দূর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার, ত্রান বিতরণ অব্যাহত

আব্দুল কাইয়ুম॥ মৌলভীবাজারের বন্যা দুর্গত এলাকা সমূহে বন্যার পানি কমতে শুরু করার সাথে সাথে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সেই সাথে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য তীব্র সঙ্কট দেখা দেয়ায় পানিবাহিত রুগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এসব এলাকায় শুকনো খাবার, চাল ডাল সহ বিভিন্ন ত্রান সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার ২০ জুন পৌর এলাকা ও সদর উপজেলার বন্যা আক্রান্ত এলাকা সমূহ সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যাক্তি উদ্যেগে ত্রান সামগ্রী বানবাসী মানুষের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। তবে এসব এলাকায় সরকারী উদ্যেগে কোন তৎপরতা চোখে পরেনি। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যেগে বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ করতেও দেখা য্ায়। শহরের বড়হাট ,বারইকোনা এলাকায় ক্রীড়া সংগঠক মোস্তফা শাহরিয়ার তানিম এর উদ্যেগে পিকআপ ভ্যানে করে পানি বিতরণ করতে দেখা গেছে। মোস্তফাপুর ইউনিয়ন, আমতৈল ইউনিয়ন, কনকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্ব স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগন ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেছেন বন্যায় আক্রান্তদের সাহায্যার্তে।
এদিকে মৌলভীবাজার শহর ও সদর উপজেলার আশপাশের বন্যা দুর্গত এলাকা সমুহে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট বিরাজ করার পাশাপাশি এসব এলাকায় গত চারদিন যাবত নেই বিদ্যুৎ,তবে চারদিন দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকলেও মঙ্গলবার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া শুরু হয়েছে বলে পিডিবি সূত্রে জানা গেছে। যেসব বাসাবাড়িতে টিবওয়েল রয়েছে সেগুলোও বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পানি সংগ্রহ করতে পারছেননা কেউ। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পানি সংগ্রহ করা বেশ দূরুহ ব্যাপার। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় শহরের বড়হাট, জুগিডর, বারইকোনা, হিলালপুর, ধরকাপন, মোস্তফাপুর, পাগুলিয়া ও সদর উপজেলার পতন , শাহবন্দর , দজবালী , বাহারমর্দান, খিদুর গ্রাম সমূহে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য হাহাকার চলছে। অনেকে নিজ বাসা বাড়ির সামনে দাঁিড়য়ে পানির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বন্যায় আক্রান্তরা সরকারি সর্বরাহকৃত পানি বিশুদ্ধকরন টেবলেট না পাওয়ায় বানের পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফেলায় ডায়রিয়া সহ পানিবাহিত রুগ দ্রুত ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: পলাশ রায় জানান, ডায়রিয়া আক্রান্তরা ভর্তি হতে শুরু করেছেন, পানি টান দিলে এর সংখ্যা আগামী কাল থেকে বাড়তে থাকবে। তিনি জানান, বন্যায় আক্রান্তদের সেব্য়া ও পানিবাহিত রুগ সহ দূর্যোগ মোকাবেলায় ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আমাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বন্যায় ৫ উপজেলার ৩০ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মোট ৪০ হাজার ২০০ পরিবার বন্যায় ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে ।
এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন নগদ ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৭শ ৪৩ মেট্রিকটঁন চাল বরাদ্ধ করেছে। মজুদ আছে ১ হাজার ৩৭ মেট্রিকঁন চাউল।



মন্তব্য করুন