মৌলভীবাজারে বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু : পৌরসভা সহ সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত : জেলার তিন উপজেলায় কিছুটা উন্নতি 

June 19, 2018,

এস এম উমেদ আলী॥  উজানে ভারতের উত্তর ত্রিপুরায় উল্লেখ যোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে মনু নদীর বারইকোণাতে প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পৌর এলাকা ও সদর উপজেলার মোস্তফাপুর এবং কনকপুর ইউনিয়নের নি¤œাাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের বড়হাট এলাকায় আটকাপড়া মানুষদের সেনাবাহিনী সহ স্থানীয় জনগন উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রাতের বেলা আকস্মিক এই ভাঙ্গনের ফলে নিজ ঘরে আটকা পরে অনেকে। পানি ঢুকে ঘরের মূল্যবান মালামাল ডুবে নষ্ট হয়েছে। অনেকেই বাড়ির দোতালায় আশ্রয় নিয়েছেন আবার অনেককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে আনা হয়েছে। গতকাল রাতে শহরের উত্তর মোস্তাফাপুর এলাকায় পানির তোড়ে সোবহান নামের একজন মারা গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে ৮ জন মারা গেছে।

গত কয়েক দিনের অভ্যাহত বন্যায় মনু ও ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে ২৫ টি ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দেয়।

মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাটে মনুনদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনও বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  অপর দিকে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুরে মনু নদীর পানি ও কমলগেঞ্জ ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দূর্যোগ মোকাবেলা, উদ্ধারকাজ ও অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রাক্ষার্থে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সাভিস কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও সার্বিক তদারকিতে রয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও মৌলভীবাজার পৌরসভা।

জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে জানান, জেলার একটি পৌরসভা ও ৪টি উপজেলায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। এ পর্যন্ত ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। নগদ ১০ লক্ষ টাকা বন্যা আক্রান্ত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে এ পর্যন্ত ৭জন মারা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, আজ সকাল ১০টায় মনু নদীর পানি মৌলভীবাজার শহরের কাছে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে ৯৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মনু রেলওয়ে ব্রীজের কাছে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ও কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদী বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com