা গেছে।
যারা বন্যা কবলিত এলাকার দোতালা বাড়েিত আশ্রয় নিয়ে ছিলেন তারা বিদ্যুৎ , বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটে পড়েছেন। আবার আটকা পড়া অনেকের আত্মীয়স্বজন উদ্ধার করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।
সোমবার দূপুরে শহরের বড়হাট এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে গেলে দেখা যায় বাঁধের উপর ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার পলিথিন দিয়ে তৈরী করা চাউনির মধ্যে রাত্রিযাপন করছেন। আবার অনেকেই খোলা আকাশের নীচে রাত্রিযাপন করছেন। বাঁধে আশ্রয় নেয়া শেলী বেগম, জেবিন আক্তার, বাদশা মিয়া, রহমত আলী জানান ঈদের আগের রাত থেকে তাদের ঘুম নেই কখন বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যায় এই আতঙ্কে। বাঁধ ভাঙ্গার পর আসবাবপত্র ফেলে কোন রকম নিজের প্রান নিয়ে তারা বাঁদে আশ্রয় নেন।
দিকে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের হামরকোনা এলাকায় কুশিয়ার নদীর বাঁধ ভেঙ্গে হামকোনা, ব্রাম্মনগাঁও এবং দাউদপুর এরাকার বাড়ি ঘর ও রাস্থা ঘাট তনিয়ে যায়।
গত কয়েক দিনের অভ্যাহত বন্যায় মনু, কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে ২৫ টি ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দেয়।
মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাটে মনুনদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনও বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপর দিকে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুরে মনু নদীর পানি ও কমলগেঞ্জ ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে জানান, জেলার একটি পৌরসভা ও ৪টি উপজেলায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। এ পর্যন্ত ৬০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। নগদ ১০ লক্ষ টাকা বন্যা আক্রান্ত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে। আরো বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে। দূর্যোগ মোকাবেলা, উদ্ধারকাজ ও অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রাক্ষার্থে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সাভিস কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও সার্বিক তদারকিতে রয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও মৌলভীবাজার পৌরসভা। জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে এ পর্যন্ত ৭জন মারা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, আজ সকাল ৫টায় মনু নদীর পানি মৌলভীবাজার শহরের কাছে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মনু রেলওয়ে ব্রীজের কাছে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ও কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদী বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।



মন্তব্য করুন